ভালোবাসা, বিশ্বাসভঙ্গ ও মানসিক কষ্টের কথা লিখেছেন মরিয়ম
এমপি নজরুলের বাসায় দ্বিতীয় স্ত্রীর শেষ চিঠি, উঠে এসেছে সম্পর্কের টানাপোড়েন

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের রাজধানীর বাসা থেকে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে কয়েকটি চিঠি। উদ্ধার হওয়া চিঠিগুলোতে দাম্পত্য ও সম্পর্কের নানা টানাপোড়েন, ভালোবাসা, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণার অভিযোগ এবং মানসিক কষ্টের কথা লিখেছেন মরিয়ম।

চিঠিগুলোর বিভিন্ন অংশে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার দৃঢ়তা, হতাশা ও ক্ষোভের প্রকাশ রয়েছে। কোথাও তিনি নিজেকে পরিস্থিতির শিকার হিসেবে তুলে ধরেছেন, আবার কোথাও রূপক ও আবেগঘন ভাষায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন।
একটি চিঠিতে মরিয়ম লিখেছেন, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’
অন্য একটি পাতায় সম্পর্কের জটিলতা ও নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি লেখেন, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী—কাগজে-কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা…!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ…!!! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ… ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়… ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!’

‘আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি’
আরেকটি চিঠিতে বিশ্বাস করে প্রতারিত হওয়ার অনুভূতি প্রকাশ করেছেন মরিয়ম। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘সে বলেছিল—আজ থেকে আমরা বন্ধু—চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো—আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’
জাতীয় সংসদের প্যাডে লেখা আরেকটি পাতায় ক্ষোভ ও বিশ্বাসভঙ্গের কথা উঠে এসেছে। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমি হেরেছি—তুমি জিতেছো—কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো।’
ওই লেখায় নিজের হাসির আড়ালে থাকা কষ্টের কথাও তুলে ধরেছেন মরিয়ম। চিঠিগুলোর বিভিন্ন অংশে সম্পর্ক নিয়ে হতাশা, মানসিক যন্ত্রণা এবং নিজেকে প্রতারিত মনে করার অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে।
তবে চিঠিগুলোতে থাকা বক্তব্য মরিয়মের ব্যক্তিগত লেখা ও অভিযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার বিষয় রয়েছে।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় এমপি ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার
এদিকে মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান।
এর আগে রোববার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় বাসায় থাকা এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়।
মরিয়মের বাবা বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় এমপি ও তাঁর প্রথম স্ত্রীসহ আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। পরে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা বেগমকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ভিডিও ছড়ানোর পর দল থেকে বহিষ্কার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন গাজী নজরুল ইসলাম।
চলতি বছরে তাঁর ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ভিডিওতে থাকা তরুণী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন।
এরপর গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।
তবে তাঁর সংসদ সদস্য পদ এখনো বহাল রয়েছে। মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। চিঠিগুলোর বিষয়বস্তু ও অন্যান্য তথ্য তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হবে, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে।






















