ঢাকা ০১:৩৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

১২০ কিলোমিটারে লাইফগার্ড মাত্র ২ কিলোমিটারজুড়ে

সৈকতে নিরাপত্তার ঘাটতি, বাড়ছে প্রাণহানি

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৩৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি


বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের সমাগম হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রয়ে গেছে বড় ধরনের ঘাটতি। ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের মধ্যে মাত্র ২ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে লাইফগার্ড সেবা। বাকি অংশে নেই পর্যাপ্ত উদ্ধারকর্মী, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা নিরাপত্তা পতাকা। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সমুদ্রে নামা পর্যটকদের মধ্যে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যাপ্ত নজরদারি ও আধুনিক উদ্ধার ব্যবস্থার অভাবে কক্সবাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে বারবার নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

ইনানী, পাতুয়ারটেক, ইনানী জেটিসহ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলোতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করলেও এসব এলাকায় নেই লাইফগার্ডের নিয়মিত উপস্থিতি। নেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করার ব্যবস্থা। ফলে সমুদ্রের আচরণ সম্পর্কে ধারণা না থাকা পর্যটকরা সহজেই বিপদের মুখে পড়ছেন।

পর্যটকদের অভিযোগ, কোথায় নামা নিরাপদ, কোথায় স্রোত বেশি কিংবা কখন জোয়ার-ভাটার কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়—এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত নির্দেশনা নেই।

ইনানী সৈকতে আসা পর্যটক শফিউল আলম বলেন, কক্সবাজার শহরের কিছু এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা দেখা গেলেও ইনানী সৈকতে তেমন কোনো সাইনবোর্ড বা নিরাপত্তা নির্দেশনা চোখে পড়ে না। পর্যটকদের নিরাপত্তায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আরেক পর্যটক তারিকুল ইসলাম বলেন, সৈকতে লাল-হলুদ সতর্কতামূলক পতাকা বা উদ্ধারকর্মীর উপস্থিতি না থাকায় অনেকেই ঝুঁকি বুঝতে পারেন না।

পর্যটন ব্যবসায়ীরাও বলছেন, পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও সেই তুলনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়েনি। ইনানীর পর্যটন ব্যবসায়ী সিয়াম আহমেদ বলেন, ২০০ থেকে ৩০০ মিটার পরপর বিচকর্মী বা লাইফগার্ড থাকলে দুর্ঘটনা অনেক কমানো সম্ভব।

তিনি বলেন, বিশেষ করে ছুটির দিনে বিপুল পর্যটকের চাপ সামলাতে বর্তমান উদ্ধার ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।

সি-সেফ লাইফগার্ড সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী এলাকার কিছু অংশে সীমিত পরিসরে লাইফগার্ড দায়িত্ব পালন করছে। তবে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের তুলনায় এ ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল।

সংস্থাটির সুপারভাইজার মো. ওসমান গনি বলেন, তাদের কাছে রেসকিউ টিউব ও রেসকিউ বোর্ডের মতো সীমিত সরঞ্জাম রয়েছে। কিন্তু পুরো সৈকতে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফগার্ড ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ নয়, পর্যটকদেরও সচেতন হতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না নামা এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চললে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

ইনানী ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান জানান, পর্যটকদের সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিং করা হয়। তবে সৈকতের বিশাল বিস্তৃতির কারণে সব জায়গায় সার্বক্ষণিক নজরদারি সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত রেসকিউ টিম থাকলে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হবে এবং প্রাণহানি কমবে।

সি-সেফ লাইফগার্ড সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত ১২ বছরে কক্সবাজার সৈকতে পানিতে নেমে মারা গেছেন ৭৬ জন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ২৪ জনকে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দুই পর্যটক।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দাবি, কক্সবাজারকে নিরাপদ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে দ্রুত বাড়াতে হবে লাইফগার্ড, উদ্ধার সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা অবকাঠামো।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

১২০ কিলোমিটারে লাইফগার্ড মাত্র ২ কিলোমিটারজুড়ে

সৈকতে নিরাপত্তার ঘাটতি, বাড়ছে প্রাণহানি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৩৪:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬


বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত কক্সবাজারে প্রতিদিন হাজারো পর্যটকের সমাগম হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রয়ে গেছে বড় ধরনের ঘাটতি। ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের মধ্যে মাত্র ২ কিলোমিটার এলাকায় রয়েছে লাইফগার্ড সেবা। বাকি অংশে নেই পর্যাপ্ত উদ্ধারকর্মী, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা নিরাপত্তা পতাকা। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সমুদ্রে নামা পর্যটকদের মধ্যে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের মতে, পর্যাপ্ত নজরদারি ও আধুনিক উদ্ধার ব্যবস্থার অভাবে কক্সবাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে বারবার নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।

ইনানী, পাতুয়ারটেক, ইনানী জেটিসহ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন জনপ্রিয় পর্যটন স্পটগুলোতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করলেও এসব এলাকায় নেই লাইফগার্ডের নিয়মিত উপস্থিতি। নেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করার ব্যবস্থা। ফলে সমুদ্রের আচরণ সম্পর্কে ধারণা না থাকা পর্যটকরা সহজেই বিপদের মুখে পড়ছেন।

পর্যটকদের অভিযোগ, কোথায় নামা নিরাপদ, কোথায় স্রোত বেশি কিংবা কখন জোয়ার-ভাটার কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়—এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত নির্দেশনা নেই।

ইনানী সৈকতে আসা পর্যটক শফিউল আলম বলেন, কক্সবাজার শহরের কিছু এলাকায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা দেখা গেলেও ইনানী সৈকতে তেমন কোনো সাইনবোর্ড বা নিরাপত্তা নির্দেশনা চোখে পড়ে না। পর্যটকদের নিরাপত্তায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আরেক পর্যটক তারিকুল ইসলাম বলেন, সৈকতে লাল-হলুদ সতর্কতামূলক পতাকা বা উদ্ধারকর্মীর উপস্থিতি না থাকায় অনেকেই ঝুঁকি বুঝতে পারেন না।

পর্যটন ব্যবসায়ীরাও বলছেন, পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও সেই তুলনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়েনি। ইনানীর পর্যটন ব্যবসায়ী সিয়াম আহমেদ বলেন, ২০০ থেকে ৩০০ মিটার পরপর বিচকর্মী বা লাইফগার্ড থাকলে দুর্ঘটনা অনেক কমানো সম্ভব।

তিনি বলেন, বিশেষ করে ছুটির দিনে বিপুল পর্যটকের চাপ সামলাতে বর্তমান উদ্ধার ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।

সি-সেফ লাইফগার্ড সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী এলাকার কিছু অংশে সীমিত পরিসরে লাইফগার্ড দায়িত্ব পালন করছে। তবে ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের তুলনায় এ ব্যবস্থা খুবই অপ্রতুল।

সংস্থাটির সুপারভাইজার মো. ওসমান গনি বলেন, তাদের কাছে রেসকিউ টিউব ও রেসকিউ বোর্ডের মতো সীমিত সরঞ্জাম রয়েছে। কিন্তু পুরো সৈকতে পর্যাপ্ত সংখ্যক লাইফগার্ড ও আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জাম প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ নয়, পর্যটকদেরও সচেতন হতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না নামা এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চললে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

ইনানী ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক গাজী আতাউর রহমান জানান, পর্যটকদের সচেতন করতে নিয়মিত মাইকিং করা হয়। তবে সৈকতের বিশাল বিস্তৃতির কারণে সব জায়গায় সার্বক্ষণিক নজরদারি সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত রেসকিউ টিম থাকলে জরুরি মুহূর্তে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালানো সম্ভব হবে এবং প্রাণহানি কমবে।

সি-সেফ লাইফগার্ড সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, গত ১২ বছরে কক্সবাজার সৈকতে পানিতে নেমে মারা গেছেন ৭৬ জন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১ হাজার ২৪ জনকে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দুই পর্যটক।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের দাবি, কক্সবাজারকে নিরাপদ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হলে দ্রুত বাড়াতে হবে লাইফগার্ড, উদ্ধার সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা অবকাঠামো।