ঢাকা ০৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রায়পুরে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১০ পরিবারকে টিন ও নগদ সহায়তা বিএনপি নেতা ফারুক হত্যা মামলা: ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, চারজনকে যাবজ্জীবন দক্ষিণাঞ্চলে বাসভাড়া বাড়ছে, জ্বালানির দাম বৃদ্ধির ধাক্কা যাত্রীদের পকেটে হামে আরও ৬ জনের মৃত্যু, সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত ১,২২১ কোভিড প্রকল্পে ১২ কোটি টাকা আত্মসাত, জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ৬ মামলা ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, ‘শুধরে নাও, নইলে পুরো দেশ ধ্বংস হতে পারে’ আইজিপিসহ পুলিশের ৯২ সদস্য পাচ্ছেন পুলিশ পদক এমপি নজরুলের ৪ দিন, প্রথম স্ত্রী মাকসুদার একদিনের রিমান্ড এমপি নজরুলের গ্রেপ্তারের বিষয় জানিয়ে স্পিকারকে চিঠি দেবে পুলিশ, তদন্তে মরিয়মের চিরকুট

বিএনপি নেতা ফারুক হত্যা মামলা: ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, চারজনকে যাবজ্জীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা করে ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যার প্রায় ১৩ বছর পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি, টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা ঘাটাইল-৩ আসনের সাবেক এমপি আতোয়ার রহমান খানের ছেলে সানিয়াত খান বাপ্পা, সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে আজাদ ও শ্রীফলিয়াটা গ্রামের সহিদ মিয়ার ছেলে শাহজাহান মিয়া (৩১)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সদর উপজেলার কাঠুয়া যোগনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে সুজন, শ্রীফলিয়াটার রওশন আলীর ছেলে সানোয়ার হোসেন, কাগমারা এলাকার নুরুল ইসলাম নিলু বাবুর ছেলে শফিকুল ইসলাম শফিক ও ছিটকীবাড়ী গ্রামের নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ইমন।

আর এই মামলায় অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় অপর আসামি সঞ্জিত ঘোষকে বেকুসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সুজন ও সানোয়ার ছাড়া সবাই পলাতক রয়েছে।

টাঙ্গাইল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাইদুল রহমান স্বপন জানান, দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরে আকুরটাকুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিগত ২০১৩ সালের (২০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি হাঁটতে বের হন। তিনি আকুরটাকুর পাড়ার বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পরদিন তার ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে বিগত ২০১৫ সালের (১৩ আগস্ট) আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ। তবে এ অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া। পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি পুণরায় তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্ত শেষে বিগত ২০১৮ সালের (২৯ এপ্রিল) টাঙ্গাইল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ আবার অভিযোগপত্র জমা দেন।

এ অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কাজ শুরু হয়। সাক্ষ্য নেওয়ার পর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সাত আসামিকে সাজা দেন বিচারক। আর অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় সঞ্জিত ঘোষ নামে অপর আসামিকে বেকুসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সুজন ও সানোয়ার ছাড়া সবাই পলাতক।

রায় ঘোষণার পর মামলার বাদি নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া প্রতিক্রিয়ায় জানান, এ রায়ে তারা অসন্তোষ্ট। তিনি এই হত্যা মামলার রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাসপ্রাপ্ত আসামীদেরও মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বিএনপি নেতা ফারুক হত্যা মামলা: ৩ আসামির মৃত্যুদণ্ড, চারজনকে যাবজ্জীবন

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৪৬:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ফারুক হোসেন হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের এক লাখ টাকা করে ও যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের ৫০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক ফয়সাল আল মামুন এ রায় ঘোষণা করেন। টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্যকর এই হত্যার প্রায় ১৩ বছর পর সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন- কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি, টাঙ্গাইল শহরের কলেজপাড়ার বাসিন্দা ঘাটাইল-৩ আসনের সাবেক এমপি আতোয়ার রহমান খানের ছেলে সানিয়াত খান বাপ্পা, সদর উপজেলার কাগমারা এলাকার আফজাল ফকিরের ছেলে আজাদ ও শ্রীফলিয়াটা গ্রামের সহিদ মিয়ার ছেলে শাহজাহান মিয়া (৩১)।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সদর উপজেলার কাঠুয়া যোগনী গ্রামের আব্দুল লতিফ মিয়ার ছেলে সুজন, শ্রীফলিয়াটার রওশন আলীর ছেলে সানোয়ার হোসেন, কাগমারা এলাকার নুরুল ইসলাম নিলু বাবুর ছেলে শফিকুল ইসলাম শফিক ও ছিটকীবাড়ী গ্রামের নুর বক্সের ছেলে রুজবেল ইমন।

আর এই মামলায় অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় অপর আসামি সঞ্জিত ঘোষকে বেকুসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সুজন ও সানোয়ার ছাড়া সবাই পলাতক রয়েছে।

টাঙ্গাইল আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সাইদুল রহমান স্বপন জানান, দাইন্যা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও টাঙ্গাইল সদর থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম ফারুক টাঙ্গাইল শহরে আকুরটাকুর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। বিগত ২০১৩ সালের (২০ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তিনি হাঁটতে বের হন। তিনি আকুরটাকুর পাড়ার বটতলা বাজার এলাকায় পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

ঘটনার পরদিন তার ছোট ভাই লাভলু মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে বিগত ২০১৫ সালের (১৩ আগস্ট) আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা অশোক কুমার সিংহ। তবে এ অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী লাভলু মিয়া। পরে আদালতের নির্দেশে সিআইডি মামলাটি পুণরায় তদন্তের দায়িত্ব পায়। তদন্ত শেষে বিগত ২০১৮ সালের (২৯ এপ্রিল) টাঙ্গাইল সিআইডির পরিদর্শক রফিক উদ্দিন আহম্মেদ আবার অভিযোগপত্র জমা দেন।

এ অভিযোগপত্রেও আগের আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পরে টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটির অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচারিক কাজ শুরু হয়। সাক্ষ্য নেওয়ার পর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সাত আসামিকে সাজা দেন বিচারক। আর অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় সঞ্জিত ঘোষ নামে অপর আসামিকে বেকুসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। আসামিদের মধ্যে সুজন ও সানোয়ার ছাড়া সবাই পলাতক।

রায় ঘোষণার পর মামলার বাদি নিহতের ছোট ভাই লাভলু মিয়া প্রতিক্রিয়ায় জানান, এ রায়ে তারা অসন্তোষ্ট। তিনি এই হত্যা মামলার রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ও খালাসপ্রাপ্ত আসামীদেরও মৃত্যুদণ্ড দাবি করেন।