ঢাকা ১২:২১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঝালকাঠিতে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে বিশেষ চিকিৎসা ক্যাম্প শীতের সবজিতে নামছে দাম, বাজারজুড়ে স্বস্তি এখনো অসম্পূর্ণ সাবেক স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা, থানায় আত্মসমর্পণ স্বামীর বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগ, অনলাইনে আবেদন করবেন কীভাবে নারীর নেতৃত্ব বিকাশে সমান সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জুবাইদার পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির খতিয়ান তলব, দুই আমলের অনিয়ম খুঁজছে সংসদীয় কমিটি ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প, বদলাতে পারে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতি পর্তুগালের জার্সিতে রোনাল্ডোর পাঁচ রেকর্ড, ভাঙা কি অসম্ভব? রাতে দাঁতে তীব্র ব্যথা? চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে যা করবেন একাদশে ভর্তি শিক্ষার্থীদের অনলাইন নিবন্ধন শুরু ১২ নভেম্বর

শীতের সবজিতে নামছে দাম, বাজারজুড়ে স্বস্তি এখনো অসম্পূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শীত এখনো পুরোপুরি জেঁকে বসেনি, তবে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীর সবজির বাজারে। বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। সরবরাহ বাড়ায় শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে সীমিত পরিসরে স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা। কিন্তু বাজারের সামগ্রিক চিত্র এখনো স্বস্তিদায়ক নয়। টমেটো, কাঁচামরিচ ও গাজরের দাম চড়া, মাছের বাজারেও আগের অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি। তুলনামূলক স্বস্তি মিলেছে শুধু ডিমের দামে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজারে শীতের সবজির উপস্থিতি বাড়লেও দামের ক্ষেত্রে সব পণ্যে একই চিত্র নেই। প্রতি কেজি ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। শিমের দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আকারভেদে প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মুলা পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে।

অন্যদিকে, বেগুনের দাম জাত ও আকারভেদে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৭০ টাকা। তবে গোল বেগুনের জন্য ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১২০ টাকা। টমেটো ও কাঁচামরিচের কেজি ১২০ টাকা করে। গাজরের দাম কেজিতে ১৪০ টাকা। দেশি শসা ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি।

যাত্রাবাড়ীর সবজি বিক্রেতা সুলতান বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। সরবরাহ আরও বাড়লে দামও কমতে পারে।

আরেক বিক্রেতা জানান, শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় আগের তুলনায় দাম কমেছে। তবে সব ধরনের শীতকালীন সবজি এখনো বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আসেনি। ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারভেদে প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে এসব পণ্যের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাছের দামে পরিবর্তন নেই

সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও মাছ কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের বাড়তি স্বস্তির সুযোগ নেই। অধিকাংশ মাছ বিক্রি হচ্ছে আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামে।

প্রতি কেজি রুই মাছ আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। ইলিশের বাজারে দাম এখনো বেশ চড়া। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। বড় আকারের ইলিশের দাম কোনো কোনো বাজারে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

ডিমে কমেছে খরচ

বাজারের অন্য পণ্যে স্বস্তি সীমিত হলেও ডিমের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন ক্রেতারা। এক ক্রেতা বলেন, আগে এক ডজন ডিমের দাম প্রায় ১৫০ টাকা ছিল। এখন তা কমে ১৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে সরবরাহ বাড়ার কারণেই ডিমের দাম কমেছে।

সব মিলিয়ে শীতের সবজি বাজারে আসায় কয়েকটি পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। তবে মৌসুমি সবজির এই স্বস্তি এখনো নিত্যপণ্যের পুরো বাজারে প্রভাব ফেলেনি। ফলে কিছু সবজিতে দাম কমলেও মাছসহ অন্যান্য পণ্যের উচ্চমূল্যেই আটকে আছে ক্রেতাদের বাজারের হিসাব।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শীতের সবজিতে নামছে দাম, বাজারজুড়ে স্বস্তি এখনো অসম্পূর্ণ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১০:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

শীত এখনো পুরোপুরি জেঁকে বসেনি, তবে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাজধানীর সবজির বাজারে। বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি। সরবরাহ বাড়ায় শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মুলার দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে সীমিত পরিসরে স্বস্তি পাচ্ছেন ক্রেতারা। কিন্তু বাজারের সামগ্রিক চিত্র এখনো স্বস্তিদায়ক নয়। টমেটো, কাঁচামরিচ ও গাজরের দাম চড়া, মাছের বাজারেও আগের অবস্থার তেমন পরিবর্তন হয়নি। তুলনামূলক স্বস্তি মিলেছে শুধু ডিমের দামে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাজারে শীতের সবজির উপস্থিতি বাড়লেও দামের ক্ষেত্রে সব পণ্যে একই চিত্র নেই। প্রতি কেজি ধুন্দল, ঝিঙা ও মেটে আলু বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। শিমের দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আকারভেদে প্রতি পিস ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকা। মুলা পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে।

অন্যদিকে, বেগুনের দাম জাত ও আকারভেদে কেজিপ্রতি ৪০ থেকে ৭০ টাকা। তবে গোল বেগুনের জন্য ক্রেতাকে গুনতে হচ্ছে ১২০ টাকা। টমেটো ও কাঁচামরিচের কেজি ১২০ টাকা করে। গাজরের দাম কেজিতে ১৪০ টাকা। দেশি শসা ৮০ টাকা এবং হাইব্রিড শসা ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এ ছাড়া ঢ্যাঁড়শ ও কচুমুখি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বরবটি, করলা ও কাঁকরোল ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস লাউয়ের দাম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পেঁপে ৩০ টাকা, মিষ্টিকুমড়া ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি।

যাত্রাবাড়ীর সবজি বিক্রেতা সুলতান বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। ফলে কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। সরবরাহ আরও বাড়লে দামও কমতে পারে।

আরেক বিক্রেতা জানান, শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় আগের তুলনায় দাম কমেছে। তবে সব ধরনের শীতকালীন সবজি এখনো বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে আসেনি। ফুলকপি ও বাঁধাকপি আকারভেদে প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ বাড়লে এসব পণ্যের দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

মাছের দামে পরিবর্তন নেই

সবজির বাজারে কিছু পণ্যের দাম কমলেও মাছ কিনতে গিয়ে ক্রেতাদের বাড়তি স্বস্তির সুযোগ নেই। অধিকাংশ মাছ বিক্রি হচ্ছে আগের সপ্তাহের কাছাকাছি দামে।

প্রতি কেজি রুই মাছ আকারভেদে ২৮০ থেকে ৩৮০ টাকা, বড় তেলাপিয়া ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ও গ্রাস কার্প ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং পাঙাশ ১৬০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাতলা ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, চাষের কই ২০০ থেকে ২২০ টাকা এবং পাবদা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। ইলিশের বাজারে দাম এখনো বেশ চড়া। আকার ও মানভেদে প্রতি কেজি ইলিশের দাম ৮০০ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা। বড় আকারের ইলিশের দাম কোনো কোনো বাজারে ২ হাজার ৬০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

ডিমে কমেছে খরচ

বাজারের অন্য পণ্যে স্বস্তি সীমিত হলেও ডিমের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন ক্রেতারা। এক ক্রেতা বলেন, আগে এক ডজন ডিমের দাম প্রায় ১৫০ টাকা ছিল। এখন তা কমে ১৩০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

বিক্রেতাদের ভাষ্য, বাজারে সরবরাহ বাড়ার কারণেই ডিমের দাম কমেছে।

সব মিলিয়ে শীতের সবজি বাজারে আসায় কয়েকটি পণ্যের দাম কমতে শুরু করেছে। তবে মৌসুমি সবজির এই স্বস্তি এখনো নিত্যপণ্যের পুরো বাজারে প্রভাব ফেলেনি। ফলে কিছু সবজিতে দাম কমলেও মাছসহ অন্যান্য পণ্যের উচ্চমূল্যেই আটকে আছে ক্রেতাদের বাজারের হিসাব।