আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলা
এমপি নজরুলের ৪ দিন, প্রথম স্ত্রী মাকসুদার একদিনের রিমান্ড

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:৪০:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের চার দিন এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আসামিদের আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহবুবুর রহমানসহ কয়েকজন রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন।
পাঁচ কারণে রিমান্ড আবেদন
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে পাঁচটি কারণ উল্লেখ করেন। এগুলো হলো—
১. মরিয়ম খাতুন ফাঁস দিয়ে মৃত্যুবরণ করার সময় গ্রেপ্তার আসামিরা একই বাসায় ছিলেন। আত্মহত্যার ঘটনায় তাঁদের কোনো প্রভাব ছিল কি না, তা উদঘাটন।
২. মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, উসকানি, মানসিক চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যায় সহায়তার ক্ষেত্রে আসামিদের ভূমিকা নির্ধারণ।
৩. মামলার পলাতক আসামি ওবায়দুর রহমানের ভূমিকা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ, তাঁর অবস্থান শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার।
৪. আত্মহত্যার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না, তা শনাক্ত ও গ্রেপ্তার।
৫. মামলার মূল রহস্য উদঘাটন।
বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে আদালতে হাজির
সোমবার বিকেল ৩টা ১১ মিনিটে গাজী নজরুল ইসলামকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে আদালতে আনা হয়। এ সময় তিনি আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং মামলার এজাহার পড়ে দেখেন। পরে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন।
দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা
এর আগে রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় মরিয়মের বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, গত জুনে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী গাজী নজরুলের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। এরপর মরিয়ম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদাকে নিয়ে ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন গাজী নজরুল।
বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই গাজী নজরুল ও তাঁর প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। মরিয়ম বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানিয়েছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গাজী নজরুল মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি অনেক লোকজন দেখতে পান। পরে জানতে পারেন, মরিয়ম একটি কক্ষে ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়েছেন।
পুলিশের সহায়তায় দরজা ভেঙে কক্ষে প্রবেশ করে মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় বিছানার ওপর তাঁর লেখা একটি সুইসাইড নোট পাওয়া যায় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং প্ররোচনার কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাঁর বাবা।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দল থেকে বহিষ্কার
গত জুলাইয়ে গাজী নজরুল ইসলাম ও মরিয়ম খাতুনের ব্যক্তিগত মুহূর্তের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জুলাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দলটির গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে বহিষ্কার করা হয় এবং বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়।
এদিকে ভিডিও ফাঁসের সন্দেহে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ২১ জুলাই গাড়িচালক ও মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমান বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। ওই মামলায় গত ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান গাজী নজরুল ইসলাম।
সেই মামলার বাদী ওবায়দুর রহমানকেই এবার মরিয়মের আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় আসামি করা হয়েছে।





















