ঢাকা ১১:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শ্রীমঙ্গলে যাত্রীবাহী বাস ও সিএনজি সংঘর্ষে নিহত তিন শেষ ভাষণে গুতেরেসের সতর্কবার্তা: শক্তি নয়, শান্তির জন্য চাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে? রামপালের বিতর্কিত দরপত্র বাতিলের দাবি বিশেষজ্ঞদের জামালপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দুদকের অভিযান দিল্লিতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার আসাদ আলম সিয়াম আদালতের নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই রাতে পুকুরে মাছ ধরেন ইউএনও এমপি নজরুলের প্রথম স্ত্রীকে ঘিরে মামলার তদন্তে নতুন তথ্য নির্ধারিত ভাড়ার বেশি নিলে বাসের রুট পারমিট বাতিল: মন্ত্রী বাস-ট্রেনে আগুনের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের যোগসূত্র: রিজভী

শেষ ভাষণে গুতেরেসের সতর্কবার্তা: শক্তি নয়, শান্তির জন্য চাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্বজুড়ে সংঘাত, গাজা যুদ্ধ, জলবায়ু সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া নিজের শেষ ভাষণে তিনি বলেছেন, সামরিক বা প্রযুক্তিগত শক্তির ওপর নির্ভর করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ জন্য আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন গুতেরেস। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

গাজা ও ইউক্রেন নিয়ে উদ্বেগ

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গুতেরেস বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর সেখানে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গাজায় নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও বসতি সম্প্রসারণ নিয়েও উদ্বেগ জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে রাশিয়ার আগ্রাসনকে জাতিসংঘ সনদের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন গুতেরেস। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।

জাতিসংঘ সংস্কারের তাগিদ

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতিসংঘের কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন গুতেরেস। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার কোনো স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্বমূলক ঘাটতির একটি উদাহরণ।

তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু সংকটও গুরুত্ব পায়। গুতেরেস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের ভূমিকা এবং জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ঘাটতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এআই নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারকে বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন গুতেরেস। এআইসহ উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতিসংঘের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন মহাসচিব।

মেয়াদের শেষ পর্যায়ে দেওয়া ভাষণে গুতেরেস বলেন, শান্তি, মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার প্রচেষ্টা কোনো একজন ব্যক্তি বা তাঁর মেয়াদের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। এসব লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শেষ ভাষণে গুতেরেসের সতর্কবার্তা: শক্তি নয়, শান্তির জন্য চাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৩১:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে সংঘাত, গাজা যুদ্ধ, জলবায়ু সংকট, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া নিজের শেষ ভাষণে তিনি বলেছেন, সামরিক বা প্রযুক্তিগত শক্তির ওপর নির্ভর করে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ জন্য আন্তর্জাতিক আইন ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেন গুতেরেস। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব হিসেবে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

গাজা ও ইউক্রেন নিয়ে উদ্বেগ

গাজা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গুতেরেস বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর সেখানে প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গাজায় নির্বিঘ্নে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে সহিংসতা ও বসতি সম্প্রসারণ নিয়েও উদ্বেগ জানান জাতিসংঘ মহাসচিব।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে রাশিয়ার আগ্রাসনকে জাতিসংঘ সনদের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন গুতেরেস। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।

জাতিসংঘ সংস্কারের তাগিদ

বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জাতিসংঘের কাঠামো সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন গুতেরেস। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার কোনো স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্বমূলক ঘাটতির একটি উদাহরণ।

তাঁর বক্তব্যে জলবায়ু সংকটও গুরুত্ব পায়। গুতেরেস বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর। জীবাশ্ম জ্বালানি খাতের ভূমিকা এবং জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ঘাটতি নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

এআই নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারকে বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন গুতেরেস। এআইসহ উদীয়মান প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতিসংঘের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানগুলোকেও প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে মন্তব্য করেন মহাসচিব।

মেয়াদের শেষ পর্যায়ে দেওয়া ভাষণে গুতেরেস বলেন, শান্তি, মানবাধিকার ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার প্রচেষ্টা কোনো একজন ব্যক্তি বা তাঁর মেয়াদের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। এসব লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।