দিনে ৫ বার ফলের রস, চার সপ্তাহেই কমতে পারে অবসাদের লক্ষণ?

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০০:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
শরীর সুস্থ রাখতে ফলের গুরুত্বের কথা কমবেশি সবারই জানা। তবে নিয়মিত ফলের রস বা ফল দিয়ে তৈরি স্মুদি খাওয়ার সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যেরও যোগ থাকতে পারে—এমন ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়।
ইংল্যান্ডের নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা প্রাপ্তবয়স্কদের ওপর একটি সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, খাদ্যতালিকায় নিয়মিত টাটকা ফলের রস বা ফলের স্মুদি যুক্ত করলে অবসাদের লক্ষণ কমতে পারে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের একটি দলকে বেশি করে টাটকা ফল ও সবজি খেতে বলা হয়। অন্য দলকে প্রতিদিন পাঁচবার নির্দিষ্ট পরিমাণে ফলের রস বা ফলের স্মুদি খাওয়ানো হয়।
চার সপ্তাহ পর দেখা যায়, দ্বিতীয় দলের মানসিক স্বাস্থ্যে তুলনামূলক বেশি উন্নতি হয়েছে এবং অবসাদের মাত্রাও কমেছে।
গবেষণার ফল ‘ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২৭ পয়েন্টের একটি স্কেলে ফলের রস বা স্মুদি খাওয়া দলের অবসাদের মাত্রা অন্য দলের তুলনায় ২ দশমিক ৫২ পয়েন্ট কমে।
গবেষণায় অবশ্য শুধু ফলের রস নয়, অংশগ্রহণকারীদের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। দুই দলই প্রতিদিন গোটা ফল ও শাকসবজি থেকে প্রায় ৮ থেকে ১০ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করেছেন। ফলের রস বা স্মুদি খাওয়া দলের খাদ্যতালিকাতেও পর্যাপ্ত ফাইবার ছিল।
গবেষকদের দাবি, এ কারণে দিনে পাঁচবার ফলের রস বা স্মুদি গ্রহণ করলেও অংশগ্রহণকারীদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়ার মতো নেতিবাচক প্রভাব দেখা যায়নি। বিপাকীয় স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও বড় কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।
গবেষণার অন্যতম প্রধান গবেষক ও নিউক্যাসল ইউনিভার্সিটির পুষ্টিবিদ্যার অধ্যাপক অলিভার শ্যাননের মতে, নিয়মিত ফলের রস গ্রহণের সঙ্গে বিষণ্নতার উপসর্গ কমার একটি সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় সাইট্রাস বা লেবুজাতীয় ফল মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহ ও কর্মক্ষমতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
তবে গবেষণাটি ফলের রসকে বিষণ্নতার চিকিৎসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেনি। মানসিক অবসাদ দীর্ঘস্থায়ী হলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসক বা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই জরুরি।
অর্থাৎ, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় টাটকা ফল ও সবজি রাখা স্বাস্থ্যকর অভ্যাস হতে পারে। আর গবেষণাটি বলছে, এর প্রভাব শরীরের পাশাপাশি মনের ওপরও পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।





















