অনলাইন জুয়া বন্ধে কঠোর আইন, ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩৯:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’। নতুন এই আইনের মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের পুরোনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ বাতিল করা হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং ও ডিজিটাল আর্থিক অপরাধ মোকাবিলায় নতুন আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।
এর আগে গত ২৩ জুন বিলটি সংসদে উত্থাপনের পর পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিলটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেড় শতাব্দীর বেশি পুরোনো আইন বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার ধরন মোকাবিলায় আর কার্যকর নয়। তাই অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়া, ভুয়া সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ভিপিএন ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধে নতুন আইন করা হয়েছে।
নতুন আইনে অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভিপিএন, মিরর সাইট, ভুয়া সিম ও ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টসহ ২৪টি বিষয়ের সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইনে ১৪ ধরনের অপরাধের জন্য কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
সাধারণ জুয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে।
অনলাইন বেটিং এবং বুকমেকিংয়ের মতো অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিংয়ে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
এছাড়া জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, স্পন্সরশিপ বা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে প্রচারে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে।
ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস বা ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা করলে সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনার ক্ষেত্রেও কঠোর শাস্তি থাকবে। সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এসব অপরাধ করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা হতে পারে।
আইনে ব্যাংক হিসাব, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেন বা বৈধ করার চেষ্টা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ, ব্যাংক হিসাব, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিমসহ সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে।
আইন অনুযায়ী অনলাইন জুয়া ও বেটিং-সংক্রান্ত মামলার বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে। এসব অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য ও আপস অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে।
এছাড়া জনস্বার্থে সরকার জুয়া বা বেটিং সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন, আইপি অ্যাড্রেস, ইউআরএল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, গ্রুপ বা চ্যানেল বন্ধ করার ক্ষমতা পাবে।
সরকারের আশা, নতুন আইন কার্যকর হলে প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল প্রতারণা ও অর্থপাচার ঠেকাতে আরও কার্যকর আইনি কাঠামো তৈরি হবে।




















