ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মেহেন্দিগঞ্জ শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে নিথর তরুণী! বেরিয়ে এলো সেই রাতের রহস্য ‘সিন্ডিকেট’ ভেঙে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলছে, ১০ হাজার কর্মী যাবেন বিনা খরচে সংসদকে দলীয় সংসদ বানানোর চেষ্টা করছে বিএনপি পটুয়াখালী জার্নালিস্ট ফোরামের সভাপতি নাবিল, সম্পাদক আমিনুল দুই বিয়ে টেকেনি, মাকে দায়ী করে নৃশংস হত্যা: ১৭ ঘণ্টায় শিক্ষক গ্রেপ্তার বিবিসির প্রতিবেদন/ তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিতে এত আগ্রহ কেন ভারতের? সরকারি ওষুধ নদীতে ফেলার সময় আটক, চালকের বিরুদ্ধেই চুরির মামলা! বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ ২০২৬-এর জমকালো সমাপনী জলসিঁড়ি প্রকল্পে জমি দখলের অভিযোগ, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে নিথর তরুণী! বেরিয়ে এলো সেই রাতের রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ১৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে অস্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তৈরি হওয়া রহস্যের কিছুটা জট খুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্য নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে ওই তরুণী জানিয়েছেন, তিনি এখন সুস্থ আছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে তিন আরোহীসহ একটি মোটরসাইকেল দেখতে পান মুফতি মনোয়ার হোসেন। ওমরাহ শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে তিনি মোটরসাইকেলটি অনুসরণ করছিলেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে ছিলেন। তরুণীর দুই পা খালি এবং অস্বাভাবিকভাবে ঝুলে থাকায় তাকে মৃত কিংবা অচেতন বলে সন্দেহ হয়। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে তদন্ত

মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে এর মালিকানা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জানা যায়, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। এ ঘটনায় দুটি মোবাইল নম্বরের তথ্যও পাওয়া যায়।

এর একটি নম্বরের শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটির মালিক এক শোরুম ব্যবসায়ী। তবে তার দাবি, মোটরসাইকেলটি তার শোরুম থেকে বিক্রি হয়নি এবং কীভাবে তার মোবাইল নম্বর মোটরসাইকেলের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হলো, তা তিনি জানেন না। অন্য নম্বরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের মালিকের বাড়ি আব্দুল্লাহপুর হলেও সেদিন চালকের আসনে থাকা ব্যক্তির বাড়ি রাজেন্দ্রপুর। তার নামের শেষাংশ ‘আলম’ বলে জানা গেছে।

ঝগড়ার পর বেরিয়ে যান তরুণী

তরুণীর বড় বোনের স্বামীর ভাষ্য, ওই তরুণীকে ‘মিতু’ নামে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারিবারিক ঝগড়ার পর রাগ করে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরে আলম নামের ওই যুবকের সঙ্গে তিনি পানীয় গ্রহণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

আলম তরুণীর স্বামী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিয়ে করবে বলে শুনেছি।”

তার দাবি, বারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আলম ও তার এক বন্ধু তরুণীকে নিয়ে টঙ্গীতে তার বাসায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই অবস্থায় টঙ্গী না গিয়ে তারা মিরপুরে ফিরে যান। পরে সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় তরুণীকে রেখে আলম তার বোনকে ফোন করেন।

এখন সুস্থ তরুণী

ওই তরুণীর আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল বলেও জানা গেছে। তার সাবেক এক স্বামী তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ওই তরুণী জানান, তিনি এখন সুস্থ আছেন। তবে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি। পরে দেখা করে বিস্তারিত জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন।

ফলে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে তাকে অচেতন বা মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তা সত্য নয় বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে ওই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তরুণী কীভাবে অসুস্থ হলেন এবং তাকে কেন ওইভাবে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল—এসব প্রশ্নের পুরোপুরি উত্তর পেতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও ঘটনার আরও তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে নিথর তরুণী! বেরিয়ে এলো সেই রাতের রহস্য

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৩:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে এক তরুণীকে অস্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তৈরি হওয়া রহস্যের কিছুটা জট খুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দৃশ্য নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে ওই তরুণী জানিয়েছেন, তিনি এখন সুস্থ আছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে তিন আরোহীসহ একটি মোটরসাইকেল দেখতে পান মুফতি মনোয়ার হোসেন। ওমরাহ শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে তিনি মোটরসাইকেলটি অনুসরণ করছিলেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের পেছনে বসা এক যুবক এক তরুণীকে জাপটে ধরে ছিলেন। তরুণীর দুই পা খালি এবং অস্বাভাবিকভাবে ঝুলে থাকায় তাকে মৃত কিংবা অচেতন বলে সন্দেহ হয়। বিষয়টি নিয়ে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

মোটরসাইকেলের সূত্র ধরে তদন্ত

মোটরসাইকেলের নম্বর প্লেটের তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে এর মালিকানা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। জানা যায়, মোটরসাইকেলটির মালিকের বাড়ি কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে। এ ঘটনায় দুটি মোবাইল নম্বরের তথ্যও পাওয়া যায়।

এর একটি নম্বরের শেষ তিন সংখ্যা ১৫২। নম্বরটির মালিক এক শোরুম ব্যবসায়ী। তবে তার দাবি, মোটরসাইকেলটি তার শোরুম থেকে বিক্রি হয়নি এবং কীভাবে তার মোবাইল নম্বর মোটরসাইকেলের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হলো, তা তিনি জানেন না। অন্য নম্বরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের মালিকের বাড়ি আব্দুল্লাহপুর হলেও সেদিন চালকের আসনে থাকা ব্যক্তির বাড়ি রাজেন্দ্রপুর। তার নামের শেষাংশ ‘আলম’ বলে জানা গেছে।

ঝগড়ার পর বেরিয়ে যান তরুণী

তরুণীর বড় বোনের স্বামীর ভাষ্য, ওই তরুণীকে ‘মিতু’ নামে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারিবারিক ঝগড়ার পর রাগ করে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। পরে আলম নামের ওই যুবকের সঙ্গে তিনি পানীয় গ্রহণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাসায় পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

আলম তরুণীর স্বামী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিয়ে করবে বলে শুনেছি।”

তার দাবি, বারে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর আলম ও তার এক বন্ধু তরুণীকে নিয়ে টঙ্গীতে তার বাসায় যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু ওই অবস্থায় টঙ্গী না গিয়ে তারা মিরপুরে ফিরে যান। পরে সেখানে এক বান্ধবীর বাসায় তরুণীকে রেখে আলম তার বোনকে ফোন করেন।

এখন সুস্থ তরুণী

ওই তরুণীর আগে দুটি বিয়ে হয়েছিল বলেও জানা গেছে। তার সাবেক এক স্বামী তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে ওই তরুণী জানান, তিনি এখন সুস্থ আছেন। তবে বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি। পরে দেখা করে বিস্তারিত জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন।

ফলে মধ্যরাতে মোটরসাইকেলে তাকে অচেতন বা মৃত অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, আপাতত তা সত্য নয় বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে ওই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তরুণী কীভাবে অসুস্থ হলেন এবং তাকে কেন ওইভাবে মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল—এসব প্রশ্নের পুরোপুরি উত্তর পেতে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও ঘটনার আরও তথ্য সামনে আসা প্রয়োজন।