কুমিরের আক্রমণে বদলে গেল মৃত্যুর সিদ্ধান্ত, বাঁচার আকুতিতে চিৎকার

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৪৭:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
জীবনের সব দুঃখ-কষ্টের ইতি টানতে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন এক নারী। কিন্তু পানিতে পড়ার পরই সামনে হাজির হয় আরও ভয়ংকর এক বিপদ—বিশালাকার কুমির। প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে তখন চিৎকার করে ওঠেন তিনি। গভীর রাতের সেই আর্তনাদ শুনে এগিয়ে আসেন স্থানীয় একটি লজের কর্মীরা। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের তৎপরতায় কুমিরের আক্রমণ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয় তাঁকে।
ঘটনাটি গত বুধবার (৪ নভেম্বর) গভীর রাতে ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের দক্ষিণ কন্নড় জেলার কুক্কে সুব্রহ্মণ্য এলাকার কুমারধারা সেতুর নিচে ঘটে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক নানা টানাপোড়েনে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন ওই নারী। হতাশা থেকে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাতে কুমারধারা সেতু থেকে নদীতে ঝাঁপ দেন তিনি। কিন্তু পানিতে পড়ার পরপরই একটি কুমির তাঁর ওপর হামলা চালায়। কুমিরের কামড়ে আহত হয়ে প্রাণ বাঁচাতে চিৎকার শুরু করেন তিনি।
গভীর রাতে নদীর দিক থেকে ভেসে আসা চিৎকার শুনতে পান কাছের একটি লজের কর্মীরা। শব্দের উৎস অনুসরণ করে নদীর কাছে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান, কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন ওই নারী। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পেরে দ্রুত সুব্রহ্মণ্য থানায় খবর দেন তাঁরা।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় শুরু হয় উদ্ধার অভিযান। একপর্যায়ে কুমিরের কবল থেকে ওই নারীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। পরে দ্রুত তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় মানসিক কাউন্সেলিংয়ের পর তাঁকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। পরিবারের অনুরোধ এবং তাঁর ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে পরিচয় প্রকাশ করেনি পুলিশ।
মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে বেঁচে থাকার আকুতি—ঘটনাটি সেই কঠিন বাস্তবতাই সামনে এনেছে। আত্মহত্যার চিন্তা গভীর মানসিক সংকটের প্রকাশ; এমন পরিস্থিতিতে দোষারোপ নয়, প্রয়োজন সহমর্মিতা, নিরাপদ আশ্রয় এবং দ্রুত মানসিক স্বাস্থ্যসেবা।























