জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে সিআইডি

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:০৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
প্রতারণা, অর্থ দাবি, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালতে মামলা হয়েছে। মামলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া গিয়াস উদ্দিন মামলাটির আবেদন করেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী ইয়ামিন মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিরা হলেন—জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালুর রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা।
চেক পেতে দেড় লাখ টাকা দাবির অভিযোগ
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গিয়াস উদ্দিন জুলাই যোদ্ধা হিসেবে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে একটি চেক পাওয়ার কথা ছিল। চেকটি নিতে গেলে তিনি তা পাননি।
পরে তিনি বাংলামোটরে এনসিপির কার্যালয়ে গিয়ে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, তাসনিম জারা ও স্নিগ্ধকে বিষয়টি জানান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তারা তাকে ফাউন্ডেশনে গেলে চেক দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
তবে এরপরও ফাউন্ডেশনে গিয়ে তিনি বারবার কালক্ষেপণের শিকার হন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৩ মে চেক নেওয়ার জন্য রমনা মডেল থানার আওতাধীন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে যান গিয়াস উদ্দিন।
সেখানে আসামিরা তাকে জানান, চেকের তিন লাখ টাকার ৫০ শতাংশ অর্থাৎ দেড় লাখ টাকা দিলে তিনি ব্যাংক থেকে চেকটি নগদায়ন করে অর্থ নিতে পারবেন—এমন অভিযোগ করা হয়েছে মামলায়।
তবে ওই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
গোপন কক্ষে নিয়ে মারধরের অভিযোগ
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর গিয়াস উদ্দিনকে কৌশলে একটি গোপন কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে দুই আসামি তার দুই হাত ধরে রাখেন এবং অপর কয়েকজন তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে দেয়ালে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হলে রডের সঙ্গে মাথায় আঘাত পেয়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে জ্ঞান ফিরে তিনি শরীর থেকে রক্ত ঝরতে দেখেন বলে অভিযোগ করেন।
তিনি চিৎকার ও কান্নাকাটি করলে আরও কয়েকজন তাকে মারধর করে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে কয়েকজন তাকে ফাউন্ডেশনের লিফটের সামনে রেখে যান। খবর পেয়ে তার ছেলে সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করান বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।
আদালত অভিযোগের বিষয়ে সিআইডিকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
তবে মামলায় অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা ও দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


















