ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চাকরি হারাচ্ছে বিপ্লব কুমারসহ ৫ পুলিশ কর্মকর্তা তারেক রহমানকে দুই দফায় ভারত সফরের আমন্ত্রণ, জানাল নয়াদিল্লি জনগণের অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করাই শক্তিশালী রাষ্ট্রের ভিত্তি: প্রধানমন্ত্রী Transrail Under Fire Over Alleged Corruption Worth Hundreds of Crores ৪৪তম বিসিএস: ২৭ প্রার্থীর নন-ক্যাডার নিয়োগে হাইকোর্টের রুল শত শত কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ, ট্রান্সরেলকে ঘিরে তোলপাড় ফুলছড়িতে ফ্যামিলি কার্ডের তালিকায় অনিয়ম, ইউএনও কার্যালয়ে ভাঙচুর ২৭ আগস্ট বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন ফ্যামিলি কার্ডের মূল কার্যক্রম শুরু ১৬ আগস্ট র’-প্রধানের ঢাকা সফর স্বাভাবিক, শেখ হাসিনাকে ফেরত চায় বাংলাদেশ: তথ্য উপদেষ্টা

আমার দু:খ-আমার কষ্ট

সুপন রায়
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কিছু কষ্ট ভাষায় বলা যায় না। বুকের ভেতর নীরবে জমে থাকে, আর সময় পেলেই চোখের জল হয়ে ঝরে পড়ে। মানুষ চারপাশে থাকলেও কিছু যন্ত্রণা একান্তই নিজের—যার সাক্ষী শুধু নিজের মন।

জীবনে অনেক কিছু হারানো যায়, কিন্তু প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয় সবচেয়ে অসহ্য। হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে, আইসিইউর দরজার দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতে করতে মনে হয়, জীবন কতটা অসহায়। প্রতিটি ফোনকল, প্রতিটি চিকিৎসকের পদধ্বনি, প্রতিটি মুহূর্ত যেন বুকের ভেতর নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

হাসপাতালের আইসিইউর সামনে সময় যেন থমকে আছে। কাঁচের দরজার ওপারে জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টা, আর এপারে নিঃশব্দ অপেক্ষা। মনিটরের প্রতিটি শব্দ যেন বুকের ভেতর কাঁপন তোলে। এমনই এক অনিশ্চয়তার মধ্যে শুয়ে ছিলেন দাদা।

দাদা শুয়ে আছেন হাসপাতালের বেডে। কাছে যেতেই দু’চোখ গড়িয়ে অশ্রু জড়ছিলো। কিন্তু কথা বলার শক্তি ছিলো না-আপনজনকে কাছে দেখেই না বলা কথা সেই শিশির বিন্দু দিয়ে বুঝিয়ে দিতেন। সেই অনুভূতির কথা আজও আমার চোখের সামনে ভাসলে নিজের অজান্তেই শোকের সাগরে ভেসে যাই।

হাসপাতাল, করিডোর, আইসিইউ—সবকিছুই বারবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় আরেকটি শোকের দিনে। ঠিক এমনই এক হাসপাতালের বিছানায় প্রিয় একজনকে হারানোর স্মৃতি এখনও তাড়া করে ফেরে। তাই দাদার ছবিটার দিকে তাকালেই বুকের ভেতর অজানা এক ভয় জেগে ওঠে—আবারও কি কোনো প্রিয় মানুষকে হারানোর অপেক্ষা?

হাসপাতালের প্রতিটি রাত যেন দীর্ঘতর হয়, প্রতিটি মিনিট যেন একেকটি পরীক্ষা। তবুও মানুষ আশাতেই বাঁচে। তাই শঙ্কা আর অশ্রুর মাঝেও পরিবারের সবার বিশ্বাস, কিন্তু দাদা সেই বিশ্বাস ভেঙে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

অনেক অপেক্ষা করে আক্ষেপ নিয়ে বাবা চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আজ ঘর আছে, মানুষ আছে, স্মৃতিও আছে—শুধু বাবা নেই।

এখনও মনে হয়, দরজায় কড়া নাড়লেই ফিরে আসবে। সেই পরিচিত ডাক, স্নেহভরা মুখ, মাথায় হাত রেখে বলা—”ভয় পাস না, আমি আছি”—সবই যেন কানে বাজে। অথচ বাস্তবতা বড় নির্মম।

বাবার চলে যাওয়ায় শুধু একজন মানুষকে হারাইনি, হারিয়েছি আমার সবচেয়ে বড় আশ্রয়, সবচেয়ে নিরাপদ ছায়াটাকে। আজ জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে বাবাকেই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। মনে হয়, আর একবার যদি বাবার হাতটা ধরতে পারতাম, আর একবার যদি বলতে পারতাম—”বাবা, অভিমান ভেঙে একবার আমার দিকে তাকান।

বাবার না-থাকা প্রতিদিন নতুন করে বুঝিয়ে দেয়, বাবারা কখনো শুধু একজন মানুষ নন; তারা একটি পরিবারের সাহস, ভরসা আর ভালোবাসার অন্য নাম।

জীবনে পাওয়া-না-পাওয়ার হিসাব অনেক। কিছু স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, আরও অনেক স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেছে। কিছু মানুষ পাশে থেকেও হারিয়ে গেছে, আবার কিছু মানুষকে হারিয়ে বুঝেছি তাদের মূল্য কতটা ছিল।

বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্ট কাউকে বোঝানো যায় না। বাইরে হাসলেও ভেতরে প্রতিদিনই এক টুকরো শূন্যতা বয়ে বেড়াই। তবুও জীবন থেমে থাকে না; স্মৃতি আর ভালোবাসাকে সঙ্গী করেই সামনে এগিয়ে যেতে হয়।

জীবন অনেক কিছু শিখিয়েছে—সব ইচ্ছা পূরণ হয় না, সব অপেক্ষার শেষ সুখের হয় না, আর সব প্রিয় মানুষও চিরদিন পাশে থাকে না। তবু স্মৃতি, ভালোবাসা আর কিছু অপূর্ণতার ভার নিয়েই মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে হয়।

জীবনের খাতায় পাওয়া-না-পাওয়ার হিসাব কখনো মেলে না। কিছু মানুষকে প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেও হারাতে হয়, আবার কিছু স্বপ্ন চোখের সামনেই অপূর্ণ থেকে যায়।

জীবন শিখিয়েছে সবকিছু পাওয়া যায় না। কিছু অপূর্ণতা নিয়েই বেঁচে থাকতে হয়। আর সেই অপূর্ণতার মাঝেই লুকিয়ে থাকে জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আমার দু:খ-আমার কষ্ট

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:৪৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

কিছু কষ্ট ভাষায় বলা যায় না। বুকের ভেতর নীরবে জমে থাকে, আর সময় পেলেই চোখের জল হয়ে ঝরে পড়ে। মানুষ চারপাশে থাকলেও কিছু যন্ত্রণা একান্তই নিজের—যার সাক্ষী শুধু নিজের মন।

জীবনে অনেক কিছু হারানো যায়, কিন্তু প্রিয় মানুষকে হারানোর ভয় সবচেয়ে অসহ্য। হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে, আইসিইউর দরজার দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করতে করতে মনে হয়, জীবন কতটা অসহায়। প্রতিটি ফোনকল, প্রতিটি চিকিৎসকের পদধ্বনি, প্রতিটি মুহূর্ত যেন বুকের ভেতর নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

হাসপাতালের আইসিইউর সামনে সময় যেন থমকে আছে। কাঁচের দরজার ওপারে জীবন বাঁচানোর শেষ চেষ্টা, আর এপারে নিঃশব্দ অপেক্ষা। মনিটরের প্রতিটি শব্দ যেন বুকের ভেতর কাঁপন তোলে। এমনই এক অনিশ্চয়তার মধ্যে শুয়ে ছিলেন দাদা।

দাদা শুয়ে আছেন হাসপাতালের বেডে। কাছে যেতেই দু’চোখ গড়িয়ে অশ্রু জড়ছিলো। কিন্তু কথা বলার শক্তি ছিলো না-আপনজনকে কাছে দেখেই না বলা কথা সেই শিশির বিন্দু দিয়ে বুঝিয়ে দিতেন। সেই অনুভূতির কথা আজও আমার চোখের সামনে ভাসলে নিজের অজান্তেই শোকের সাগরে ভেসে যাই।

হাসপাতাল, করিডোর, আইসিইউ—সবকিছুই বারবার ফিরিয়ে নিয়ে যায় আরেকটি শোকের দিনে। ঠিক এমনই এক হাসপাতালের বিছানায় প্রিয় একজনকে হারানোর স্মৃতি এখনও তাড়া করে ফেরে। তাই দাদার ছবিটার দিকে তাকালেই বুকের ভেতর অজানা এক ভয় জেগে ওঠে—আবারও কি কোনো প্রিয় মানুষকে হারানোর অপেক্ষা?

হাসপাতালের প্রতিটি রাত যেন দীর্ঘতর হয়, প্রতিটি মিনিট যেন একেকটি পরীক্ষা। তবুও মানুষ আশাতেই বাঁচে। তাই শঙ্কা আর অশ্রুর মাঝেও পরিবারের সবার বিশ্বাস, কিন্তু দাদা সেই বিশ্বাস ভেঙে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

অনেক অপেক্ষা করে আক্ষেপ নিয়ে বাবা চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আজ ঘর আছে, মানুষ আছে, স্মৃতিও আছে—শুধু বাবা নেই।

এখনও মনে হয়, দরজায় কড়া নাড়লেই ফিরে আসবে। সেই পরিচিত ডাক, স্নেহভরা মুখ, মাথায় হাত রেখে বলা—”ভয় পাস না, আমি আছি”—সবই যেন কানে বাজে। অথচ বাস্তবতা বড় নির্মম।

বাবার চলে যাওয়ায় শুধু একজন মানুষকে হারাইনি, হারিয়েছি আমার সবচেয়ে বড় আশ্রয়, সবচেয়ে নিরাপদ ছায়াটাকে। আজ জীবনের প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে বাবাকেই সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে। মনে হয়, আর একবার যদি বাবার হাতটা ধরতে পারতাম, আর একবার যদি বলতে পারতাম—”বাবা, অভিমান ভেঙে একবার আমার দিকে তাকান।

বাবার না-থাকা প্রতিদিন নতুন করে বুঝিয়ে দেয়, বাবারা কখনো শুধু একজন মানুষ নন; তারা একটি পরিবারের সাহস, ভরসা আর ভালোবাসার অন্য নাম।

জীবনে পাওয়া-না-পাওয়ার হিসাব অনেক। কিছু স্বপ্ন পূরণ হয়েছে, আরও অনেক স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেছে। কিছু মানুষ পাশে থেকেও হারিয়ে গেছে, আবার কিছু মানুষকে হারিয়ে বুঝেছি তাদের মূল্য কতটা ছিল।

বুকের ভেতর জমে থাকা কষ্ট কাউকে বোঝানো যায় না। বাইরে হাসলেও ভেতরে প্রতিদিনই এক টুকরো শূন্যতা বয়ে বেড়াই। তবুও জীবন থেমে থাকে না; স্মৃতি আর ভালোবাসাকে সঙ্গী করেই সামনে এগিয়ে যেতে হয়।

জীবন অনেক কিছু শিখিয়েছে—সব ইচ্ছা পূরণ হয় না, সব অপেক্ষার শেষ সুখের হয় না, আর সব প্রিয় মানুষও চিরদিন পাশে থাকে না। তবু স্মৃতি, ভালোবাসা আর কিছু অপূর্ণতার ভার নিয়েই মানুষকে সামনে এগিয়ে যেতে হয়।

জীবনের খাতায় পাওয়া-না-পাওয়ার হিসাব কখনো মেলে না। কিছু মানুষকে প্রাণ দিয়ে ভালোবেসেও হারাতে হয়, আবার কিছু স্বপ্ন চোখের সামনেই অপূর্ণ থেকে যায়।

জীবন শিখিয়েছে সবকিছু পাওয়া যায় না। কিছু অপূর্ণতা নিয়েই বেঁচে থাকতে হয়। আর সেই অপূর্ণতার মাঝেই লুকিয়ে থাকে জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট