১০ কোটি টাকার সেতুতে রডের বদলে বাঁশ! তদন্তের নির্দেশ ইউএনওর
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১১:৫৪:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় প্রায় ১০ কোটি টাকার নির্মাণাধীন একটি সেতুতে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গী এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুটি পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইকবাল হোসেন। পরে তিনি জানান, সেতুর কাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির নির্মাণকাজ চললেও দিনের পরিবর্তে রাতের বেলায় কাজ করা হচ্ছিল। এতে সন্দেহ হলে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করেন। একপর্যায়ে তারা দেখতে পান, সেতুর একটি অংশে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। পরে বিষয়টির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, “দিনের কাজ রাতে করা হচ্ছিল। এলাকার ছেলেরা রাতে দেখে সেতুতে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। কিছু বালু-সিমেন্ট আর বাঁশ দিয়ে কাজ করা হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।”
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার সেতুটি পুনর্নির্মাণের কাজ পেয়েছে মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পরে সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে সেতুটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হয়নি। তার ভাষ্য, কিছু জায়গায় শাটার বের করার সুবিধা না থাকায় বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী কাঠামো তৈরি করে ঢালাই দেওয়া হয়েছে।
তবে বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, সেতুর নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জেলা প্রকৌশলীকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর কাজে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।





















