ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘মেসির চোখে জল দেখতে কষ্ট হয়’—ভাইরাল রোনাল্ডোর ১০ বছর আগের মন্তব্য মহাপ্রলয়ে লাশের পাহাড়, নেপালে ফের ধেয়ে আসছে হড়পা বান? ‘নোবডি বিগ, নোবডি স্মল’—বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার এনটিআরসিএর শিক্ষক নিবন্ধনে বহাল থাকছে আগের পদ্ধতি অতিরিক্ত বোয়িং কেনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো চাপ নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরেও বিএনপির পথনির্দেশক জিয়ার ঐতিহাসিক ১৯ দফা বিএনপির হাত ধরেই দেশে বহুদলীয় ও সংসদীয় গণতন্ত্র এসেছে: প্রধানমন্ত্রী লোকায়ন জীবনবৈচিত্র্য জাদুঘর ঘুরে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত ঐতিহ্যবাহী কারবালা মসজিদের উন্নয়নে পৌনে দুই কোটি টাকা বরাদ্দ নদীর বুক চিরে গড়ে উঠেছে শিল্পকারখানা, দখলে ২৪১ একর

প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরেও বিএনপির পথনির্দেশক জিয়ার ঐতিহাসিক ১৯ দফা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মঙ্গলবার তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

১৯৭৮ সালে বিএনপির আত্মপ্রকাশের আগে ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখা হিসেবে ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এটিকে তাঁর সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন।

প্রায় অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও আত্মনির্ভরতা, গ্রামীণ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দর্শনের কারণে ১৯ দফা এখনো বিএনপির রাজনৈতিক পথনির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করেন দলটির প্রবীণ নেতারা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক নথি অনুযায়ী, ১৯ দফার প্রথম দফাতেই দেশের সার্বভৌমত্ব যেকোনো মূল্যে রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়।

দ্বিতীয় দফায় জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে চারটি মূলনীতির কথা বলা হয়—সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্র। এখানে সমাজতন্ত্র বলতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় প্রশাসনের সব স্তর এবং জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচিতে আত্মনির্ভরতা ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি জোরদার করার বিষয়টিও ১৯ দফায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের বাস্তবতায় কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বন্যা ও খরার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নিম্নভূমির বদ্বীপাঞ্চলে কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।

শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে শিল্প খাতের উন্নয়নকেও গুরুত্ব দেওয়া হয় ১৯ দফায়।

জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ ছিল এ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তার পাশাপাশি দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

গ্রামীণ উন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে গুরুত্ব

১৯ দফা কর্মসূচিতে গ্রামীণ উন্নয়নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নগর ও গ্রামের মধ্যকার বৈষম্য কমিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজননস্বাস্থ্য কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার বিষয়টিও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরবর্তী দফাগুলোতে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা, সিভিল সার্ভিস সংস্কার, ভূমি সংস্কার, বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দেওয়া এবং যুবসমাজকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার বিষয়গুলো স্থান পায়।

নারীর অধিকার, মর্যাদা ও আর্থসামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ১৯ দফায় সমতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির কথা বলা হয়। একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দলটির নেতারা মনে করেন, জিয়াউর রহমানের ঘোষিত ১৯ দফা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না; বরং এটি ছিল বাংলাদেশের উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা ও জাতীয় ঐক্যের একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা।

তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর বিএনপি আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পরও জিয়াউর রহমানের সেই উন্নয়ন দর্শন ও রাজনৈতিক ভিশনকে সামনে রেখেই দেশের অগ্রগতি, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার।

প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্তিতে তাই বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে দলটির জন্মের পাশাপাশি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি—যাকে দলটির নেতারা এখনো বাংলাদেশের আত্মনির্ভর ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম পথনির্দেশক হিসেবে দেখছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরেও বিএনপির পথনির্দেশক জিয়ার ঐতিহাসিক ১৯ দফা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৩৩:৪২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মঙ্গলবার তাদের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে। এ উপলক্ষে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

১৯৭৮ সালে বিএনপির আত্মপ্রকাশের আগে ১৯৭৭ সালের ৩০ এপ্রিল জিয়াউর রহমান দেশের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের রূপরেখা হিসেবে ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি এটিকে তাঁর সরকারের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিকনির্দেশনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেন।

প্রায় অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও আত্মনির্ভরতা, গ্রামীণ উন্নয়ন, জাতীয় ঐক্য, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার দর্শনের কারণে ১৯ দফা এখনো বিএনপির রাজনৈতিক পথনির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করেন দলটির প্রবীণ নেতারা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক নথি অনুযায়ী, ১৯ দফার প্রথম দফাতেই দেশের সার্বভৌমত্ব যেকোনো মূল্যে রক্ষার অঙ্গীকার করা হয়।

দ্বিতীয় দফায় জাতীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে চারটি মূলনীতির কথা বলা হয়—সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ এবং সমাজতন্ত্র। এখানে সমাজতন্ত্র বলতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় প্রশাসনের সব স্তর এবং জাতীয় উন্নয়ন কর্মসূচিতে আত্মনির্ভরতা ও জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ধর্ম, বর্ণ ও মতাদর্শ নির্বিশেষে সব নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি জোরদার করার বিষয়টিও ১৯ দফায় বিশেষ গুরুত্ব পায়।

কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের বাস্তবতায় কৃষি উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বন্যা ও খরার ক্ষয়ক্ষতি কমাতে নিম্নভূমির বদ্বীপাঞ্চলে কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।

শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে শিল্প খাতের উন্নয়নকেও গুরুত্ব দেওয়া হয় ১৯ দফায়।

জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ ছিল এ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার নিশ্চয়তার পাশাপাশি দেশকে নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।

গ্রামীণ উন্নয়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে গুরুত্ব

১৯ দফা কর্মসূচিতে গ্রামীণ উন্নয়নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়। নগর ও গ্রামের মধ্যকার বৈষম্য কমিয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা ও প্রজননস্বাস্থ্য কর্মসূচির মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের জনসংখ্যা স্থিতিশীল রাখার বিষয়টিও কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

পরবর্তী দফাগুলোতে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শ্রমিকের অধিকার নিশ্চিত করা, সিভিল সার্ভিস সংস্কার, ভূমি সংস্কার, বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দেওয়া এবং যুবসমাজকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করার বিষয়গুলো স্থান পায়।

নারীর অধিকার, মর্যাদা ও আর্থসামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ১৯ দফায় সমতা, সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির কথা বলা হয়। একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

দলটির নেতারা মনে করেন, জিয়াউর রহমানের ঘোষিত ১৯ দফা শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না; বরং এটি ছিল বাংলাদেশের উন্নয়ন, আত্মনির্ভরতা ও জাতীয় ঐক্যের একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা।

তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পর বিএনপি আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পরও জিয়াউর রহমানের সেই উন্নয়ন দর্শন ও রাজনৈতিক ভিশনকে সামনে রেখেই দেশের অগ্রগতি, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করছে সরকার।

প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছর পূর্তিতে তাই বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে দলটির জন্মের পাশাপাশি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ১৯ দফা কর্মসূচি—যাকে দলটির নেতারা এখনো বাংলাদেশের আত্মনির্ভর ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম পথনির্দেশক হিসেবে দেখছেন।