ঢাকা ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আর্জেন্টিনার ৭ মিনিটের ঝড় সামলাতে পারল না ইংল্যান্ড ব‍্যর্থ ইংল্যান্ড, ফের শেষ বেলায় বাজিমাত আর্জেন্টিনার মাসে তিনবারের বেশি টাকা তুললে দিতে হবে অতিরিক্ত ফি শিগগিরই ১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগ, জানালেন প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে কেন বাড়ছে পাহাড় ধস? গবেষণায় উঠে এলো ভয়াবহ চিত্র হত্যার পর ড্রেনে স্কুলছাত্রীর লাশ, যুবককে ফাঁসির দণ্ড আইসিসির ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগস কমিটির চেয়ারম্যান হলেন তামিম ইকবাল বিশ্বকাপ ফাইনালে হাফটাইম শো, দীর্ঘ বিরতিতে প্রশ্ন ফুটবলারদের প্রস্তুতি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রেও আকাশছোঁয়া আয়, ফিফা সভাপতির বেতন কত? শাহবাগের অবরোধ প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের আলটিমেটাম

ন্যাশনাল ব্যাংক ১৮ কোটি জনগণের ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪ ৭০৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের (এনবিএল) ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ব্যাংকটির হারানো গৌরব আবার ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাংক নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ।

ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আবারো পুনর্গঠন করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক । চলতি বছরের ৫ মে বাংলাদেশ ব্যাংক খলিলুর রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয় । দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব খলিলুর রহমান দেশের অন্যতম ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান । এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির( সিএমসিসিআই) সভাপতি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের( বিআইসিডিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ সিআর কয়েল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের( বিসিআরসিএমইএ) চেয়ারম্যান ।

দীর্ঘ ব্যাবসায়িক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের হারানো গৌরব ফেরানোর কথা উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেছেন, ব্যবসায়ী হিসেবে জানি ব্যাংকটিকে কিভাবে লাভজনক করতে হয় । ১৯৮৩ সালে আমরা এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছি । আমি জানি, ব্যাংকের কোথায় কী আছে, কী কী সমস্যা আছে, কারণগুলো আমাদের জানা । এই ব্যাংক ২০১২ সাল পর্যন্ত এক নম্বর কাতারে ছিল । বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের ফার্স্ট জেনারেশনের ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক । তখন আমাদের যাঁরা পরিচালক ছিলেন সবাই ব্যবসায়ী ছিলেন । তাঁদের ব্যবসার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ছিল । ওই অভিজ্ঞতা দিয়ে আমরা ব্যাংকটি করেছিলাম ।

নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, যারা প্রকৃত ব্যবসা করেন, দেশে বিনিয়োগ করেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন তাদের যথেষ্ট সুযোগ দেব । এটি আমার ব্যাংক কখনো বলি না । আমরা বলি, ন্যাশনাল ব্যাংক জনগণের ব্যাংক, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ব্যাংক ।

তিনি আরও বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি আপনারা জানেন । ব্যাংক কার দ্বারা কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিভাবে টাকা নিয়েছে তা সবাই সব জানেন । একসময়ের সফল একটি ব্যাংককে রক্ষা করতে, বাঁচাতে আমরা একত্র হয়েছি । বাংলাদেশ ব্যাংককে বলেছি, আমরা একীভূত হব না । আমরা নিজেরা চালাব । আমরা কষ্ট করে চালাব । পরিশ্রম, সততা থাকলে, কষ্ট করলে এগিয়ে নিতে পারব । পাওনা উসুল করব । যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছে তাদের বোঝাব, আইন প্রয়োগ করে টাকা ফেরত আনব । ডিপোজিট আনব । ডিপোজিট দিয়ে ব্যবসা করব । একসময় গ্রাহকদের আমরা বেশি লভ্যাংশ দিয়েছি । ইচ্ছা করলে আমরা উন্নত করে এগিয়ে নিতে পারব । ন্যাশনাল ব্যাংকের হারানো গৌরব আবারও ফিরিয়ে আনতে পারব ইনশাআল্লাহ । এটা আমার বিশ্বাস । ৪ বছরে আমরা একটি ভালো অবস্থানে পৌঁছতে পারব ।

ন্যাশনাল ব্যাংকের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ নিয়েছি । বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে । যারা ঋণ নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে আদায় করবই । আমরা খেলাপি ঋণ আদায়ের চেষ্টা করব । প্রকৃত ব্যবসায়ী ঋণ নিলে খেলাপি হতে পারেন না । অ্যাসেসমেন্ট করে ঋণ দেওয়া হয়নি । মনিটরিং করা হয়নি । বড় খেলাপিদের সঙ্গে কথা বলেছি । তাঁরা ভুল স্বীকার করেছেন, টাকা পরিশোধে ইচ্ছুক । বড় ব্যবসায়ীদের টাকা খেলাপি হবে না । ব্যবসা করে ক্ষতি পুষিয়ে নেব । যাঁরা ব্যবসায়ী না হয়ে ঋণ নিয়েছেন, তাঁরাই সমস্যা । অন্তত ৫০ শতাংশ আদায়ে আমরা আশাবাদী ।

বর্তমান সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক এককভাবে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা রাখে কি না, জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, ব্যাংকটি একীভূত করার বিষয়ে চাপ থাকার বিষয়টি সত্যিকার অর্থে সঠিক নয় । আমরা যখন শুনেছি ব্যাংকটিকে একীভূত করার কথা চলছে, তখনই আমরা আগের পর্ষদ সভা করে সিদ্ধান্ত দিই, যে ব্যাংকের সাথে একীভূত হতে যাচ্ছে তার চেয়ে আমাদের ব্যাংকের ভিত্তি শক্ত বেশি । আমরা কেন একীভূত হবো? আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করি । আমরা পর্ষদ থেকে সিদ্ধান্ত দিলাম, আমরা একীভূত হতে রাজি নই । আমাদের ব্যাংক আমরা চালাব । দরকার হলে নতুন পর্ষদ গঠন করব । অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হলে অনেক লোকের চাকরি হারানোর শঙ্কা ছিল । কারণ অনেক জায়গায় দুটি ব্যাংকেরই শাখা রয়েছে । সে বিষয়টিও আমরা ভেবেছি ।

ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠার স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, আমরা যখন চার কোটি টাকায় এই ব্যাংকের উদ্যোগ নিয়েছিলাম তখন বেসরকারি ব্যাংক ছিলআ না । আমরা বন্ধুবান্ধবকে ধরে এনে ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে এনেছি । ব্যাংকের পরিচালক হলে টাকা ফেরত পাবে কি না, তখন চিন্তা কেতো । আমি বলেছি, তুমি টাকা দাও, টাকা ফেরত না পেলে আমি দিয়ে দেবো । এভাবে বলে রাজি করিয়েছি ।

এই শিল্পোদ্যোক্তা বলেন, ব্যাংক ব্যবসা বুঝতে হবে । ব্যাংক ম্যানেজার ব্যবসা বুঝলে ঋণ দিতে পারেন । যাকে ঋণ দেবেন, তার বিনিয়োগ মনিটর করতে হবে । নিয়মিত পরিশোধ করছে কি না, দেখতে হবে । বড় ঋণ ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক, বার্ষিক রিশিডিউল করা হবে । মনিটরিং থাকলে টাকা খেলাপি হয় না । খেলাপির কারণে বিশ্বাস কমে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের । প্রকৃত ব্যবসায়ী ব্যাংকের টাকা মেরে খাবেন না । ব্যবসায়ীদের মুখের কথার দাম আছে ।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন প্রয়োজন হলে তাদের জামানত হিসেবে দেয়া বাড়ি, জমি বিক্রি করে দেবো । দেশে আইন আছে, ব্যাংকের টাকা দিতে না পারলে সম্পদ বিক্রি করে দেয়া যায় ।

নতুন পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকটিতে ৩ হাজার কোটি টাকার আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছে । এই আমানত কার কাছ থেকে কিভাবে সংগ্রহ করা হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক’দিন আগেও শেয়ারের দাম সাড়ে ৪ টাকা ছিলো, এখন ৭ টাকা হয়েছে । ডিপোজিট দিন দিন বাড়ছে । এজন্য বন্ধু, ব্যবসায়ীদের কাছে যাবো । ডিপোজিট খাটিয়ে আমানতকারীকে লাভ দিতে হবে । আমাদের মালয়েশিয়ায় ১১টি, মালদ্বীপে তিনটি, সিঙ্গাপুরে দুটিসহ বিভিন্ন দেশে শাখা আছে । এসব শাখার মাধ্যমে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করব । আশা করি, চার বছরেই আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারবো ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ন্যাশনাল ব্যাংক ১৮ কোটি জনগণের ব্যাংক

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:০২:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ মে ২০২৪

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের (এনবিএল) ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান ব্যাংকটির হারানো গৌরব আবার ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে তিনি ব্যাংক নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন ।

ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ আবারো পুনর্গঠন করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক । চলতি বছরের ৫ মে বাংলাদেশ ব্যাংক খলিলুর রহমানকে চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেয় । দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি ও ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্ব খলিলুর রহমান দেশের অন্যতম ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান । এছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির( সিএমসিসিআই) সভাপতি, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের( বিআইসিডিএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ সিআর কয়েল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের( বিসিআরসিএমইএ) চেয়ারম্যান ।

দীর্ঘ ব্যাবসায়িক অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের হারানো গৌরব ফেরানোর কথা উল্লেখ করে খলিলুর রহমান বলেছেন, ব্যবসায়ী হিসেবে জানি ব্যাংকটিকে কিভাবে লাভজনক করতে হয় । ১৯৮৩ সালে আমরা এই ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছি । আমি জানি, ব্যাংকের কোথায় কী আছে, কী কী সমস্যা আছে, কারণগুলো আমাদের জানা । এই ব্যাংক ২০১২ সাল পর্যন্ত এক নম্বর কাতারে ছিল । বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের ফার্স্ট জেনারেশনের ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক । তখন আমাদের যাঁরা পরিচালক ছিলেন সবাই ব্যবসায়ী ছিলেন । তাঁদের ব্যবসার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা ছিল । ওই অভিজ্ঞতা দিয়ে আমরা ব্যাংকটি করেছিলাম ।

নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, যারা প্রকৃত ব্যবসা করেন, দেশে বিনিয়োগ করেন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেন তাদের যথেষ্ট সুযোগ দেব । এটি আমার ব্যাংক কখনো বলি না । আমরা বলি, ন্যাশনাল ব্যাংক জনগণের ব্যাংক, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের ব্যাংক ।

তিনি আরও বলেন, ন্যাশনাল ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি আপনারা জানেন । ব্যাংক কার দ্বারা কিভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিভাবে টাকা নিয়েছে তা সবাই সব জানেন । একসময়ের সফল একটি ব্যাংককে রক্ষা করতে, বাঁচাতে আমরা একত্র হয়েছি । বাংলাদেশ ব্যাংককে বলেছি, আমরা একীভূত হব না । আমরা নিজেরা চালাব । আমরা কষ্ট করে চালাব । পরিশ্রম, সততা থাকলে, কষ্ট করলে এগিয়ে নিতে পারব । পাওনা উসুল করব । যারা ব্যাংক থেকে টাকা নিয়েছে তাদের বোঝাব, আইন প্রয়োগ করে টাকা ফেরত আনব । ডিপোজিট আনব । ডিপোজিট দিয়ে ব্যবসা করব । একসময় গ্রাহকদের আমরা বেশি লভ্যাংশ দিয়েছি । ইচ্ছা করলে আমরা উন্নত করে এগিয়ে নিতে পারব । ন্যাশনাল ব্যাংকের হারানো গৌরব আবারও ফিরিয়ে আনতে পারব ইনশাআল্লাহ । এটা আমার বিশ্বাস । ৪ বছরে আমরা একটি ভালো অবস্থানে পৌঁছতে পারব ।

ন্যাশনাল ব্যাংকের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ নিয়েছি । বাংলাদেশ ব্যাংক যথেষ্ট সহযোগিতা করেছে । যারা ঋণ নিয়েছেন, তাদের কাছ থেকে আদায় করবই । আমরা খেলাপি ঋণ আদায়ের চেষ্টা করব । প্রকৃত ব্যবসায়ী ঋণ নিলে খেলাপি হতে পারেন না । অ্যাসেসমেন্ট করে ঋণ দেওয়া হয়নি । মনিটরিং করা হয়নি । বড় খেলাপিদের সঙ্গে কথা বলেছি । তাঁরা ভুল স্বীকার করেছেন, টাকা পরিশোধে ইচ্ছুক । বড় ব্যবসায়ীদের টাকা খেলাপি হবে না । ব্যবসা করে ক্ষতি পুষিয়ে নেব । যাঁরা ব্যবসায়ী না হয়ে ঋণ নিয়েছেন, তাঁরাই সমস্যা । অন্তত ৫০ শতাংশ আদায়ে আমরা আশাবাদী ।

বর্তমান সময়ে ন্যাশনাল ব্যাংক এককভাবে ব্যবসা পরিচালনার সক্ষমতা রাখে কি না, জানতে চাইলে খলিলুর রহমান বলেন, ব্যাংকটি একীভূত করার বিষয়ে চাপ থাকার বিষয়টি সত্যিকার অর্থে সঠিক নয় । আমরা যখন শুনেছি ব্যাংকটিকে একীভূত করার কথা চলছে, তখনই আমরা আগের পর্ষদ সভা করে সিদ্ধান্ত দিই, যে ব্যাংকের সাথে একীভূত হতে যাচ্ছে তার চেয়ে আমাদের ব্যাংকের ভিত্তি শক্ত বেশি । আমরা কেন একীভূত হবো? আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করি । আমরা পর্ষদ থেকে সিদ্ধান্ত দিলাম, আমরা একীভূত হতে রাজি নই । আমাদের ব্যাংক আমরা চালাব । দরকার হলে নতুন পর্ষদ গঠন করব । অন্য ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হলে অনেক লোকের চাকরি হারানোর শঙ্কা ছিল । কারণ অনেক জায়গায় দুটি ব্যাংকেরই শাখা রয়েছে । সে বিষয়টিও আমরা ভেবেছি ।

ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠার স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, আমরা যখন চার কোটি টাকায় এই ব্যাংকের উদ্যোগ নিয়েছিলাম তখন বেসরকারি ব্যাংক ছিলআ না । আমরা বন্ধুবান্ধবকে ধরে এনে ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে এনেছি । ব্যাংকের পরিচালক হলে টাকা ফেরত পাবে কি না, তখন চিন্তা কেতো । আমি বলেছি, তুমি টাকা দাও, টাকা ফেরত না পেলে আমি দিয়ে দেবো । এভাবে বলে রাজি করিয়েছি ।

এই শিল্পোদ্যোক্তা বলেন, ব্যাংক ব্যবসা বুঝতে হবে । ব্যাংক ম্যানেজার ব্যবসা বুঝলে ঋণ দিতে পারেন । যাকে ঋণ দেবেন, তার বিনিয়োগ মনিটর করতে হবে । নিয়মিত পরিশোধ করছে কি না, দেখতে হবে । বড় ঋণ ত্রৈমাসিক, ষাণ্মাসিক, বার্ষিক রিশিডিউল করা হবে । মনিটরিং থাকলে টাকা খেলাপি হয় না । খেলাপির কারণে বিশ্বাস কমে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের । প্রকৃত ব্যবসায়ী ব্যাংকের টাকা মেরে খাবেন না । ব্যবসায়ীদের মুখের কথার দাম আছে ।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান বলেন, যারা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছেন প্রয়োজন হলে তাদের জামানত হিসেবে দেয়া বাড়ি, জমি বিক্রি করে দেবো । দেশে আইন আছে, ব্যাংকের টাকা দিতে না পারলে সম্পদ বিক্রি করে দেয়া যায় ।

নতুন পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকটিতে ৩ হাজার কোটি টাকার আমানত সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়েছে । এই আমানত কার কাছ থেকে কিভাবে সংগ্রহ করা হবে, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক’দিন আগেও শেয়ারের দাম সাড়ে ৪ টাকা ছিলো, এখন ৭ টাকা হয়েছে । ডিপোজিট দিন দিন বাড়ছে । এজন্য বন্ধু, ব্যবসায়ীদের কাছে যাবো । ডিপোজিট খাটিয়ে আমানতকারীকে লাভ দিতে হবে । আমাদের মালয়েশিয়ায় ১১টি, মালদ্বীপে তিনটি, সিঙ্গাপুরে দুটিসহ বিভিন্ন দেশে শাখা আছে । এসব শাখার মাধ্যমে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা আহরণ করব । আশা করি, চার বছরেই আগের অবস্থানে ফিরে যেতে পারবো ।