ঢাকা ০৬:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সড়কে নজরদারির নতুন চোখ, আরও ৫০ পয়েন্টে বসছে এআই ক্যামেরা স্থানীয় সরকার ভোটে দলীয় প্রতীক নয়, নির্দলীয় মাঠ চায় জামায়াত-এনসিপি সরকারের সমালোচনা করতেই হবে, তবে ভাষায় সংযম চান আইনমন্ত্রী গ্যাস আমদানির নামে অর্থ লুটপাট করা হয়েছে: প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব এক সাংবাদিকের না-বলা কষ্ট নিউইয়র্কে নোয়াখালীর যুবককে গুলি করে হত্যা   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন ২০ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তারেক রহমান, জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগদান একই ঘরে চার লাশ, তবু রয়ে গেছে প্রশ্ন—রংপুরের গণপতি পরিবারের হত্যার নেপথ্যে কী? সংবিধান মেনেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন, অতীতের মতো নির্বাচন হবে না

চুল পড়া ঠেকাতে পেঁয়াজ, মেথি বা কালোজিরার তেল কি সত্যিই কার্যকর?

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চুল পড়া বন্ধ করতে পেঁয়াজের রস, মেথি, কালোজিরা, জবা ফুল কিংবা অ্যালোভেরা দিয়ে তৈরি তেল বা হেয়ার প্যাক—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অসংখ্য পরামর্শ ও বিজ্ঞাপন দেখা যায়। অনেকেই দাবি করেন, এসব প্রাকৃতিক উপাদান নতুন চুল গজায় এবং স্থায়ীভাবে চুল পড়া কমায়। কিন্তু বাস্তবে এসব দাবির পক্ষে কতটা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত ধারণা আর বৈজ্ঞানিক সত্য এক নয়।

কেন চুল পড়ে?

চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে এর চেয়ে বেশি চুল ঝরতে থাকলে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

চুল পড়ার সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • বংশগত বা জেনেটিক সমস্যা
  • মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
  • হরমোনের পরিবর্তন
  • আয়রন বা অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি
  • মাথার ত্বকে ফাঙ্গাস বা সংক্রমণ
  • দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা
  • কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • ক্যানসারের চিকিৎসা বা দ্রুত ওজন কমে যাওয়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার ধরন বুঝে চিকিৎসা না নিলে স্থায়ীভাবে হেয়ার ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পেঁয়াজ, মেথি ও কালোজিরা কি সত্যিই চুল গজায়?

নর্দার্ন ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাসনীম খাঁনের ভাষ্য, পেঁয়াজের রস, মেথি, জবা ফুল, আমলকি কিংবা কালোজিরার মতো উপাদানে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান থাকলেও এগুলো নতুন চুল গজানো বা নিশ্চিতভাবে চুল পড়া বন্ধ করে—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।

তার মতে, এসব উপাদান মাথার ত্বকের পরিবেশ কিছুটা ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে এগুলোকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

রোজমেরি তেলে কিছু ইতিবাচক ফল মিলেছে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন হারবাল উপাদানের মধ্যে রোজমেরি তেল নিয়ে কিছু গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তবে সেটিও সব ধরনের চুল পড়ার ক্ষেত্রে সমান কার্যকর—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

হেয়ার ফলিকল নষ্ট হলে নতুন চুল গজানো কঠিন

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মাথায় নির্দিষ্ট সংখ্যক হেয়ার ফলিকল থাকে। এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন ফলিকল তৈরি হয় না। তাই চুল পড়া শুরু হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই চিকিৎসা না নিয়ে দীর্ঘদিন ঘরোয়া উপায়ে সময় নষ্ট করেন। এতে সমস্যা আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।

তেল ব্যবহার করলে কী উপকার হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথার ত্বকে হালকা ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন কিছুটা বাড়তে পারে। এর ফলে হেয়ার ফলিকলে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ কিছুটা উন্নত হয়। তবে এটিকে নতুন চুল গজানোর নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না।

এসব উপাদান মাখার চেয়ে খাওয়া বেশি উপকারী

চিকিৎসকদের মতে, আমলকি, মেথি, অ্যালোভেরা, পেঁয়াজ, রসুন, তুলসীসহ অনেক প্রাকৃতিক খাদ্য ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এগুলো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে শরীর ও চুলের জন্য বেশি উপকারী হতে পারে।

ডার্মাটোলজিস্ট ডা. আসিফ ইমরান সিদ্দিকী বলেন, ডিম মাথায় মাখলে যেমন শরীর সেই প্রোটিন গ্রহণ করতে পারে না, তেমনি অনেক হারবাল উপাদানও মাথায় লাগানোর চেয়ে খাবার হিসেবে গ্রহণ করাই বেশি উপকারী।

সবাই কি তেল ব্যবহার করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর ‘না’।

যাদের মাথার ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত, তারা নিয়মিত তেল ব্যবহার করলে খুশকি, স্কাল্পের প্রদাহ কিংবা চুল পাতলা হওয়ার সমস্যা বাড়তে পারে। অন্যদিকে যাদের চুল খুব শুষ্ক বা কোঁকড়ানো, তারা চুলের গোড়ায় নয়, চুলের অংশে অল্প পরিমাণ তেল ব্যবহার করলে কিছুটা উপকার পেতে পারেন।

অনলাইনের চটকদার বিজ্ঞাপনে সতর্কতা

চিকিৎসকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি হওয়া অনেক হেয়ার অয়েল বা হেয়ার প্যাকের উপাদান, সংরক্ষণ পদ্ধতি কিংবা কার্যকারিতা যাচাই করা থাকে না। তাই শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন দেখে এসব পণ্য ব্যবহার না করে প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

উপসংহার

পেঁয়াজ, মেথি, কালোজিরা কিংবা জবা ফুলের মতো প্রাকৃতিক উপাদান মাথার ত্বকের কিছু উপকার করতে পারে। তবে এগুলো নতুন চুল গজাবে বা স্থায়ীভাবে চুল পড়া বন্ধ করবে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো মেলেনি। চুল অস্বাভাবিকভাবে পড়তে শুরু করলে ঘরোয়া উপায়ে দীর্ঘদিন সময় নষ্ট না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চুল পড়া ঠেকাতে পেঁয়াজ, মেথি বা কালোজিরার তেল কি সত্যিই কার্যকর?

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

চুল পড়া বন্ধ করতে পেঁয়াজের রস, মেথি, কালোজিরা, জবা ফুল কিংবা অ্যালোভেরা দিয়ে তৈরি তেল বা হেয়ার প্যাক—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন অসংখ্য পরামর্শ ও বিজ্ঞাপন দেখা যায়। অনেকেই দাবি করেন, এসব প্রাকৃতিক উপাদান নতুন চুল গজায় এবং স্থায়ীভাবে চুল পড়া কমায়। কিন্তু বাস্তবে এসব দাবির পক্ষে কতটা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রচলিত ধারণা আর বৈজ্ঞানিক সত্য এক নয়।

কেন চুল পড়ে?

চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে এর চেয়ে বেশি চুল ঝরতে থাকলে কারণ খুঁজে বের করা জরুরি।

চুল পড়ার সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

  • বংশগত বা জেনেটিক সমস্যা
  • মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
  • হরমোনের পরিবর্তন
  • আয়রন বা অন্যান্য পুষ্টির ঘাটতি
  • মাথার ত্বকে ফাঙ্গাস বা সংক্রমণ
  • দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা
  • কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
  • ক্যানসারের চিকিৎসা বা দ্রুত ওজন কমে যাওয়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, সমস্যার ধরন বুঝে চিকিৎসা না নিলে স্থায়ীভাবে হেয়ার ফলিকল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পেঁয়াজ, মেথি ও কালোজিরা কি সত্যিই চুল গজায়?

নর্দার্ন ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাসনীম খাঁনের ভাষ্য, পেঁয়াজের রস, মেথি, জবা ফুল, আমলকি কিংবা কালোজিরার মতো উপাদানে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান থাকলেও এগুলো নতুন চুল গজানো বা নিশ্চিতভাবে চুল পড়া বন্ধ করে—এমন শক্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো নেই।

তার মতে, এসব উপাদান মাথার ত্বকের পরিবেশ কিছুটা ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে এগুলোকে চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

রোজমেরি তেলে কিছু ইতিবাচক ফল মিলেছে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন হারবাল উপাদানের মধ্যে রোজমেরি তেল নিয়ে কিছু গবেষণায় ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। তবে সেটিও সব ধরনের চুল পড়ার ক্ষেত্রে সমান কার্যকর—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

হেয়ার ফলিকল নষ্ট হলে নতুন চুল গজানো কঠিন

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মাথায় নির্দিষ্ট সংখ্যক হেয়ার ফলিকল থাকে। এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে নতুন ফলিকল তৈরি হয় না। তাই চুল পড়া শুরু হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

অনেকেই চিকিৎসা না নিয়ে দীর্ঘদিন ঘরোয়া উপায়ে সময় নষ্ট করেন। এতে সমস্যা আরও জটিল হয়ে যেতে পারে।

তেল ব্যবহার করলে কী উপকার হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথার ত্বকে হালকা ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালন কিছুটা বাড়তে পারে। এর ফলে হেয়ার ফলিকলে পুষ্টি ও অক্সিজেন সরবরাহ কিছুটা উন্নত হয়। তবে এটিকে নতুন চুল গজানোর নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যাবে না।

এসব উপাদান মাখার চেয়ে খাওয়া বেশি উপকারী

চিকিৎসকদের মতে, আমলকি, মেথি, অ্যালোভেরা, পেঁয়াজ, রসুন, তুলসীসহ অনেক প্রাকৃতিক খাদ্য ভিটামিন, মিনারেল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। এগুলো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে শরীর ও চুলের জন্য বেশি উপকারী হতে পারে।

ডার্মাটোলজিস্ট ডা. আসিফ ইমরান সিদ্দিকী বলেন, ডিম মাথায় মাখলে যেমন শরীর সেই প্রোটিন গ্রহণ করতে পারে না, তেমনি অনেক হারবাল উপাদানও মাথায় লাগানোর চেয়ে খাবার হিসেবে গ্রহণ করাই বেশি উপকারী।

সবাই কি তেল ব্যবহার করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর উত্তর ‘না’।

যাদের মাথার ত্বক অতিরিক্ত তৈলাক্ত, তারা নিয়মিত তেল ব্যবহার করলে খুশকি, স্কাল্পের প্রদাহ কিংবা চুল পাতলা হওয়ার সমস্যা বাড়তে পারে। অন্যদিকে যাদের চুল খুব শুষ্ক বা কোঁকড়ানো, তারা চুলের গোড়ায় নয়, চুলের অংশে অল্প পরিমাণ তেল ব্যবহার করলে কিছুটা উপকার পেতে পারেন।

অনলাইনের চটকদার বিজ্ঞাপনে সতর্কতা

চিকিৎসকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রি হওয়া অনেক হেয়ার অয়েল বা হেয়ার প্যাকের উপাদান, সংরক্ষণ পদ্ধতি কিংবা কার্যকারিতা যাচাই করা থাকে না। তাই শুধুমাত্র বিজ্ঞাপন দেখে এসব পণ্য ব্যবহার না করে প্রয়োজনে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

উপসংহার

পেঁয়াজ, মেথি, কালোজিরা কিংবা জবা ফুলের মতো প্রাকৃতিক উপাদান মাথার ত্বকের কিছু উপকার করতে পারে। তবে এগুলো নতুন চুল গজাবে বা স্থায়ীভাবে চুল পড়া বন্ধ করবে—এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো মেলেনি। চুল অস্বাভাবিকভাবে পড়তে শুরু করলে ঘরোয়া উপায়ে দীর্ঘদিন সময় নষ্ট না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।