ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলা, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত ১১

গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬ ৭৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ওপর দফায় দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। হামলার সময় একটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগও করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের চর হোগলপাতিয়া গ্রামে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভ্যানচালক কবির হোসেন চৌকিদার জানান, পৈতৃক সম্পত্তি ভাগাভাগির পর একটি পুকুর ভরাট করে বসতঘর নির্মাণের বিষয়ে তার দুই ভাই জলিল চৌকিদার ও হুমায়ুন চৌকিদারের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে নিজ উদ্যোগে পুকুরের একটি অংশ ভরাট করে তিনি নতুন ঘর নির্মাণ করেন এবং সেখানে ওঠার জন্য দোয়া-মিলাদের আয়োজন করেন।

কবির হোসেনের স্ত্রী মায়া বেগম, যিনি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইসমাইল হোসেন খানের মেয়ে, অভিযোগ করেন—পুকুর ভরাটের বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষ প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মিতু খানম, তিন জামাতা আশিক খান, কামাল হোসেন ও রিয়াজ মল্লিক আহত হন। হামলার সময় নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।

পরদিন সকালে দ্বিতীয় দফায় হামলায় তাদের আরও দুই মেয়ে শারমিন বেগম ও নিপা আক্তার আহত হন বলে দাবি করেন মায়া বেগম।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ রোববার দুপুরে তৃতীয় দফায় হামলা চালায়। এ সময় কবির হোসেন, তার স্ত্রী, ছেলে মাহিম, শ্যালক জামাল খান এবং জামালের ছেলে শাহাদাত খানকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসা প্রতিবেশী শিল্পী বেগম বুলিও আহত হন।

জামাল খান অভিযোগ করেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও তাদের সামনেই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন বলেও দাবি করেন। তার অভিযোগ, ওই সময় পুলিশ কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি।

অন্যদিকে অভিযুক্ত জয়নাল চৌকিদার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সম্পত্তি নিয়ে তার সঙ্গে কবির হোসেনের বিরোধ রয়েছে। সে কারণে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে।

তবে অভিযুক্ত জলিল ও হুমায়ুন চৌকিদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে আগরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দুই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের ওপর হামলা, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ আহত ১১

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৪:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় সম্পত্তি বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের ওপর দফায় দফায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। হামলার সময় একটি বসতঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও মামলা নিতে গড়িমসির অভিযোগও করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে বাবুগঞ্জ উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের চর হোগলপাতিয়া গ্রামে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভ্যানচালক কবির হোসেন চৌকিদার জানান, পৈতৃক সম্পত্তি ভাগাভাগির পর একটি পুকুর ভরাট করে বসতঘর নির্মাণের বিষয়ে তার দুই ভাই জলিল চৌকিদার ও হুমায়ুন চৌকিদারের সঙ্গে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে নিজ উদ্যোগে পুকুরের একটি অংশ ভরাট করে তিনি নতুন ঘর নির্মাণ করেন এবং সেখানে ওঠার জন্য দোয়া-মিলাদের আয়োজন করেন।

কবির হোসেনের স্ত্রী মায়া বেগম, যিনি যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ইসমাইল হোসেন খানের মেয়ে, অভিযোগ করেন—পুকুর ভরাটের বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষ প্রথমে তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মিতু খানম, তিন জামাতা আশিক খান, কামাল হোসেন ও রিয়াজ মল্লিক আহত হন। হামলার সময় নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করেন তিনি।

পরদিন সকালে দ্বিতীয় দফায় হামলায় তাদের আরও দুই মেয়ে শারমিন বেগম ও নিপা আক্তার আহত হন বলে দাবি করেন মায়া বেগম।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ রোববার দুপুরে তৃতীয় দফায় হামলা চালায়। এ সময় কবির হোসেন, তার স্ত্রী, ছেলে মাহিম, শ্যালক জামাল খান এবং জামালের ছেলে শাহাদাত খানকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসা প্রতিবেশী শিল্পী বেগম বুলিও আহত হন।

জামাল খান অভিযোগ করেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও তাদের সামনেই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি একটি পুকুরে ঝাঁপ দেন বলেও দাবি করেন। তার অভিযোগ, ওই সময় পুলিশ কার্যকর ভূমিকা পালন করেনি।

অন্যদিকে অভিযুক্ত জয়নাল চৌকিদার হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সম্পত্তি নিয়ে তার সঙ্গে কবির হোসেনের বিরোধ রয়েছে। সে কারণে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ ঘটনায় জড়ানো হচ্ছে।

তবে অভিযুক্ত জলিল ও হুমায়ুন চৌকিদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার বলেন, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে আগরপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।