ঢাকা ০৯:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শেষ ভাষণে গুতেরেসের সতর্কবার্তা: শক্তি নয়, শান্তির জন্য চাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে? রামপালের বিতর্কিত দরপত্র বাতিলের দাবি বিশেষজ্ঞদের জামালপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম আদালতের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই রাতে পুকুরে মাছ ধরেন ইউএনও এমপি নজরুলের প্রথম স্ত্রীকে ঘিরে মামলার তদন্তে নতুন তথ্য নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে বাসের রুট পারমিট বাতিল: মন্ত্রী বাস-ট্রেনে আগুনের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র: রিজভী সাবেক এনবিআর চেয়ারম্যান মুনীমসহ কয়েকজনের ২৫ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

সিআইপি অনিরুদ্ধ রায়কে ঘিরে RAW, ব্যাংকঋণ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

সুপন রায়
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার কূটনৈতিক ও ব্যবসায়ী অঙ্গনে পরিচিত মুখ আরএমএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে তার যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে একাধিকবার সিআইপি মর্যাদাও পেয়েছেন তিনি।

তবে ব্যবসায়ী পরিচয়ের বাইরে তার কর্মকাণ্ড ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা গুরুতর অভিযোগও আলোচনায় রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে কথিত বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যাংকিং অনিয়ম, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে বিরোধ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং ব্যক্তিগত প্রতারণার অভিযোগ। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরের পর্ব দেখতে চোখ রাখুন বাংলা টাইমস-এ।

RAW-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর (RAW) সঙ্গে অনিরুদ্ধ রায়ের কথিত যোগাযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও কূটনৈতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক, উচ্চপদস্থ আমলা এবং ব্যবসায়ী-কূটনৈতিক মহলে বিস্তৃত যোগাযোগ তৈরি করেছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও যোগাযোগকে নিজের প্রভাব ও নিরাপত্তার ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের বাইরে স্পষ্ট নয়।

ভারতীয় নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন

অনিরুদ্ধ রায়ের নাগরিকত্ব ও বিদেশি পাসপোর্ট নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি ভারতীয় নাগরিকত্বের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন এবং ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশের বাইরে অর্থ ও সম্পদ স্থানান্তর করেছেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে ব্যাংকিং, রাজস্ব বা আইনি জটিলতার ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ও বৈদেশিক পরিচয়কে সুবিধা হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

অনিরুদ্ধ রায় এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভারতীয় নাগরিকত্ব গোপন কিংবা ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে অর্থপাচারের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

ফার্মার্স ব্যাংকের ৪ কোটি টাকার ঋণ

অনিরুদ্ধ রায়কে ঘিরে আলোচিত আর্থিক অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ফার্মার্স ব্যাংকের প্রায় ৪ কোটি টাকার ঋণসংক্রান্ত ঘটনা। ২০১৭ সালে ব্যাংকটির গুলশান শাখা থেকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে দুই ব্যবসায়ীর নামে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ওই অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এই ঋণ প্রক্রিয়ায় অনিরুদ্ধ রায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঋণের অর্থ উত্তোলন ও নির্দিষ্ট হিসাবে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় তিনি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিলেন।

তবে অনিরুদ্ধ রায়ের দাবি, এ ঋণ জালিয়াতি কিংবা এস কে সিনহার সঙ্গে কোনো অবৈধ আর্থিক লেনদেনে তার সম্পৃক্ততা নেই। তার ভাষ্য, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) বা দুর্নীতি দমন কমিশনও এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত পরিচালনা করেনি।

এস কে সিনহার সঙ্গে কথিত আর্থিক যোগাযোগ

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে অনিরুদ্ধ রায়ের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। এফবি ফুটওয়্যার নামের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিচারপতি সিনহার কথিত বিনিয়োগ এবং সেখানে অনিরুদ্ধ রায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে টেলিফোন ও অন্যান্য যোগাযোগের তথ্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ২০১৭ সালে অনিরুদ্ধ রায়ের নিখোঁজ হওয়ার আগে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এসব অভিযোগেরও কোনোটি তিনি স্বীকার করেননি।

আশিয়ান সিটি ও ৫০ কোটি টাকার লেনদেন

আশিয়ান সিটি-সংক্রান্ত একটি আপিল মামলাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলাসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং অর্থ লেনদেন সমন্বয়ে অনিরুদ্ধ রায়ের ভূমিকা ছিল।

ব্যাংকিং চ্যানেল ও নগদ অর্থের মাধ্যমে ওই অর্থের লেনদেনের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অনিরুদ্ধ রায় আশিয়ান সিটি ও কথিত ৫০ কোটি টাকার লেনদেনের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

রঞ্জিত রায়কে ঘিরে সম্পত্তির অভিযোগ

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যক্তিগত সহকারী রঞ্জিত রায়ের সঙ্গেও অনিরুদ্ধ রায়ের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তরার একটি বহুতল ভবনের মালিকানা ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি হস্তান্তর-সংক্রান্ত ঘটনায় তারা একই আর্থিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করেছিলেন।

পরবর্তীতে বিচারপতি সিনহার ব্যাংকিং লেনদেন ও অনিরুদ্ধ রায়ের কথিত আর্থিক যোগাযোগের তথ্য সামনে আসার পর রঞ্জিত রায় সপরিবারে সিঙ্গাপুরে চলে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ অভিযোগও অনিরুদ্ধ রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। রঞ্জিত রায় ও তার স্ত্রীর সম্পত্তিসংক্রান্ত কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে বিরোধের অভিযোগ

অনিরুদ্ধ রায়ের ব্যবসায়িক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে তাকে এস আলমের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য রহমত উল্লাহ তার ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন বলে জানিয়েছেন অনিরুদ্ধ রায় নিজেই। তার ভাষ্য, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। ২০১৬ সালের পর তাদের মধ্যে আর কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই।

এ ছাড়া ব্যবসায়িক অংশীদারদের লভ্যাংশ না দেওয়া, সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ না করা এবং ব্যাংকিং নথিপত্রে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চামড়া ও পোশাক খাতের কয়েকজন ব্যবসায়ীর কোটি কোটি টাকা পাওনা আটকে রাখার অভিযোগের কথাও বলা হয়েছে।

এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

৭৯ দিন নিখোঁজ থাকার ঘটনা

২০১৭ সালে গুলশান থেকে অনিরুদ্ধ রায়ের ৭৯ দিন নিখোঁজ থাকার ঘটনাও আলোচনায় আসে। সে সময় তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ওঠে।

পরবর্তীতে তার ব্যবসায়িক অংশীদারদের কেউ কেউ দাবি করেন, পাওনাদারদের চাপ এবং ব্যবসায়িক-আর্থিক অনিয়ম আড়াল করতেই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সাজানো হয়েছিল।

তবে অনিরুদ্ধ রায়ের ভাষ্য, তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত এসব তথ্য বানোয়াট ও অবমাননাকর। তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এসব তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

সিআইপি পরিচয়ের আড়ালে কী?

আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও কূটনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত অনিরুদ্ধ রায় বিভিন্ন সময় এফবি ফুটওয়্যারের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমেও পরিচিত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার কথিত আর্থিক সংশ্লিষ্টতা এবং সেখানে অনিরুদ্ধ রায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

একদিকে ব্যবসায়ী ও কূটনৈতিক মহলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ এবং সিআইপি পরিচিতি, অন্যদিকে ব্যাংকিং লেনদেন, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, বিদেশি যোগাযোগ ও আর্থিক কর্মকাণ্ড ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগ—সব মিলিয়ে তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

যা বলছেন অনিরুদ্ধ রায়

এসব অভিযোগের বিষয়ে অনিরুদ্ধ রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন বক্তব্য না দিয়ে প্রতিবেদকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি বলেন, আপনারা সাত্তারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিউজ করছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সিআইপি অনিরুদ্ধ রায়কে ঘিরে RAW, ব্যাংকঋণ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫৭:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার কূটনৈতিক ও ব্যবসায়ী অঙ্গনে পরিচিত মুখ আরএমএম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ কুমার রায়। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে তার যোগাযোগ রয়েছে। বাংলাদেশে একাধিকবার সিআইপি মর্যাদাও পেয়েছেন তিনি।

তবে ব্যবসায়ী পরিচয়ের বাইরে তার কর্মকাণ্ড ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা গুরুতর অভিযোগও আলোচনায় রয়েছে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে কথিত বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, ব্যাংকিং অনিয়ম, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে বিরোধ, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ এবং ব্যক্তিগত প্রতারণার অভিযোগ। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পরের পর্ব দেখতে চোখ রাখুন বাংলা টাইমস-এ।

RAW-এর সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর (RAW) সঙ্গে অনিরুদ্ধ রায়ের কথিত যোগাযোগ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও কূটনৈতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে তিনি বাংলাদেশের নীতিনির্ধারক, উচ্চপদস্থ আমলা এবং ব্যবসায়ী-কূটনৈতিক মহলে বিস্তৃত যোগাযোগ তৈরি করেছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, এসব যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহ করে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে সরবরাহ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একাধিক দেশের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ও যোগাযোগকে নিজের প্রভাব ও নিরাপত্তার ঢাল হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্যের বাইরে স্পষ্ট নয়।

ভারতীয় নাগরিকত্ব ও পাসপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন

অনিরুদ্ধ রায়ের নাগরিকত্ব ও বিদেশি পাসপোর্ট নিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বাংলাদেশে ব্যবসায়িক পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি ভারতীয় নাগরিকত্বের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন এবং ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশের বাইরে অর্থ ও সম্পদ স্থানান্তর করেছেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশে ব্যাংকিং, রাজস্ব বা আইনি জটিলতার ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ও বৈদেশিক পরিচয়কে সুবিধা হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

অনিরুদ্ধ রায় এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভারতীয় নাগরিকত্ব গোপন কিংবা ভারতীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে অর্থপাচারের অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেছেন।

ফার্মার্স ব্যাংকের ৪ কোটি টাকার ঋণ

অনিরুদ্ধ রায়কে ঘিরে আলোচিত আর্থিক অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ফার্মার্স ব্যাংকের প্রায় ৪ কোটি টাকার ঋণসংক্রান্ত ঘটনা। ২০১৭ সালে ব্যাংকটির গুলশান শাখা থেকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে দুই ব্যবসায়ীর নামে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ওই অর্থ পে-অর্ডারের মাধ্যমে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়ার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

এই ঋণ প্রক্রিয়ায় অনিরুদ্ধ রায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, ঋণের অর্থ উত্তোলন ও নির্দিষ্ট হিসাবে পৌঁছানোর প্রক্রিয়ায় তিনি মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিলেন।

তবে অনিরুদ্ধ রায়ের দাবি, এ ঋণ জালিয়াতি কিংবা এস কে সিনহার সঙ্গে কোনো অবৈধ আর্থিক লেনদেনে তার সম্পৃক্ততা নেই। তার ভাষ্য, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (BFIU) বা দুর্নীতি দমন কমিশনও এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত পরিচালনা করেনি।

এস কে সিনহার সঙ্গে কথিত আর্থিক যোগাযোগ

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার সঙ্গে অনিরুদ্ধ রায়ের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে। এফবি ফুটওয়্যার নামের একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিচারপতি সিনহার কথিত বিনিয়োগ এবং সেখানে অনিরুদ্ধ রায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে টেলিফোন ও অন্যান্য যোগাযোগের তথ্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ২০১৭ সালে অনিরুদ্ধ রায়ের নিখোঁজ হওয়ার আগে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

এসব অভিযোগেরও কোনোটি তিনি স্বীকার করেননি।

আশিয়ান সিটি ও ৫০ কোটি টাকার লেনদেন

আশিয়ান সিটি-সংক্রান্ত একটি আপিল মামলাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৫০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলাসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ এবং অর্থ লেনদেন সমন্বয়ে অনিরুদ্ধ রায়ের ভূমিকা ছিল।

ব্যাংকিং চ্যানেল ও নগদ অর্থের মাধ্যমে ওই অর্থের লেনদেনের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে অনিরুদ্ধ রায় আশিয়ান সিটি ও কথিত ৫০ কোটি টাকার লেনদেনের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন।

রঞ্জিত রায়কে ঘিরে সম্পত্তির অভিযোগ

সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার ব্যক্তিগত সহকারী রঞ্জিত রায়ের সঙ্গেও অনিরুদ্ধ রায়ের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, উত্তরার একটি বহুতল ভবনের মালিকানা ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি হস্তান্তর-সংক্রান্ত ঘটনায় তারা একই আর্থিক নেটওয়ার্কের অংশ হিসেবে কাজ করেছিলেন।

পরবর্তীতে বিচারপতি সিনহার ব্যাংকিং লেনদেন ও অনিরুদ্ধ রায়ের কথিত আর্থিক যোগাযোগের তথ্য সামনে আসার পর রঞ্জিত রায় সপরিবারে সিঙ্গাপুরে চলে যান বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এ অভিযোগও অনিরুদ্ধ রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। রঞ্জিত রায় ও তার স্ত্রীর সম্পত্তিসংক্রান্ত কথিত ষড়যন্ত্রের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে বিরোধের অভিযোগ

অনিরুদ্ধ রায়ের ব্যবসায়িক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে তাকে এস আলমের ব্যবসায়িক অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে সাবেক সংসদ সদস্য রহমত উল্লাহ তার ব্যবসায়িক অংশীদার ছিলেন বলে জানিয়েছেন অনিরুদ্ধ রায় নিজেই। তার ভাষ্য, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তাদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। ২০১৬ সালের পর তাদের মধ্যে আর কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক নেই।

এ ছাড়া ব্যবসায়িক অংশীদারদের লভ্যাংশ না দেওয়া, সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধ না করা এবং ব্যাংকিং নথিপত্রে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। চামড়া ও পোশাক খাতের কয়েকজন ব্যবসায়ীর কোটি কোটি টাকা পাওনা আটকে রাখার অভিযোগের কথাও বলা হয়েছে।

এসব অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।

৭৯ দিন নিখোঁজ থাকার ঘটনা

২০১৭ সালে গুলশান থেকে অনিরুদ্ধ রায়ের ৭৯ দিন নিখোঁজ থাকার ঘটনাও আলোচনায় আসে। সে সময় তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন ওঠে।

পরবর্তীতে তার ব্যবসায়িক অংশীদারদের কেউ কেউ দাবি করেন, পাওনাদারদের চাপ এবং ব্যবসায়িক-আর্থিক অনিয়ম আড়াল করতেই নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সাজানো হয়েছিল।

তবে অনিরুদ্ধ রায়ের ভাষ্য, তার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে প্রকাশিত এসব তথ্য বানোয়াট ও অবমাননাকর। তাকে হেয় করার উদ্দেশ্যেই এসব তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

সিআইপি পরিচয়ের আড়ালে কী?

আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও কূটনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত অনিরুদ্ধ রায় বিভিন্ন সময় এফবি ফুটওয়্যারের প্রতিনিধিত্বের মাধ্যমেও পরিচিত হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার কথিত আর্থিক সংশ্লিষ্টতা এবং সেখানে অনিরুদ্ধ রায়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

একদিকে ব্যবসায়ী ও কূটনৈতিক মহলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ এবং সিআইপি পরিচিতি, অন্যদিকে ব্যাংকিং লেনদেন, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, বিদেশি যোগাযোগ ও আর্থিক কর্মকাণ্ড ঘিরে ওঠা একাধিক অভিযোগ—সব মিলিয়ে তার ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

যা বলছেন অনিরুদ্ধ রায়

এসব অভিযোগের বিষয়ে অনিরুদ্ধ রায়ের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোন বক্তব্য না দিয়ে প্রতিবেদকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। তিনি বলেন, আপনারা সাত্তারের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়ে নিউজ করছেন।