দুর্নীতি, বৈষম্য ও ষড়যন্ত্রের অবসানে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দুর্নীতি, বৈষম্য ও সব ধরনের ষড়যন্ত্রের অবসানে ৭ নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আগামীকাল ৭ নভেম্বর ‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এ আহ্বান জানান। দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ৭ নভেম্বরের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা পাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বাণীতে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবে অংশ নেওয়া বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। সেই সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের মধ্যে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার নতুন অধ্যায় সূচিত হয়। এ সময় স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন এবং জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের দায়িত্ব পান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সিপাহি ও জনতার সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের অধিকার রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী বরাবরই সংহতি ও ঐক্যের পরিচয় দিয়েছে। একই চেতনার পুনর্জাগরণ দেখা যায় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানেও। তাঁর ভাষ্য, ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে।
৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র, আইনের শাসন, বাক্স্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। অর্থনৈতিক মুক্তি ও সামাজিক শান্তি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নতজানু পররাষ্ট্রনীতি থেকে দেশকে বের করে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে বারবার ষড়যন্ত্র হয়েছে, গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে এবং ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নির্বাচিত সরকারের নেতৃত্বে দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে।
এই অগ্রযাত্রা ধরে রাখতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, একটি ন্যায়ভিত্তিক ও নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনে জাতীয় ঐক্য, গণতন্ত্রচর্চা এবং সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি।






















