অর্থনীতিতে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:২০:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদের মুদ্রানীতিতে নীতিগত সুদের হার (রেপো রেট) ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়ানো এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরাতে ৬০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতি এখনও নিয়ন্ত্রণের কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না আসায় সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অব্যাহত থাকবে। এ কারণে পলিসি রেট ১০ শতাংশ, স্ট্যান্ডিং লেন্ডিং ফ্যাসিলিটি ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি ১১ দশমিক ৭ শতাংশে উঠেছিল। পরে ধীরে ধীরে কমে ২০২৬ সালের মে মাসে তা ৯ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে এটি এখনও সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। সরকারের লক্ষ্য আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে রাখা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা।
কমেছে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, উচ্চ সুদের হার, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং সরকারি ঋণ গ্রহণের কারণে ব্যাংকগুলো ঝুঁকিমুক্ত সরকারি সিকিউরিটিজে বেশি বিনিয়োগ করছে। ফলে ২০২৬ সালের মে মাস শেষে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে শিল্প, কৃষি এবং কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (সিএমএসএমই) খাতে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
আসছে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল
ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংকিং খাতের অতিরিক্ত তারল্য থেকে। বাকি ১৯ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশা, এই অর্থায়নের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শিল্প উৎপাদনে নতুন গতি ফিরবে।
বাজারভিত্তিক থাকবে ডলারের বিনিময় হার
মুদ্রানীতিতে বৈদেশিক খাত শক্তিশালী করতে নমনীয় ও বাজারভিত্তিক বিনিময় হার ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। এতে রপ্তানি সক্ষমতা বাড়বে এবং প্রবাসী আয় প্রবাহ উৎসাহিত হবে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
ব্যাংক খাতে বড় সংস্কারের পরিকল্পনা
ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা কাটাতে একাধিক সংস্কার উদ্যোগের কথাও জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ব্যাংক রেজল্যুশন আইন-২০২৬ বাস্তবায়ন, ডিপোজিট প্রোটেকশন আইন-২০২৬ কার্যকর করা, IFRS-9 অনুযায়ী Expected Credit Loss (ECL) পদ্ধতি চালু, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি জোরদার এবং খেলাপি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নতুন আইন প্রণয়ন।
এ ছাড়া অর্থঋণ আদালত আইনের সংস্কার এবং আন্তঃব্যাংক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’ চালুর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৈশ্বিক ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা
বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা নিয়েও সতর্ক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কোভিড-পরবর্তী পরিস্থিতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন এবং শিল্প উৎপাদনে চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা, কাঠামোগত মূল্যস্ফীতি, খেলাপি ঋণ, আর্থিক খাতের চাপ এবং বৈদেশিক খাতের ঝুঁকি আগামী দিনের অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।


















