ঢাকা ১০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অসহায় বৃদ্ধের পাশে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ ফাউন্ডেশন ব্যাংক থেকে ব্যাংকে টাকা লেনদেনে নতুন ফি নির্ধারণ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সমাজ কল্যাণ পরিষদের পরিচিতি সভা ও শপথ পানি সরবরাহের প্রযুক্তি শিখতে ৫৪ দিনের জাপান সফরে ওয়াসার স্টোর ও কেনাকাটার কর্মকর্তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় রাজপথে আন্দোলন যানজট কমাতে ইনার সার্কুলার রিং রোড ও বৃত্তাকার নৌপথে জোর প্রধানমন্ত্রীর সিন্দুক নয়, এখন কম্পিউটার নিরাপত্তাই বড় চ্যালেঞ্জ: তথ্যমন্ত্রী জানালার গ্রিল কেটে বিচারকের বাসায় চুরি ইন্টারনেট নেই, তবুও বিল: ৬৫৪ স্কুলে সরকারি অর্থ উত্তোলন হাতের টানেই উঠে যাচ্ছে কার্পেটিং  

পানি সরবরাহের প্রযুক্তি শিখতে ৫৪ দিনের জাপান সফরে ওয়াসার স্টোর ও কেনাকাটার কর্মকর্তারা

চট্টগ্রাম ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম নগরীতে প্রতিদিন পানির ঘাটতি প্রায় ১১ কোটি লিটার। সপ্তাহে দুই দিন পানি সরবরাহের কথা থাকলেও নগরীর অনেক এলাকায় ১৫ দিনেও পানির দেখা মেলে না। ঠিক এই সংকটের মধ্যেই পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সামগ্রিক প্রকৌশল বিষয়ে ৫৪ দিনের প্রশিক্ষণে জাপানে গেছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার দুই কর্মকর্তা। তবে তাঁদের কেউই পানি উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন। একজন ক্রয় শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী, অন্যজন স্টোর বা ভান্ডার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। দায়িত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুর এই অসামঞ্জস্য নিয়ে ওয়াসার ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে।

ctg

৫৪ দিনের জাপান ভ্রমণ
গত ১০ জুন চট্টগ্রাম ওয়াসার সচিব শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ‘কমপ্রিহেনসিভ ইঞ্জিনিয়ারিং অন ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেমস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে দুই কর্মকর্তাকে জাপান সফরের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণটি গত ১৬ জুন থেকে শুরু হয়ে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে, যাতায়াতের সময় এর বাইরে। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণকাল সরকারি দায়িত্ব হিসেবে গণ্য হবে এবং এ সময় কর্মকর্তারা স্থানীয় মুদ্রায় বেতন, সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন। সফর ও প্রশিক্ষণের সব ব্যয় বহন করবে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, এ জন্য বাংলাদেশ সরকারের কোনো ব্যয় হবে না। প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ছক অনুযায়ী পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

কারা গেলেন প্রশিক্ষণে
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া দুই কর্মকর্তার একজন কেয়া চৌধুরী, যিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে চট্টগ্রাম ওয়াসার ক্রয় শাখায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। সংস্থার সব কেনাকাটা ও টেন্ডার-সংক্রান্ত কার্যক্রম তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। অন্য কর্মকর্তা এসএম রুবাইয়াতুল কাদের প্রায় দুই বছর ধরে ভান্ডার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত এবং ওয়াসার স্টোর-সংক্রান্ত কার্যক্রমের দায়িত্বও তাঁর ওপর। অর্থাৎ পানি উৎপাদন বা সরবরাহের প্রকৌশলগত কাজের সঙ্গে দুই কর্মকর্তার কারোরই দৈনন্দিন দায়িত্বের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সামগ্রিক প্রকৌশল একটি সমন্বিত পরিবেশ প্রকৌশল ব্যবস্থা, যার আওতায় উৎস থেকে পানি সংগ্রহ, শোধন, পাইপলাইন নকশা ও পরিচালনা, বিতরণ ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ, পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, লিকেজ ও অপচয় কমানো এবং প্রকল্প পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ওয়াসার সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রকৌশলবিষয়ক এই প্রশিক্ষণে এমন কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে, যাঁদের দৈনন্দিন দায়িত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুর সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাঁদের মতে, বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি এ ধরনের প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এমডির উল্টো প্রশ্ন ‘গেলে সমস্যা কোথায়’
স্টোর ও ক্রয় শাখার কর্মকর্তাদের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রকৌশলবিষয়ক প্রশিক্ষণে পাঠানোর যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য জাইকা ও স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং কেবল চট্টগ্রাম নয়, সারা বাংলাদেশ থেকেই কর্মকর্তারা এতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর প্রশ্ন, চট্টগ্রাম থেকে গেলে সমস্যা কোথায়?

কোরিয়ার প্রকল্প ‘শিখতে’ চীনে ‘বিলাসী’ সফর
এর আগে ‘পানির ব্যবহার ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা’ বিষয়ে ১১ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ১৪ দিনের প্রশিক্ষণে চীনে যান চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম ও কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-২–এর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রবিউল হোসেন। তবে যে ৫ হাজার ২১৯ কোটি টাকার সুয়ারেজ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এই প্রশিক্ষণ, সেটির কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তায়ং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড’। অথচ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে চীন।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের কেউই সুয়ারেজ প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন। প্রকল্পে কর্মরত সুয়ারেজ প্রকৌশলীদের কাউকে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত না করায় ওয়াসার ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই সফরকে ‘বিলাস ভ্রমণ’ বলেও মন্তব্য করেছেন। সফরকাল সরকারি দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

জাইকার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক, চলমান একাধিক প্রকল্প
চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে জাইকার সঙ্গে সংস্থাটির কাজ শুরু হয়। প্রথম ধাপে দৈনিক ১৪৩ মিলিয়ন লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার, ৬৭ কিলোমিটার পাইপলাইন, দুটি বড় রিজার্ভার এবং একটি ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে আরও একটি ১৪৩ মিলিয়ন লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার, নতুন রিজার্ভার, ওভারহেড ট্যাংক, ৭৫০ কিলোমিটার বিতরণ পাইপলাইন, ৫৯টি ডিস্ট্রিক্ট মিটারড এরিয়া এবং আধুনিক বিতরণব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে জাইকার অর্থায়নে চট্টগ্রাম ওয়াসার চারটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।

সম্প্রতি ওয়াসা কার্যালয়ে জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো, রিপ্রেজেন্টেটিভ হিদেকি ওসাওয়া এবং উপ-প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ বিন হোসাইনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম। ওই বৈঠকে তিনি কর্ণফুলী পানি শোধনাগার এলাকায় অতিরিক্ত ১০০ মিলিয়ন লিটার পানি শোধনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় জাইকার সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে তিনি জানান, জাইকার অর্থায়নে কালুরঘাট ও বাকলিয়া এলাকায় পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পের কাজও চলছে।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। চট্টগ্রাম নগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৬৫ কোটি লিটার হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪৫ থেকে ৪৬ কোটি লিটার, যেখানে ওয়াসার উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ থেকে ৫১ কোটি লিটার। বর্তমানে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-১ ও ২ থেকে ২৮ কোটি লিটার, মদুনাঘাট পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার, মোহরা পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার এবং গভীর নলকূপ থেকে ৪ থেকে ৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদিত হচ্ছে।

এই ঘাটতি পূরণে ওয়াসা নিজস্ব অর্থায়নে ৩০টি গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। এই প্রকল্প শেষ হলে আরও ১৫টি নলকূপ স্থাপন করা হবে। আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে ৪৫টি গভীর নলকূপ থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৪ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের আশা করছে সংস্থাটি। কয়েকটি নলকূপে ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পানি সরবরাহের প্রযুক্তি শিখতে ৫৪ দিনের জাপান সফরে ওয়াসার স্টোর ও কেনাকাটার কর্মকর্তারা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৭:৫১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরীতে প্রতিদিন পানির ঘাটতি প্রায় ১১ কোটি লিটার। সপ্তাহে দুই দিন পানি সরবরাহের কথা থাকলেও নগরীর অনেক এলাকায় ১৫ দিনেও পানির দেখা মেলে না। ঠিক এই সংকটের মধ্যেই পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সামগ্রিক প্রকৌশল বিষয়ে ৫৪ দিনের প্রশিক্ষণে জাপানে গেছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার দুই কর্মকর্তা। তবে তাঁদের কেউই পানি উৎপাদন বা সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন। একজন ক্রয় শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী, অন্যজন স্টোর বা ভান্ডার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী। দায়িত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুর এই অসামঞ্জস্য নিয়ে ওয়াসার ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে।

ctg

৫৪ দিনের জাপান ভ্রমণ
গত ১০ জুন চট্টগ্রাম ওয়াসার সচিব শাহিদা ফাতেমা চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ‘কমপ্রিহেনসিভ ইঞ্জিনিয়ারিং অন ওয়াটার সাপ্লাই সিস্টেমস’ শীর্ষক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে দুই কর্মকর্তাকে জাপান সফরের অনুমতি দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণটি গত ১৬ জুন থেকে শুরু হয়ে আগামী ৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে, যাতায়াতের সময় এর বাইরে। অফিস আদেশে বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণকাল সরকারি দায়িত্ব হিসেবে গণ্য হবে এবং এ সময় কর্মকর্তারা স্থানীয় মুদ্রায় বেতন, সম্মানী ও অন্যান্য ভাতা পাবেন। সফর ও প্রশিক্ষণের সব ব্যয় বহন করবে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, এ জন্য বাংলাদেশ সরকারের কোনো ব্যয় হবে না। প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত ছক অনুযায়ী পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

কারা গেলেন প্রশিক্ষণে
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া দুই কর্মকর্তার একজন কেয়া চৌধুরী, যিনি প্রায় পাঁচ বছর ধরে চট্টগ্রাম ওয়াসার ক্রয় শাখায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত। সংস্থার সব কেনাকাটা ও টেন্ডার-সংক্রান্ত কার্যক্রম তাঁর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। অন্য কর্মকর্তা এসএম রুবাইয়াতুল কাদের প্রায় দুই বছর ধরে ভান্ডার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত এবং ওয়াসার স্টোর-সংক্রান্ত কার্যক্রমের দায়িত্বও তাঁর ওপর। অর্থাৎ পানি উৎপাদন বা সরবরাহের প্রকৌশলগত কাজের সঙ্গে দুই কর্মকর্তার কারোরই দৈনন্দিন দায়িত্বের সরাসরি সম্পর্ক নেই।

পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সামগ্রিক প্রকৌশল একটি সমন্বিত পরিবেশ প্রকৌশল ব্যবস্থা, যার আওতায় উৎস থেকে পানি সংগ্রহ, শোধন, পাইপলাইন নকশা ও পরিচালনা, বিতরণ ব্যবস্থা, রক্ষণাবেক্ষণ, পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, লিকেজ ও অপচয় কমানো এবং প্রকল্প পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ওয়াসার সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রকৌশলবিষয়ক এই প্রশিক্ষণে এমন কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে, যাঁদের দৈনন্দিন দায়িত্বের সঙ্গে প্রশিক্ষণের বিষয়বস্তুর সরাসরি সম্পর্ক নেই। তাঁদের মতে, বিদেশে দীর্ঘমেয়াদি এ ধরনের প্রশিক্ষণের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

এমডির উল্টো প্রশ্ন ‘গেলে সমস্যা কোথায়’
স্টোর ও ক্রয় শাখার কর্মকর্তাদের পানি সরবরাহ ব্যবস্থার প্রকৌশলবিষয়ক প্রশিক্ষণে পাঠানোর যৌক্তিকতা সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণের জন্য জাইকা ও স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং কেবল চট্টগ্রাম নয়, সারা বাংলাদেশ থেকেই কর্মকর্তারা এতে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর প্রশ্ন, চট্টগ্রাম থেকে গেলে সমস্যা কোথায়?

কোরিয়ার প্রকল্প ‘শিখতে’ চীনে ‘বিলাসী’ সফর
এর আগে ‘পানির ব্যবহার ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা’ বিষয়ে ১১ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত ১৪ দিনের প্রশিক্ষণে চীনে যান চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম ও কর্ণফুলী পানি শোধনাগার প্রকল্প-২–এর নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম রবিউল হোসেন। তবে যে ৫ হাজার ২১৯ কোটি টাকার সুয়ারেজ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে এই প্রশিক্ষণ, সেটির কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়ার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘তায়ং ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড’। অথচ প্রশিক্ষণের আয়োজন করেছে চীন।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কর্মকর্তাদের কেউই সুয়ারেজ প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন। প্রকল্পে কর্মরত সুয়ারেজ প্রকৌশলীদের কাউকে প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত না করায় ওয়াসার ভেতরেই প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই সফরকে ‘বিলাস ভ্রমণ’ বলেও মন্তব্য করেছেন। সফরকাল সরকারি দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

জাইকার সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্ক, চলমান একাধিক প্রকল্প
চট্টগ্রাম ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৬ সালে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে জাইকার সঙ্গে সংস্থাটির কাজ শুরু হয়। প্রথম ধাপে দৈনিক ১৪৩ মিলিয়ন লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার, ৬৭ কিলোমিটার পাইপলাইন, দুটি বড় রিজার্ভার এবং একটি ওভারহেড ট্যাংক নির্মাণ করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে আরও একটি ১৪৩ মিলিয়ন লিটার ক্ষমতাসম্পন্ন পানি শোধনাগার, নতুন রিজার্ভার, ওভারহেড ট্যাংক, ৭৫০ কিলোমিটার বিতরণ পাইপলাইন, ৫৯টি ডিস্ট্রিক্ট মিটারড এরিয়া এবং আধুনিক বিতরণব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। বর্তমানে জাইকার অর্থায়নে চট্টগ্রাম ওয়াসার চারটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।

সম্প্রতি ওয়াসা কার্যালয়ে জাইকা বাংলাদেশের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ তাকাহাশি জুনকো, রিপ্রেজেন্টেটিভ হিদেকি ওসাওয়া এবং উপ-প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. আব্দুল্লাহ বিন হোসাইনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম। ওই বৈঠকে তিনি কর্ণফুলী পানি শোধনাগার এলাকায় অতিরিক্ত ১০০ মিলিয়ন লিটার পানি শোধনের লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা সমীক্ষায় জাইকার সহযোগিতা চান। একই সঙ্গে তিনি জানান, জাইকার অর্থায়নে কালুরঘাট ও বাকলিয়া এলাকায় পয়োনিষ্কাশন প্রকল্পের কাজও চলছে।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। চট্টগ্রাম নগরীতে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৬৫ কোটি লিটার হলেও বর্তমানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৪৫ থেকে ৪৬ কোটি লিটার, যেখানে ওয়াসার উৎপাদন সক্ষমতা ৫০ থেকে ৫১ কোটি লিটার। বর্তমানে কর্ণফুলী পানি সরবরাহ প্রকল্প-১ ও ২ থেকে ২৮ কোটি লিটার, মদুনাঘাট পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার, মোহরা পানি শোধনাগার থেকে ৯ কোটি লিটার এবং গভীর নলকূপ থেকে ৪ থেকে ৫ কোটি লিটার পানি উৎপাদিত হচ্ছে।

এই ঘাটতি পূরণে ওয়াসা নিজস্ব অর্থায়নে ৩০টি গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। এই প্রকল্প শেষ হলে আরও ১৫টি নলকূপ স্থাপন করা হবে। আগামী চার থেকে পাঁচ মাসের মধ্যে ৪৫টি গভীর নলকূপ থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৪ কোটি লিটার পানি উৎপাদনের আশা করছে সংস্থাটি। কয়েকটি নলকূপে ইতিমধ্যে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছে।