কর্মস্থলে অনুপস্থিত, সাবেক এসপিসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪৩:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে
অনুমতি ছাড়া দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা ও চাকরি থেকে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আসাদুজ্জামানসহ পুলিশের ছয় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার ঘটনায় দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া ছয় কর্মকর্তা
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে; পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন; অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম; অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার রাজীব দাস; সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সরকারি দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য ও বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যেভাবে বরখাস্ত হলেন কর্মকর্তারা
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে যোগ দেন। ওই বছরের ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ছুটি ভোগের জন্য তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেন। তবে ছুটি শেষে আর কর্মস্থলে যোগ দেননি। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। পলায়নের অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে তার বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ রঞ্জন দে ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাবও দেননি তিনি। ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট থেকে তার বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটে পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। বিভাগীয় মামলায় তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ জায়েদুল আলম ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এর আগে তিনি চিকিৎসার জন্য ছুটি নিয়ে ১২ অক্টোবর থাইল্যান্ডে যাওয়ার উদ্দেশ্যে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর থেকে তার বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হয়েছে।
ডিএমপির সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা রাজীব দাস ২০২৪ সালের ২ নভেম্বর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। ছুটি শেষে কাজে যোগ না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। একই তারিখ থেকে তার বরখাস্তের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের সাবেক পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। তার বিরুদ্ধেও বিভাগীয় মামলা করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরখাস্তের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
























