ভারতীয় আধার কার্ডে ডেভিড ইমনের নাম ‘আজহার খান’, তিন মামলায় কারাগারে

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:০৭:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
ভারতে পালানোর পরিকল্পনার মধ্যেই গ্রেপ্তার হওয়া শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ভারতীয় আধার কার্ড উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেখানে তার নাম ‘আজহার খান’। বিদেশি সিম ও এনক্রিপটেড অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি পলাতক গ্যাং লিডার সাজ্জাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত বুধবার সকালে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পথে ইমনকে তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে এবং তিনি পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ অনুসারী।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ জুন রাউজানে যুবদল নেতা মাসুদুল হক চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং পরে ধামা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের সূত্র ধরেই ইমনের অবস্থান ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে আসে। একইসঙ্গে ডিডিএনের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির ঘটনাতেও পাওয়া তথ্য ইমনকে শনাক্ত করতে সহায়তা করে।
সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ বলেন, সন্ত্রাসীরা সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্ক এড়িয়ে বিদেশি নম্বর ও বিশেষ অ্যাপ ব্যবহার করে যোগাযোগ করতেন। গ্রেপ্তারের আশঙ্কা তৈরি হলে ইমন বিদেশে থাকা বড় সাজ্জাদের পরামর্শে ভারতে পালানোর পরিকল্পনা করেন। এ জন্য তিনি ভারতীয় আধার কার্ডও সংগ্রহ করেছিলেন, যেখানে তার পরিচয় ছিল ‘আজহার খান’।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী পথে দাউদকান্দিতে এবং পরে পদ্মা সেতু টোল প্লাজাসহ একাধিক স্থানে চেকপোস্ট বসিয়েও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। অভিযানের সময় ইমন ও তার সহযোগীরা বারবার গাড়ি, চালক ও রুট পরিবর্তন করেন। শেষ পর্যন্ত যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় ভোরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঝিকরগাছা সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। সীমান্ত পার করানো থেকে শুরু করে ভারতে গ্রহণ করার জন্যও লোক নির্ধারিত ছিল।
এসপি মাসুদ আলম জানান, ইমনের বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধারের মামলায় ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তার অপরাধচক্র, সহযোগী ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করছে পুলিশ।
তিনি আরও বলেন, ইমন ও তার সহযোগীদের অপরাধ কর্মকাণ্ডের পেছনে এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক গডফাদারের সম্পৃক্ততার তথ্য মেলেনি। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তারা চট্টগ্রামে চাঁদাবাজি, হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটিত করেছে।
বৃহস্পতিবার ফটিকছড়ি থানার হত্যা ও অস্ত্র আইনের তিনটি মামলায় ডেভিড ইমনসহ তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনকেও গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
পুলিশ জানায়, ২০২৫ সালের বাকলিয়ার জোড়া খুন ও পতেঙ্গা সৈকতে ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ একাধিক আলোচিত ঘটনায় ইমনের নাম উঠে আসে। বড় সাজ্জাদের বাহিনীর অন্যতম নেতৃত্বে থাকা ইমন ও রায়হানের মাধ্যমে অন্তত ৫০ সদস্যের একটি সশস্ত্র নেটওয়ার্ক চট্টগ্রামে সক্রিয় রয়েছে বলে দাবি পুলিশের।




















