ঢাকা ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যমুনার ভয়াল থাবা! ভিটেমাটি হারিয়ে পথে শত পরিবার

বাবুল রহমান রবিন, গাইবান্ধা
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ ৩১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এরই প্রভাবে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত একর আবাদি জমি, পাটক্ষেত ও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরের বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর দত্তের খামার ও পুটিমারী এলাকায় অন্তত ৪০টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে বসতভিটা হারিয়েছে। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

1000101049

পুটিমারী গ্রামের কৃষক সাইফুল মিয়া জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি দুই শতাধিক আবাদি জমিও যমুনার গর্ভে চলে গেছে।

এ ছাড়া একই উপজেলার ভাটিকাপাসিয়া ও লালচামার এলাকায় আরও অন্তত ১৫টি পরিবার নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। তারা ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাট, কেতকিরহাট, উড়িয়া, মশামারী ও খাটিয়ামারী চরেও নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল পাশা বলেন, নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে খেয়ে-না-খেয়ে দিন পার করছে।

অন্যদিকে সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামেও নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের পর ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন, নদীতীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও কয়েকটি গ্রাম হুমকির মুখে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো ইউনিয়নই যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে স্থায়ী প্রতিরোধকাজ শুরু করা হবে। এরই মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ (বালুভর্তি বস্তা) ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

যমুনার ভয়াল থাবা! ভিটেমাটি হারিয়ে পথে শত পরিবার

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিতে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এরই প্রভাবে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শত শত একর আবাদি জমি, পাটক্ষেত ও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীতীরের বাসিন্দারা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর দত্তের খামার ও পুটিমারী এলাকায় অন্তত ৪০টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে বসতভিটা হারিয়েছে। অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

1000101049

পুটিমারী গ্রামের কৃষক সাইফুল মিয়া জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে প্রায় ২০টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি দুই শতাধিক আবাদি জমিও যমুনার গর্ভে চলে গেছে।

এ ছাড়া একই উপজেলার ভাটিকাপাসিয়া ও লালচামার এলাকায় আরও অন্তত ১৫টি পরিবার নদীভাঙনের কবলে পড়েছে। তারা ঘরবাড়ি হারিয়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন।

ফুলছড়ি উপজেলার বালাসীঘাট, কেতকিরহাট, উড়িয়া, মশামারী ও খাটিয়ামারী চরেও নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। উড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল পাশা বলেন, নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনও বেড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়ে খেয়ে-না-খেয়ে দিন পার করছে।

অন্যদিকে সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামেও নদীভাঙন শুরু হয়েছে। ভারী বৃষ্টিপাতের পর ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন, নদীতীরবর্তী কয়েকটি গ্রাম ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আরও কয়েকটি গ্রাম হুমকির মুখে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো ইউনিয়নই যমুনার ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বাংলা টাইমসকে বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকাগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে স্থায়ী প্রতিরোধকাজ শুরু করা হবে। এরই মধ্যে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ (বালুভর্তি বস্তা) ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।