পাঁচলাইশে দিনে-দুপুরে বাড়িতে হামলা ও লুটের অভিযোগ, তিনজন গ্রেফতার

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৫৪:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে
চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে দিনে-দুপুরে হামলা, ভাঙচুর ও নগদ টাকা-স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার তিন দিন পরও ডাকাতির পরিবর্তে চুরির মামলা নেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নুরুল কবির।
সোমবার (৩১ আগস্ট) গভীর রাতে চট্টগ্রামের চাঁন্দগাঁও ও পাঁচলাইশ থানার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন—পাঁচলাইশের ৭ নম্বর পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের হাদু মাঝির পাড়ার মো. রবি (২৮), একই এলাকার সফি আহমদের ছেলে আলাল আহমদ পারভেজ (২৮) এবং মৃত ইউনুছের ছেলে মো. ফয়সাল (২৮)।
গ্রেফতার অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া পাঁচলাইশ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
জুমার নামাজের সময় বাড়িতে ঢুকে লুটের অভিযোগ
থানা সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নুরুল কবিরের সঙ্গে অভিযুক্তদের পূর্ববিরোধ রয়েছে। বিভিন্ন ঘটনায় নুরুল কবির ও তাঁর স্ত্রী রুনা আক্তার রূপা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় একাধিক মামলা দায়ের করেছিলেন। এসব মামলার কয়েকটি আদালতে বিচারাধীন এবং কয়েকটি তদন্তাধীন রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের মামলাগুলোকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৮ আগস্ট শুক্রবার জুমার নামাজের সময় নুরুল কবিরের অনুপস্থিতিতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল তাঁর বাসায় হামলা চালায়।
পাঁচলাইশ থানার হাদুমাঝির পাড়ার সাবের মাস্টারের বাড়ির অজিফা ম্যানশনে অবস্থিত ওই বাসায় ঢোকার আগে হামলাকারীরা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নুরুল কবিরের দাবি, হামলাকারীরা তাঁর স্ত্রীকে হাত-পা বেঁধে বাথরুমে আটকে রাখে। পরে বাসা থেকে নগদ ৬ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, স্বর্ণালংকার, ল্যাপটপসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই পাঁচলাইশ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার দিনই তিনি কয়েকজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে ডাকাতির অভিযোগে থানায় লিখিত এজাহার দেন। তবে পুলিশ তিন দিন পর সেটি ডাকাতির পরিবর্তে চুরির মামলা হিসেবে গ্রহণ করে।
মামলাটি পাঁচলাইশ থানায় চুরি মামলা নম্বর ২৪(৮)২৬ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
রাতভর অভিযানে তিন আসামি গ্রেফতার
মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর পাঁচলাইশ থানার এসআই মো. সাজ্জাদ হোসেন অভিযান শুরু করেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত আড়াইটার দিকে চাঁন্দগাঁও থানার একটি এলাকা থেকে মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত ৩টার দিকে পাঁচলাইশের হাদুমাঝির পাড়া এলাকা থেকে আরও একজন এবং রাত সাড়ে ৩টার দিকে মাঝির দোকান এলাকা থেকে অপর একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলা তুলে নিতে হামলা ও হুমকির অভিযোগ
ভুক্তভোগী নুরুল কবিরের দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে সংঘটিত সর্বশেষ ঘটনাটি পূর্বের কয়েকটি মামলা তুলে নিতে চাপ প্রয়োগের ধারাবাহিকতার অংশ।
তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালে তাঁর বাসা থেকে ১৪ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করার পর থেকেই তিনি বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে পড়েন।
পরবর্তীতে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি এবং মামলা তুলে না নিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নুরুল কবিরের দাবি, গত জুনে তাঁকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে একটি রিকশার গ্যারেজে আটকে মারধর করা হয় এবং টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার পরদিন তাঁর ওপর আবারও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ তাঁর।
তিনি বলেন, হামলার সময় তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয় এবং তাঁর স্ত্রীকেও মারধর করা হয়। এসব ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও মূল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, এরপর থেকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে তাঁর ডিশ ও ইন্টারনেট ব্যবসার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হামলার আশঙ্কায় তিনি অন্যত্র বসবাস শুরু করলেও তাঁর স্ত্রী ও সন্তানরা ওই বাসায় থাকতেন।
‘সুস্পষ্ট ডাকাতির ঘটনায় চুরির মামলা কেন?’
পুলিশের মামলার ধরন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ব্যবসায়ী নুরুল কবির বলেন, “ডাকাতির ঘটনার পর পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সব আলামত সংগ্রহ করে। সুস্পষ্ট ডাকাতির ঘটনার পরও পুলিশ কেন ডাকাতির মামলা না নিয়ে চুরির মামলা নিলো, সেটা বুঝতে পারছি না।”
তিনি আরও বলেন, “পূর্বে দায়ের করা মামলাগুলোতে মূল আসামিদের গ্রেফতার করা না হওয়ায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। আমার ওপর বারবার হামলা চালিয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত বাসায় ঢুকে লুটপাটের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে।”
তিনজনকে গ্রেফতার করায় পুলিশের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করলেও মামলার অন্য অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।
ভুক্তভোগী বলেন, “পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। আশা করছি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”
তবে মামলাটি কেন ডাকাতির পরিবর্তে চুরির ধারায় নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ওঠা অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।



















