টাঙ্গাইলে অনুমোদনহীন ডেন্টাল কেয়ার চেম্বারের ছড়াছড়ি
বিডিএস চিকিৎসক ছাড়াই চলছে দাঁতের চিকিৎসা; ভুল চিকিৎসায় উদ্বেগ

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৫৯:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন ও মানহীন ডেন্টাল কেয়ার চেম্বার। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন, নিবন্ধন, মানসম্মত যন্ত্রপাতি এবং বিডিএস ডিগ্রিধারী চিকিৎসক ছাড়াই এসব প্রতিষ্ঠানে দাঁতের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার কাকুয়া, করটিয়া, গালা, ছিলিমপুর, ঘারিন্দা, কাতুলী ও মগড়া বাজারসহ প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নের বাজারেই ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে এসব ডেন্টাল কেয়ার চেম্বার।
অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতেই নিবন্ধিত দন্ত চিকিৎসক না থাকলেও দাঁত তোলা, রুট ক্যানেল, স্কেলিং, কৃত্রিম দাঁত স্থাপন এবং ক্যাপ লাগানোর মতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়া হলেও সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুল চিকিৎসার কারণে অনেক রোগী দাঁতের সংক্রমণ, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ, মাড়ির ক্ষয় এবং তীব্র ব্যথাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। অনেক ক্ষেত্রে অবস্থার অবনতি হলে পরে বিশেষজ্ঞ দন্ত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। এতে রোগীদের সময় ও অর্থ—দুই-ই নষ্ট হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান, সামান্য দাঁতের ব্যথা নিয়ে স্থানীয় একটি ডেন্টাল কেয়ার চেম্বারে চিকিৎসা নিয়েছিলেন। কিন্তু চিকিৎসার পর ব্যথা আরও বেড়ে যায়। পরে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে গেলে তিনি জানান, আগের চিকিৎসায় ত্রুটি ছিল। এরপর নতুন করে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক ব্যক্তি ৮ হাজার টাকা খরচ করে ছয়টি কৃত্রিম দাঁত বসান। তবে দাঁতগুলো সঠিকভাবে স্থাপন না হওয়ায় তিনি নিয়মিত ব্যথা অনুভব করেন। সমস্যা সমাধানে আবারও ওই চেম্বারে যেতে হয় তাকে।
প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমরা গ্রামের মানুষ। শহরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে পুরো একটি দিন নষ্ট হয়। তাই কাছের চেম্বারেই চিকিৎসা নিয়েছিলাম। কিন্তু দাঁত লাগানোর পর পানি ঢুকে যায় এবং মাঝেমধ্যে ব্যথা অনুভব করি।”
সরেজমিনে একাধিক ডেন্টাল কেয়ার চেম্বারে গিয়ে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের কাছে বিডিএস ডিগ্রি ও নিবন্ধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা স্বীকার করেন, তাদের কোনো বিডিএস ডিগ্রি বা সরকারি নিবন্ধন নেই। তারা শুধু গ্রামাঞ্চলে ছোটখাটো দাঁতের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন বলে জানান।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য, দাঁতের চিকিৎসা অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি স্বাস্থ্যসেবা। অদক্ষ ও অনুমোদনহীন ব্যক্তিদের মাধ্যমে এ ধরনের চিকিৎসা পরিচালনা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এসব প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পরীক্ষা এবং অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু বলেন, নিবন্ধনবিহীন বা আইনবহির্ভূতভাবে পরিচালিত কোনো ডেন্টাল কেয়ার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






















