ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্রে ভোগান্তির ছায়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মারধর নিষিদ্ধ, মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা না রাখার পরামর্শ কূটনৈতিক টানাপড়েনের মাঝেও বাণিজ্যে গতি ১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ! তদন্তের নির্দেশ ইউএনওর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি প্রত্যাহারের দাবি ছাত্রশিবিরের জাতিসংঘ সফর শেষে ২৭ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী নাগরিকত্বের আগেই ভোটার তালিকায় নাম! সোনিয়ার বিরুদ্ধে ফের মামলা পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নতুন দায়িত্বে মেজর জেনারেল আলীমুল আমীন মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি, ৩ ফার্মেসিকে জরিমানা কর্মস্থলে অনুপস্থিত, সাবেক এসপিসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মারধর নিষিদ্ধ, মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা না রাখার পরামর্শ

জয়নাল আবেদিন
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়ার নামে মারধর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মাদ্রাসায় সুরক্ষা কমিটি গঠন ও কার্যকর রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকারী এ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে।

আল-হাইআতুল উলয়ার পরিচালনা কমিটির সদস্য মুসলেহ উদ্দিন রাজু জানান, মাদ্রাসাগুলোকে একটি নীতিমালা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যথাযথ আচরণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, মহিলা মাদ্রাসাগুলোকে অনাবাসিক করার এবং মহিলা শিক্ষার্থীদের পাঠদানে পুরুষ শিক্ষকের পরিবর্তে নারী শিক্ষক রাখার বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শাস্তির নামে প্রহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

আল-হাইআতুল উলয়ার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সংশোধনের উদ্দেশ্যেই শাসন কার্যক্রম পরিচালিত হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই শাস্তি হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীকে প্রহার করা যাবে না।

নির্দেশনায় বলা হয়, শিক্ষার্থীদের ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রথমে নম্র সতর্কতা, এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ভর্ৎসনা এবং অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগের মতো ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে রাগের বশবর্তী হয়ে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়া যাবে না।

প্রতিটি মাদ্রাসায় থাকবে সুরক্ষা কমিটি

শিক্ষার্থী নির্যাতন বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিটি মাদ্রাসায় সুরক্ষা কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন করে সক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো অভিযোগ এলে তা কমিটির কাছে উপস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে এবং সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে হবে। সুরক্ষা কমিটি কার্যকর না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

মহিলা মাদ্রাসার আবাসন নিয়ে নতুন নীতিমালা

আল-হাইআতুল উলয়া জানিয়েছে, মহিলা আবাসিক মাদ্রাসার পরিবেশ, নিরাপত্তা ও পাঠদান ব্যবস্থা নিয়ে আলাদা নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।

মুসলেহ উদ্দিন রাজু বলেন, মহিলা মাদ্রাসাগুলোকে অনাবাসিক করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুরুষ শিক্ষক থাকলে পাঠদান পদ্ধতি ও আচরণবিধি নিয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মনিটরিংয়ের দাবি

আল-হাইআতুল উলয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদ্রাসাগুলো নিয়মিত পরিদর্শনের জন্য জেলা পর্যায়ে টিম রয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু ছয়টি বোর্ডের আওতাধীন মাদ্রাসা নয়, দেশের বাইরে থাকা বা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কওমি মাদ্রাসাগুলোকেও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা, আবাসিক প্রতিষ্ঠান এবং মহিলা মাদ্রাসার সংখ্যা নিয়ে এখনো সম্পূর্ণ তথ্যভান্ডার নেই। এ কারণে কার্যকর তদারকির জন্য সমন্বিত তথ্যব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের মারধর নিষিদ্ধ, মহিলা আবাসিক মাদ্রাসা না রাখার পরামর্শ

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:০২:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের শাস্তি দেওয়ার নামে মারধর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মাদ্রাসায় সুরক্ষা কমিটি গঠন ও কার্যকর রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

দেশের ছয়টি কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকারী এ কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করেছে।

আল-হাইআতুল উলয়ার পরিচালনা কমিটির সদস্য মুসলেহ উদ্দিন রাজু জানান, মাদ্রাসাগুলোকে একটি নীতিমালা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যথাযথ আচরণ, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি বলেন, মহিলা মাদ্রাসাগুলোকে অনাবাসিক করার এবং মহিলা শিক্ষার্থীদের পাঠদানে পুরুষ শিক্ষকের পরিবর্তে নারী শিক্ষক রাখার বিষয়েও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শাস্তির নামে প্রহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

আল-হাইআতুল উলয়ার নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সংশোধনের উদ্দেশ্যেই শাসন কার্যক্রম পরিচালিত হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই শাস্তি হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীকে প্রহার করা যাবে না।

নির্দেশনায় বলা হয়, শিক্ষার্থীদের ভুল সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রথমে নম্র সতর্কতা, এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী ভর্ৎসনা এবং অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগের মতো ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে রাগের বশবর্তী হয়ে কোনো ধরনের শাস্তি দেওয়া যাবে না।

প্রতিটি মাদ্রাসায় থাকবে সুরক্ষা কমিটি

শিক্ষার্থী নির্যাতন বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে প্রতিটি মাদ্রাসায় সুরক্ষা কমিটি গঠন বা পুনর্গঠন করে সক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো অভিযোগ এলে তা কমিটির কাছে উপস্থাপনের সুযোগ দিতে হবে এবং সাত দিনের মধ্যে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে হবে। সুরক্ষা কমিটি কার্যকর না থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।

মহিলা মাদ্রাসার আবাসন নিয়ে নতুন নীতিমালা

আল-হাইআতুল উলয়া জানিয়েছে, মহিলা আবাসিক মাদ্রাসার পরিবেশ, নিরাপত্তা ও পাঠদান ব্যবস্থা নিয়ে আলাদা নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।

মুসলেহ উদ্দিন রাজু বলেন, মহিলা মাদ্রাসাগুলোকে অনাবাসিক করার বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পুরুষ শিক্ষক থাকলে পাঠদান পদ্ধতি ও আচরণবিধি নিয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মনিটরিংয়ের দাবি

আল-হাইআতুল উলয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদ্রাসাগুলো নিয়মিত পরিদর্শনের জন্য জেলা পর্যায়ে টিম রয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে ইসলাম বিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু ছয়টি বোর্ডের আওতাধীন মাদ্রাসা নয়, দেশের বাইরে থাকা বা বোর্ডের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কওমি মাদ্রাসাগুলোকেও নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসার পূর্ণাঙ্গ সংখ্যা, আবাসিক প্রতিষ্ঠান এবং মহিলা মাদ্রাসার সংখ্যা নিয়ে এখনো সম্পূর্ণ তথ্যভান্ডার নেই। এ কারণে কার্যকর তদারকির জন্য সমন্বিত তথ্যব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত সংশ্লিষ্টদের।