ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নাসীরুদ্দীন-সারজিজের বিরুদ্ধে ছিনতাই মামলা, পাল্টা অভিযোগে উত্তপ্ত হবিগঞ্জ কাঁচা মরিচের ঝাল বাজারে, কেজি ছুঁইছুঁই ৪০০ টাকা সান্তাহারে ভেজাল আইসক্রিম কারখানা সিলগালা অর্থের অভাবে হারানো দৃষ্টি ফিরিয়ে দিল বসুন্ধরা আই হসপিটাল শেখ হাসিনাকে ফেরানোর অনুরোধ পর্যালোচনায় ভারত, জানাল সংসদীয় কমিটি নতুন দায়িত্বে ৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও এমপি ভারতীয় আধার কার্ডে ডেভিড ইমনের নাম ‘আজহার খান’, তিন মামলায় কারাগারে ঢাবির ৩ শিক্ষক বরখাস্ত, ৪ জনের দায়িত্ব প্রত্যাহার বিডিএস চিকিৎসক ছাড়াই চলছে দাঁতের চিকিৎসা; ভুল চিকিৎসায় উদ্বেগ অপরিকল্পিত প্রকল্পে জনগণের অর্থের অপচয় আর নয়

কাঁচা মরিচের ঝাল বাজারে, কেজি ছুঁইছুঁই ৪০০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টানা বর্ষণ ও দেশের বিভিন্ন জেলায় জলাবদ্ধতার প্রভাব এবার স্পষ্ট রাজধানীর কাঁচাবাজারে। কয়েক দিনের ব্যবধানে সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিলেও সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকায়, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন প্রায় আড়াই গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টিতে মরিচের খেতে পানি জমে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদনকারী জেলাগুলো থেকে সরবরাহও কমে গেছে। ফলে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারের সবজি বিক্রেতা সেলিম হোসেন বলেন, “মরিচের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। সরবরাহও কম আসছে। তাই পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।”

অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে। রাজধানীর কাওরান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রবিন মিয়া বলেন, “কাঁচা মরিচ এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন।”

শুধু কাঁচা মরিচ নয়, অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে। গোল বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা, বরবটি ও কাঁকরোল ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। কচুর লতির কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, আর ধুন্দুল, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আকারভেদে একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়।

বর্ষার এই বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে শুধু পেঁপে। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। তবে অন্যান্য প্রায় সব ধরনের সবজির দাম দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবজির বাজারে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে রাজধানীর অন্যান্য এলাকার তুলনায় কারওয়ান বাজারে এখনও তুলনামূলক কম দামে সবজি মিলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কাঁচা মরিচের ঝাল বাজারে, কেজি ছুঁইছুঁই ৪০০ টাকা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:২৬:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

টানা বর্ষণ ও দেশের বিভিন্ন জেলায় জলাবদ্ধতার প্রভাব এবার স্পষ্ট রাজধানীর কাঁচাবাজারে। কয়েক দিনের ব্যবধানে সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা দিলেও সবচেয়ে বেশি বেড়েছে কাঁচা মরিচের দাম। বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ থেকে ৪০০ টাকায়, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাত্র দুই সপ্তাহ আগে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচা মরিচ এখন প্রায় আড়াই গুণ দামে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টিতে মরিচের খেতে পানি জমে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি উৎপাদনকারী জেলাগুলো থেকে সরবরাহও কমে গেছে। ফলে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারের সবজি বিক্রেতা সেলিম হোসেন বলেন, “মরিচের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় উৎপাদন কমেছে। সরবরাহও কম আসছে। তাই পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।”

অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত দাম আদায় করা হচ্ছে। রাজধানীর কাওরান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা রবিন মিয়া বলেন, “কাঁচা মরিচ এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। বাজারে নিয়মিত তদারকি না থাকায় ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম নিচ্ছেন।”

শুধু কাঁচা মরিচ নয়, অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে। গোল বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ থেকে ১০০ টাকা, করলা, বরবটি ও কাঁকরোল ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। কচুর লতির কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, আর ধুন্দুল, ঝিঙে, চিচিঙ্গা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শ কিনতে গুনতে হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা। আকারভেদে একটি লাউ বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়।

বর্ষার এই বাজারে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে শুধু পেঁপে। প্রতি কেজি পেঁপে বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। তবে অন্যান্য প্রায় সব ধরনের সবজির দাম দুই সপ্তাহ আগের তুলনায় ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, বৃষ্টির কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সবজির বাজারে স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে রাজধানীর অন্যান্য এলাকার তুলনায় কারওয়ান বাজারে এখনও তুলনামূলক কম দামে সবজি মিলছে।