মার্চে চালু হচ্ছে মেট্রো রেলে কমলাপুর স্টেশন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর মেট্রো রেলে যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকায় সেবার সময় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। একই সঙ্গে আগামী বছরের মার্চে কমলাপুর মেট্রো স্টেশন চালুর প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।
ডিএমটিসিএল কর্মকর্তাদের ধারণা, কমলাপুর স্টেশন চালু হলে মেট্রো রেলের দৈনিক যাত্রীসংখ্যা অন্তত ২০ শতাংশ বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি ধাপে ধাপে চলাচলের সময় বাড়িয়ে যাত্রীসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডিএমটিসিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে মেট্রো রেলে প্রতিদিন গড়ে ৪ লাখ ১০ হাজার যাত্রী চলাচল করছেন। গত ৭ জুন রাতে মেট্রোর সেবা ২০ মিনিট বাড়ানোর আগে দৈনিক যাত্রী ছিল প্রায় ৪ লাখ। সময় বাড়ানোর পর নতুন করে প্রায় ১০ হাজার যাত্রী যুক্ত হয়েছেন। কোনো কোনো দিনে যাত্রী সংখ্যা ৪ লাখ ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে।
ডিএমটিসিএলের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) নজরুল ইসলাম জানান, মেট্রোর সময় বাড়ানোর বিষয়টি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কারণ রাতে চলাচল বন্ধ হওয়ার পর ট্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ, ডিপোতে পরীক্ষা এবং পরদিনের ট্রায়াল রান সম্পন্ন করতে হয়। তাই সব দিক বিবেচনা করেই সময় বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, কমলাপুর স্টেশন চালু হলে সেবার পরিধি আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১২ সেট ট্রেন চলাচল করছে। ভবিষ্যতে সময় বাড়ানো হলে একসঙ্গে ১৪ সেট ট্রেন পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে ডিএমটিসিএলের।
যাত্রীদের দাবি সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সেবা
নিয়মিত যাত্রীরা বলছেন, রাজধানীর মানুষের চাহিদা বিবেচনায় মেট্রো রেল সকাল ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চালু রাখা প্রয়োজন।
মিরপুরের বাসিন্দারা জানান, কমলাপুর রেলস্টেশনের সঙ্গে মেট্রোর সংযোগ তৈরি হলে আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রীরাও উপকৃত হবেন। তবে সকালে দ্রুত গন্তব্যে যেতে মেট্রোর সময় আরও এগিয়ে আনার দাবি রয়েছে।
অফিসগামী যাত্রীদের অনেকেই বলছেন, কর্মদিবসে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মেট্রোর চাহিদা থাকে। পাশাপাশি শুক্রবারও সকাল থেকে সেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
৮৫ শতাংশ কাজ শেষ কমলাপুর স্টেশনের
এমআরটি লাইন-৬-এর তৃতীয় ধাপে মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রো সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ চলছে। ডিএমটিসিএল জানিয়েছে, প্রকল্পের প্রায় ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
আগামী বছরের মার্চে কমলাপুর স্টেশন চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ এগিয়ে চলছে। এর আগে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ট্রায়াল রান শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিএমটিসিএল কর্মকর্তারা বলছেন, উত্তরা-মতিঝিল অংশে দৈনিক ৫ লাখ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। কমলাপুর স্টেশন চালু হলে দেশের সবচেয়ে বড় রেলস্টেশনের সঙ্গে মেট্রোর সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হবে। এতে কমলাপুর, গোপীবাগ, মান্ডা ও আশপাশের এলাকার নতুন যাত্রী যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রীদের একটি অংশও মেট্রো ব্যবহারে আগ্রহী হবেন।
নগর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কমলাপুর স্টেশন চালুর পাশাপাশি মেট্রো সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চালু করা গেলে যাত্রীসংখ্যা আরও বাড়তে পারে।


















