ঢাকা ১০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টেবিলে মাথা নোয়ানো অবস্থায় ছিল চিকিৎসকের মরদেহ, দুর্গন্ধে মিলল নিঃসঙ্গ মৃত্যুর রহস্য

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি

বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজধানীর ব্যস্ত শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কারের একটি কক্ষ। বাইরে মানুষের চলাচল, স্বাভাবিক দিনের ব্যস্ততা। কিন্তু সেই কক্ষের ভেতরে কয়েক দিন ধরে নিঃশব্দে পড়ে ছিল একজন চিকিৎসকের মরদেহ।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে কক্ষটি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি নজরে আসে আশপাশের মানুষের। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে উদ্ধার করা হয় নারী চিকিৎসক ফারাহ ফেরদৌসের মরদেহ।

৩২ বছর বয়সী ফারাহ ছিলেন ৩৯তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) কার্ডিওভাসকুলার কোর্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। মানুষের জীবন বাঁচানোর পেশায় থাকা এই চিকিৎসকের নিজের জীবনই থেমে গেল এক নিঃসঙ্গ কক্ষে।

পুলিশ জানায়, কক্ষের ভেতরে ফারাহকে টেবিলের ওপর মাথা নোয়ানো অবস্থায় খাটের ওপর বসে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। মরদেহে পচন ধরেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

খুলনার ফুলতলার বাসিন্দা ফারাহ ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আবদুর রশীদের দুই মেয়ের মধ্যে বড়। তার ছোট বোন নজুলা ফেরদৌসও একজন চিকিৎসক এবং বিএমইউতে নিউরোসার্জারি কোর্সে পড়ছেন।

বোনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল গত মঙ্গলবার। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। লোকমুখে খবর পেয়ে নজুলা ছুটে যান শাহবাগ থানায়। পরে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিশ্চিত হন, হারিয়ে গেছেন তার বড় বোন।

ফারাহর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন, সহকর্মী ও পরিচিতদের মধ্যে নেমে এসেছে শোক। যে মানুষটি অন্যের হৃদস্পন্দন ঠিক রাখতে চিকিৎসা শিখছিলেন, তার নিজের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো কেটেছে একা।

তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একটি বন্ধ দরজার ওপারে কয়েক দিন ধরে পড়ে থাকা এই চিকিৎসকের মরদেহ শুধু একটি মৃত্যুর খবর নয়, বরং ব্যস্ত নগর জীবনে একাকীত্বের এক মর্মান্তিক বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) একরামুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে ফারাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

টেবিলে মাথা নোয়ানো অবস্থায় ছিল চিকিৎসকের মরদেহ, দুর্গন্ধে মিলল নিঃসঙ্গ মৃত্যুর রহস্য

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২২:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

রাজধানীর ব্যস্ত শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কারের একটি কক্ষ। বাইরে মানুষের চলাচল, স্বাভাবিক দিনের ব্যস্ততা। কিন্তু সেই কক্ষের ভেতরে কয়েক দিন ধরে নিঃশব্দে পড়ে ছিল একজন চিকিৎসকের মরদেহ।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে কক্ষটি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বিষয়টি নজরে আসে আশপাশের মানুষের। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে উদ্ধার করা হয় নারী চিকিৎসক ফারাহ ফেরদৌসের মরদেহ।

৩২ বছর বয়সী ফারাহ ছিলেন ৩৯তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের কর্মকর্তা। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) কার্ডিওভাসকুলার কোর্সের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। মানুষের জীবন বাঁচানোর পেশায় থাকা এই চিকিৎসকের নিজের জীবনই থেমে গেল এক নিঃসঙ্গ কক্ষে।

পুলিশ জানায়, কক্ষের ভেতরে ফারাহকে টেবিলের ওপর মাথা নোয়ানো অবস্থায় খাটের ওপর বসে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়। মরদেহে পচন ধরেছিল। ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

খুলনার ফুলতলার বাসিন্দা ফারাহ ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক আবদুর রশীদের দুই মেয়ের মধ্যে বড়। তার ছোট বোন নজুলা ফেরদৌসও একজন চিকিৎসক এবং বিএমইউতে নিউরোসার্জারি কোর্সে পড়ছেন।

বোনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল গত মঙ্গলবার। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। লোকমুখে খবর পেয়ে নজুলা ছুটে যান শাহবাগ থানায়। পরে পুলিশের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়ে নিশ্চিত হন, হারিয়ে গেছেন তার বড় বোন।

ফারাহর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন, সহকর্মী ও পরিচিতদের মধ্যে নেমে এসেছে শোক। যে মানুষটি অন্যের হৃদস্পন্দন ঠিক রাখতে চিকিৎসা শিখছিলেন, তার নিজের জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো কেটেছে একা।

তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

একটি বন্ধ দরজার ওপারে কয়েক দিন ধরে পড়ে থাকা এই চিকিৎসকের মরদেহ শুধু একটি মৃত্যুর খবর নয়, বরং ব্যস্ত নগর জীবনে একাকীত্বের এক মর্মান্তিক বাস্তবতারও প্রতিচ্ছবি।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) একরামুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে ফারাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।