জোড়া ভূমিকম্পে এখনও পর্যন্ত ২৩৫ জনের মৃত্যু
লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, ভেনেজুয়েলা জুড়ে হাহাকার

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
ভেনেজুয়েলায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন। দেশটির কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া ২৩৫ জনের অধিকাংশকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে।
ভেনেজুয়েলা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী কারাকাস ও ক্যারিবীয় উপকূলীয় বন্দরনগরী লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ২৫০টি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো ২০০-এর বেশি মানুষ আটকে রয়েছেন এবং ১৫৭ জন নিখোঁজ বলে জানিয়েছে দেশটির ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির প্রেসিডেন্ট জর্জ রদ্রিগেজ।
উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে প্রশাসন। সেনাবাহিনী, দমকল ও উদ্ধারকর্মীরা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে ভূমিকম্পের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই কমছে।
ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণে ভেনেজুয়েলার প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বহু এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। স্কুলগুলো বন্ধ রেখে সেগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়েছে। আতঙ্কে হাজারো মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছেন।
এদিকে দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তার হাত বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রাজিল, মেক্সিকো, কানাডা, কাতার ও পর্তুগাল। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ইতোমধ্যে উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক জানিয়েছেন, তার প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক আগামী এক মাস ভেনেজুয়েলায় বিনামূল্যে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা দেবে।
বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। প্রথমটির মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭.২ এবং দ্বিতীয়টির ৭.৫। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি গত এক শতাব্দীতে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি।
ভূমিকম্পের কম্পন শুধু ভেনেজুয়েলাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; প্রতিবেশী ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানেও তা অনুভূত হয়েছে। ভূকম্পবিদদের মতে, দক্ষিণ আমেরিকান ও ক্যারিবীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করলেও ভেনেজুয়েলায় এত শক্তিশালী ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে বিরল। তবে এবারের জোড়া ভূমিকম্প দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।






















