জন্মের পরই তৈরি হবে ডিজিটাল আইডি, এক পরিচয়েই সব সরকারি সেবা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিটি শিশুর নামে তৈরি হবে একটি ‘ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি’। এই একক পরিচয়ের আওতায় জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন নাগরিকের সব সরকারি তথ্য ও সেবা যুক্ত থাকবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগের আওতায় এই ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো নাগরিকদের জন্য একটি একক ডিজিটাল পরিচয় তৈরি করা, যাতে আলাদা আলাদা আইডি ব্যবহার বা বিভিন্ন দপ্তরে বারবার তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন না হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, ভূমি সেবা, বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। একজন নাগরিক একটি মাত্র ডিজিটাল আইডি ব্যবহার করেই সরকারি বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি এখনো ধারণাপত্র বা কনসেপ্ট পেপার পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের পর এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আইসিটি বিভাগের যুগ্মসচিব মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ওয়ান আইডি, ওয়ান ডিজিটাল ওয়ালেট’ উদ্যোগটি এখন প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। একটি কনসেপ্ট পেপার তৈরি হয়েছে এবং সেটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট ও স্বাস্থ্য তথ্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে একজন নাগরিক একটিমাত্র আইডি ব্যবহার করে সরকারি সেবা নিতে পারবেন।
জন্মের পরই স্থায়ী পরিচয়
পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে কোনো শিশুর জন্ম হলে তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে। বাবা-মায়ের এনআইডি তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য তৈরি হবে স্থায়ী ডিজিটাল আইডি।
বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুর জন্যও আলাদা প্রক্রিয়ায় এই আইডি তৈরির ব্যবস্থা থাকবে। পরবর্তীতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পাসপোর্ট, এনআইডিসহ সব সরকারি সেবায় একই আইডি ব্যবহার করা যাবে।
নাগরিকের অনুমতি ছাড়া তথ্য শেয়ার নয়
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সব তথ্য একটি প্ল্যাটফর্মে থাকলেও নাগরিকের অনুমতি ছাড়া কোনো তথ্য অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না।
ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করে এ ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী নাগরিকের সম্মতির ভিত্তিতে নির্দিষ্ট তথ্যই ব্যবহার করা যাবে।
থাকবে ডিজিটাল আইডি ওয়ালেট
পরিকল্পনায় প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি স্মার্টফোনভিত্তিক ডিজিটাল ওয়ালেট রাখার কথা বলা হয়েছে। এতে পরিচয়পত্র, ডিজিটাল সনদ ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা যাবে।
তবে এটি আপাতত আর্থিক লেনদেনের ওয়ালেট নয়, বরং ডিজিটাল পরিচয় ও নথি সংরক্ষণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের মডেল পর্যালোচনা
নিরাপত্তা কাঠামো তৈরিতে এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
উদ্যোগটি বিশ্বব্যাংক সমর্থিত ‘ডি-স্টার’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত একজন নাগরিকের সব সরকারি পরিচয় ও সেবাকে একটি ডিজিটাল পরিচয়ের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
সরকারের আশা, এ ব্যবস্থা চালু হলে সরকারি সেবা গ্রহণ আরও সহজ, দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত হবে।


















