রাতে দাঁতে তীব্র ব্যথা? চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে যা করবেন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১৯:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির সংক্রমণ থেকে শুরু করে আক্কেল দাঁতের সমস্যায় হতে পারে যন্ত্রণা; সাময়িক স্বস্তিতে কাজে আসতে পারে কয়েকটি সহজ উপায়
খাবার চিবোতে গিয়ে হঠাৎ দাঁতে চিনচিনে ব্যথা, ঠান্ডা পানি পান করলেই শিরশিরানি কিংবা কোনো কারণ ছাড়াই শুরু হওয়া তীব্র যন্ত্রণা—দাঁতের ব্যথা দৈনন্দিন জীবনকে মুহূর্তেই দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। বিশেষ করে রাতের বেলায় ব্যথা শুরু হলে খাওয়াদাওয়া, কথা বলা এমনকি ঘুমানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে নিজের মতো ওষুধ খান কিংবা ঘরোয়া পদ্ধতিতে ব্যথা কমানোর চেষ্টা করেন। তবে দাঁতে হঠাৎ ব্যথা শুরু হওয়া অবহেলার বিষয় নয়। দাঁতের ক্ষয়, ফাটল, মাড়ির সংক্রমণ কিংবা দাঁতের গোড়ায় পুঁজ জমার মতো সমস্যার কারণে এমন হতে পারে। তাই সাময়িক স্বস্তির পাশাপাশি ব্যথার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করাও জরুরি।
কেন হয় দাঁতে ব্যথা?
দাঁতের ব্যথার কারণ একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। ব্যথার ধরন ও অবস্থান থেকে অনেক সময় সমস্যার বিষয়ে ধারণা পাওয়া যায়।
দাঁতের ক্ষয়: ব্যাকটেরিয়ার প্রভাবে দাঁতের উপরিভাগে ধীরে ধীরে ক্ষয় তৈরি হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে তা দাঁতের ভেতরের স্নায়ু ও রক্তনালিসমৃদ্ধ অংশে পৌঁছাতে পারে। তখন ঠান্ডা বা গরম খাবার খেলে তীব্র শিরশিরানি ও ব্যথা অনুভূত হয়।
দাঁতে চিড় বা ফাটল: শক্ত খাবার কামড়ানো, দুর্ঘটনায় মুখে আঘাত লাগা কিংবা ঘুমের মধ্যে দাঁত ঘষার অভ্যাস থেকে দাঁতে সূক্ষ্ম ফাটল তৈরি হতে পারে। এসব ফাটল দিয়ে খাবারের কণা ও ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করলে ব্যথা শুরু হয়। অনেক সময় কামড় দেওয়ার সময় যন্ত্রণা বেড়ে যায়।
দাঁতের গোড়ায় সংক্রমণ: দাঁতের ভেতরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে গোড়ায় পুঁজ জমে ফোঁড়া তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে একটানা ব্যথা, মাড়ি ফুলে যাওয়া এবং কখনো জ্বর দেখা দেয়। ব্যথা চোয়াল বা কান পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মাড়ির রোগ: দীর্ঘদিনের প্রদাহ বা সংক্রমণের কারণে মাড়ি দাঁত থেকে সরে যেতে পারে। এতে দাঁতের গোড়ার সংবেদনশীল অংশ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে ঠান্ডা-গরম খাবারে শিরশিরানি ও ব্যথা হতে পারে।
আক্কেল দাঁতের সমস্যা: মুখের ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে আক্কেল দাঁত ঠিকমতো বের হতে পারে না। এতে আশপাশের মাড়িতে প্রদাহ, ফোলা ও ব্যথা তৈরি হয়। কখনো পাশের দাঁতেও চাপ পড়ে।
পুরোনো ফিলিং বা ক্যাপের ক্ষতি: দাঁতের পুরোনো ফিলিং ভেঙে গেলে কিংবা ক্যাপ আলগা হয়ে গেলে ভেতরের সংবেদনশীল অংশ উন্মুক্ত হতে পারে। এতে হঠাৎ ব্যথা শুরু হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
সাইনাসের সংক্রমণ: সব দাঁতের ব্যথার উৎস মুখের ভেতরে নয়। সাইনাসে প্রদাহ বা সংক্রমণ হলে ওপরের চোয়ালের একাধিক দাঁতে ব্যথা অনুভূত হতে পারে।
রাতে হঠাৎ দাঁতে ব্যথা হলে কী করবেন?
দন্তচিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগপর্যন্ত কিছু প্রাথমিক পদক্ষেপ সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে এগুলো কোনোভাবেই স্থায়ী চিকিৎসার বিকল্প নয়।
১. ব্যথানাশক ওষুধ: প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেনের মতো সাধারণ ব্যথানাশক সাময়িকভাবে যন্ত্রণা কমাতে পারে। তবে বয়স, শারীরিক অবস্থা, অন্য ওষুধ সেবন এবং ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিবেচনায় চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না। অ্যাসপিরিন সরাসরি দাঁত বা মাড়িতে লাগানোও ঠিক নয়।
২. নুন-পানিতে কুলকুচি: এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানিতে আধা চা-চামচ লবণ মিশিয়ে প্রায় ৩০ সেকেন্ড কুলকুচি করতে পারেন। এতে মুখ পরিষ্কার রাখতে সুবিধা হয় এবং মাড়ির অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
৩. ঠান্ডা সেঁক: বরফ পরিষ্কার কাপড়ে মুড়িয়ে গালের বাইরের দিকে ১৫–২০ মিনিট ধরে রাখতে পারেন। এতে ব্যথা ও ফোলা সাময়িকভাবে কমতে পারে। সরাসরি দাঁত বা মাড়িতে বরফ লাগাবেন না।
৪. খাবার বাছাই: ব্যথার দিক দিয়ে খাবার চিবানো এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা, শক্ত ও বেশি মিষ্টি খাবার না খাওয়াই ভালো। এ সময় নরম খাবার খেতে পারেন।
৫. দাঁত পরিষ্কার রাখা: ব্যথা হলেও দাঁত মাজা বন্ধ করবেন না। নরম ব্রাশ দিয়ে আলতোভাবে দাঁত পরিষ্কার করুন। দাঁতের ফাঁকে খাবার আটকে থাকলে সাবধানে ফ্লস ব্যবহার করতে পারেন।
যেসব লক্ষণে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি
দাঁতের ব্যথা এক-দুই দিনের বেশি স্থায়ী হলে, ক্রমশ বাড়তে থাকলে কিংবা ব্যথানাশকেও নিয়ন্ত্রণে না এলে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। মাড়ি ফুলে যাওয়া, লাল হয়ে যাওয়া বা পুঁজ বের হওয়ার মতো লক্ষণ থাকলেও অপেক্ষা করা উচিত নয়।
এ ছাড়া জ্বর, মুখ খুলতে বা গিলতে অসুবিধা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া কিংবা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিতে হবে।
মনে রাখতে হবে, ব্যথানাশক খেয়ে যন্ত্রণা কমে গেলেও দাঁতের ভেতরের সমস্যা থেকে যেতে পারে। বিশেষ করে সংক্রমণ হলে তা আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ঘরোয়া পদ্ধতিতে সাময়িক স্বস্তি পেলেও চিকিৎসা নিতে দেরি করা ঠিক নয়। দাঁতের ব্যথার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করে যথাসময়ে চিকিৎসা নেওয়াই দাঁত ও মাড়ি সুস্থ রাখার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।





















