ঢাকা ০২:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মাদক প্রতিরোধে আসছে নতুন আইন, সংসদে উঠছে সংশোধনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার দাবি শাহজালালের মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ১২ সদস্যের কমিটি মাদকের ভয়াবহ ছোবলে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে: ভুমিমন্ত্রী মিনু লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, ভেনেজুয়েলা জুড়ে হাহাকার গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে ভাতা দেওয়া হবে: মির্জা ফখরুল টাঙ্গাইলে শিশুদের নিয়ে দেশীয় ফল উৎসব নকআউটে ব্রাজিলের সামনে জাপান, কবে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা-জার্মানি প্রথম এশীয় দল হিসেবে নকআউটে জাপান বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে প্রথম শর্ত আইনের শাসন

নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার দাবি

রাজশাহী ব্যুরো
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নির্যাতন প্রতিরোধ শুধু আইন প্রণয়নের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তারা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও এর অপশনাল প্রোটোকলের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে রাজশাহী নগরীর অলকার মোড়ে চেম্বার ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব দাবি জানান। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর রাজশাহী জেলা ও মহানগর শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধনে রাজশাহীর সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অধিকার-এর রাজশাহী সমন্বয়ক ও সাংবাদিক মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের কর্মী হাবিবুল্লাহ মোহাম্মদ কাওসারীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও সমাজকর্মী ইফতিখারুল আলম মাসঊদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন, রাজশাহী সংবাদ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত এবং মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক মাসুদ রানা রাব্বানী। সংগঠনের বিবৃতি পাঠ করেন মানবাধিকারকর্মী সানজিদা ইসলাম।

বক্তারা বলেন, ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘ নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন গ্রহণ করে এবং ১৯৮৭ সালের ২৬ জুন তা কার্যকর হয়। এরপর থেকেই দিনটি আন্তর্জাতিকভাবে ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে এই কনভেনশনে অনুস্বাক্ষর করে এবং ২০১৩ সালে ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন’ প্রণয়ন করা হলেও বাস্তবে জবাবদিহির অভাবে নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

বক্তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী ও সাধারণ মানুষ গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও বিচারিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়নের ঘটনাও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।

তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও দুর্নীতি দমনসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কারের লক্ষ্যে জারি করা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ পরে সংসদে বিল আকারে উপস্থাপিত না হওয়ায় বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা বর্তমান সরকারের প্রতি বাতিল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর আলোকে কার্যকর আইন প্রণয়ন, স্বাধীন ও কার্যকর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও এর অপশনাল প্রোটোকলের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান।

কর্মসূচির শেষে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নির্যাতন প্রতিরোধে কার্যকর আইন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ার দাবি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৫২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

নির্যাতন প্রতিরোধ শুধু আইন প্রণয়নের বিষয় নয়; এটি রাষ্ট্রীয় ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার মৌলিক ভিত্তি বলে মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মীরা। তারা ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও এর অপশনাল প্রোটোকলের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার (২৬ জুন) ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে রাজশাহী নগরীর অলকার মোড়ে চেম্বার ভবনের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব দাবি জানান। মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর রাজশাহী জেলা ও মহানগর শাখা এ কর্মসূচির আয়োজন করে।

মানববন্ধনে রাজশাহীর সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিরা অংশ নেন।

অধিকার-এর রাজশাহী সমন্বয়ক ও সাংবাদিক মঈন উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের কর্মী হাবিবুল্লাহ মোহাম্মদ কাওসারীর সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও সমাজকর্মী ইফতিখারুল আলম মাসঊদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহকারী মহাসচিব ড. সাদিকুল ইসলাম স্বপন, রাজশাহী সংবাদ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত এবং মানবাধিকারকর্মী ও সাংবাদিক মাসুদ রানা রাব্বানী। সংগঠনের বিবৃতি পাঠ করেন মানবাধিকারকর্মী সানজিদা ইসলাম।

বক্তারা বলেন, ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘ নির্যাতনবিরোধী কনভেনশন গ্রহণ করে এবং ১৯৮৭ সালের ২৬ জুন তা কার্যকর হয়। এরপর থেকেই দিনটি আন্তর্জাতিকভাবে ‘নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সমর্থনে আন্তর্জাতিক দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ ১৯৯৮ সালে এই কনভেনশনে অনুস্বাক্ষর করে এবং ২০১৩ সালে ‘নির্যাতন এবং হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইন’ প্রণয়ন করা হলেও বাস্তবে জবাবদিহির অভাবে নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে তারা দাবি করেন।

বক্তাদের অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, ভিন্নমতাবলম্বী ও সাধারণ মানুষ গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও বিচারিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়নের ঘটনাও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।

তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিচার বিভাগ, মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও দুর্নীতি দমনসহ বিভিন্ন খাতে সংস্কারের লক্ষ্যে জারি করা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ পরে সংসদে বিল আকারে উপস্থাপিত না হওয়ায় বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তারা মন্তব্য করেন।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা বর্তমান সরকারের প্রতি বাতিল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোর আলোকে কার্যকর আইন প্রণয়ন, স্বাধীন ও কার্যকর জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন, নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও এর অপশনাল প্রোটোকলের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান।

কর্মসূচির শেষে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন অংশগ্রহণকারীরা।