আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের রেশ সংসদে
এখন কি বলতে পারব উনি ঋণখেলাপি ছিলেন?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৩০:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
ঋণখেলাপির অভিযোগে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি জাতীয় সংসদেও আলোচনায় এসেছে। ভোটে জয়ী হওয়ার পর উচ্চ আদালতের রায়ে তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় সংসদে প্রশ্ন উঠেছে—এখন তাকে ঋণখেলাপি বলা যাবে কি না।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নাজিবুর রহমান এ প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বলেন, কয়েক দিন আগে সংসদে একজন সদস্য জানতে চেয়েছিলেন, এই সংসদে কোনো ঋণখেলাপি সদস্য আছেন কি না। তখন বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় স্পিকার মন্তব্য করেননি। কিন্তু এখন আদালতের রায়ে একজনের প্রার্থিতা ঋণখেলাপির কারণে বাতিল হয়েছে। তাই তাকে ঋণখেলাপি বলা যাবে কি না—এ বিষয়ে স্পষ্টতা প্রয়োজন।
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এটি পয়েন্ট অব অর্ডারের বিষয় নয়। কোনো সদস্যের সদস্যপদ থাকবে কি না, সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। আদালতের আদেশের আলোকে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়ার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আগে সংসদে বলা হয়েছিল—এই সংসদে কোনো ঋণখেলাপি সদস্য নেই, তবে ঋণগ্রস্ত সদস্য থাকতে পারেন। তিনি বলেন, আদালত রায় দিলেও আসলাম চৌধুরী এখনো সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তিনি সংসদ সদস্য নন; তার প্রার্থিতা নিয়েই আদালত সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।
স্পিকারও বলেন, আসলাম চৌধুরী সংসদ সদস্য নন—স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ব্যাখ্যা সঠিক।
আপিল বিভাগের রায়ে প্রার্থিতা বাতিল
এর আগে মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ঋণখেলাপির অভিযোগে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেন।
এর ফলে চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পথ বন্ধ হয়ে যায় এবং তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন না। একই সঙ্গে ওই আসনে নতুন করে নির্বাচনের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
আদালত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকীর করা আপিল মঞ্জুর করে এ সিদ্ধান্ত দেন।
আইনি লড়াইয়ের ধারাবাহিকতা
নির্বাচনের আগে রিটার্নিং কর্মকর্তা আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। পরে ঋণখেলাপির অভিযোগ তুলে জামায়াত প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিকী ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নির্বাচন কমিশনে আপিল করে।
নির্বাচন কমিশন সেই আপিল খারিজ করে তার প্রার্থিতা বহাল রাখে। এরপর বিষয়টি গড়ায় হাইকোর্টে। হাইকোর্টও তার প্রার্থিতা বহাল রাখেন।
তবে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন আনোয়ার সিদ্দিকী। পরে আপিল বিভাগ বিষয়টি শুনানির জন্য গ্রহণ করে জানায়, আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন, তবে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না।
নির্বাচনে তিনি প্রায় ৫৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পান। কিন্তু আদালতের নির্দেশনায় গেজেট প্রকাশ স্থগিত থাকায় তিনি শপথ নিতে পারেননি।
হতে পারে নতুন নির্বাচন
রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, চট্টগ্রাম-৪ আসনে নতুন করে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ওই আসনের ভোটাররা আবারও ভোট দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।










