রায়পুরে একই পরিবারের ৪ জনকে হত্যায় ঘটনায় মামলা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৯:৫২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর পৌর শহরের একটি বাসায় ঢুকে মা ও তিন মেয়েকে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে নিহত পরিবারের একমাত্র জীবিত ছেলে জুনাইদ ইসলাম সিফাত (১৮) বাদী হয়ে রায়পুর থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে এদিন বিকেলে রায়পুর শহরের ধানহাটা সড়কে নিহত চারজনের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে হাজার হাজার লোক উপস্থিত ছিলেন। পরে মৃতদেহগুলো গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলাতে নিয়ে যাওয়া হয়, সেখানে দাফন করা হবে। শুক্রবার দুপুরে জেলা সদর হাসপাতালে চার মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) অরুপ পাল সাংবাদিকদের জানান, চারটি মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। নিহতদের হাতে, মাথায় এবং বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাদের মৃত্যু হয়। অরুপ পাল আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের কোন আলামত পাওয়া যায়নি। তবে আমরা নমুনা সংগ্রহ করেছি। প্রতিবেদন পেলে বিস্তারিত বলা যাবে। এদিকে চারজনের ময়নাতদন্তের পর মরদেহ দুপুরে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত শাহিনুর আক্তারের মৃত স্বামী কামাল হোসেনের ভাই কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লটিয়া গ্রামের বাসিন্দা অটোরিকশা চালক জামাল হোসেন মৃতদেহ গ্রহন করেন।
জামাল হোসেন বলেন, আমার ভাই ছয় বছর আগে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মারা গেল। তার চার সন্তানসহ আমার ভাইয়ের স্ত্রী রায়পুর শহরেই ভাড়া থাকতো। আমার তিন ভাতিজি ও ভাতিজা অত্যন্ত মেধাবী। তারা লেখাপড়া করতো। ভাতিজা লেখাপড়ার পাশাপাশি গত ছয় মাস ধরে চাকরী করতো।
তিনি জানান, তার ভাইয়ের মৃত্যুর পর তার ভাবী ছেলে মেয়েদেরকে নিয়ে মাঝে মধ্যে গ্রামের বাড়িতে যেত। তাদের সাথে মাঝে মধ্যে যোগাযোগ হতো।কি কারণে এবং কেন তারা খুন হয়েছে সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে লক্ষ্মীপুর শহরের রায়পুর শহরের ধানহাটা সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীর পাড়ে থাকা একটি ভাড়া বাসায় ঘাতক শাহিনুর আক্তার (৩৮) এবং তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২০), মেঝো মেয়ে নাফিসা আক্তার ইকরা (১৬) ও ছোট মেয়ে সিফা আক্তারকে (৯) কুপিয়ে হত্যা করে। পরে স্থানীয় লোকজনের গণপিটুনিতে মারা যায় সন্দেহভাজন অভিযুক্ত অন্তর মজুমদার, সে তাদের পূর্ব পরিচিত ছিল। তবে ঘটনাটি কেন ঘটেছে, সে বিষয়টি এখনো আজানা রয়ে গেছে। সন্দেহভাজন ব্যাক্তির মৃত্যু হওয়ায় পুলিশ এখনো রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।
পরিবারের একমাত্র জীবিত শাহিনুরের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম সিফাত জানান, ঘটনাটি টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেও হতে পারে। কারণ বাড়িওয়ালা না থাকলে আম্মুর কাছে সবাই ভাড়া দিতো। পরে বাড়িওয়ালা নিয়ে যেতো। এছাড়া বাসার দায়িত্বে ছিল আম্মু। বাসা ছেড়ে এখান থেকে যাওয়ার পর অন্তরকে আর কখনো আসতে দেখিনি। রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মিয়া বলেন, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। কি কারণে ঘটনাটি ঘটেছে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না।



















