নির্যাতনে বাড়ি ছেড়ে যায় স্ত্রীও! মাদকের টাকার জন্য বাবাকে হত্যা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৩:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইলে নাগরপুরে ছেলের হাতে খুন হয়েছে ভ্যান চালক বাবা আব্দূর রহিম ভূঁইয়া (৫৫)। (৩০ আগস্ট) রোববার সকালে নাগরপুর উপজেলায় বেকড়া ইউনিয়নের এই ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অফিসার ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম।
জানা যায়, টাঙ্গাইলের নাগরপুরে বেকড়া ইউনিয়নের কোনাবাড়ি গ্রামের নিহত রহিম ভূঁইয়ার ছেলে মোস্তফা মাদকের টাকা না পেয়ে নির্মমভাবে পিতাকে হত্যা মারধর করে। এ সময় ভ্যান চালক রহিম ভূঁইয়া খাবার খেতে বসা ছিল। এরই এক পর্যায়ে মাদকাসক্ত ছেলে মোস্তফা বাবার কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় নিহতের পুত্র মোস্তফা মশলা বাটার শীল দিয়ে পিতার মাথায় আঘাত করে।
নিহতের স্ত্রী শিরিন বেগম জানান, ঘাতক মোস্তফা জেলার দেলদুয়ার উপজেলায় লাউহাটি গ্রামে ৬ মাস আগে বিয়ে করেছিল। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রীকে অমানুষিকভাবে নির্যাতন করত। এর ফলে স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। আজকে যে ঘটনা ঘটেছে এই ঘটনা আমরা বুঝতে না বুঝতেই পাশে থাকা শিল দিয়ে তার বাবাকে আঘাত করে। সেই আঘাতে আমার স্বামী মৃত্যু হয়েছে। এই নেশাখোর ঘাতক মোস্তফার উপযুক্ত বিচার চায় শিরিন বেগম। তা না হলে আমাদের পরিবারে কাউকে সে রেহাই দিবে না।
নিহতের মেয়ে সালমা জানান, আমার ভাই নেশা করতে করতে মানসিক রোগী হয়েছে। তাকে দমানোর মতো আমাদের পরিবারে কেউ ছিল না। যার ফলে যখন তখন তাকে টাকা দিতে হতো। সেই টাকা দিতে দেরি হলেই আমাদের উপর নেমে আসত অমানুষিক নির্যাতন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল কুদ্দুসের জানায়, নিহতের ছেলে দীর্ঘদিন যাবৎ মাদকাসক্ত। মাদকাসক্ত হওয়াতে বাড়ির সকল সদস্যকেই হুমকির মুখে রাখে। অন্যান্য দিনের মতোই আজকেও বাবার কাছে টাকা চান। বাবা সে সময় খাবার খেতে বসা ছিল। সেই খাবার খেতে অবস্থায় ছেলেকে টাকা দিতে গড়িমসি করেন এবং বাবার কষ্টের টাকার কথা উচ্চারণ করেন। সে সময় পাশে থাকা মশলা বাটার শীল হাতে নিয়ে বাবাকে মাথায় আঘাত করেন। আঘাতের ফলে রহিম ভূঁইয়া ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে এবং সেখানেই মৃত্যুবরণ করে।
নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করি। ঘটনাস্থল থেকে ছেলে ঘাতক মোস্তফা পলায়ন করেছে। এর ফলে তাকে গ্রেফতার করতে সম্ভব হয়নি। তবে তাকে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য ব্যবস্থা নিচ্ছি। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।





















