ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এলপিজির ১২ কেজির সিলিন্ডারে বাড়লো ২২৩ টাকা বিএনপি নেতার করা মামলায় ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার যশোরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৪১ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ, ২৬৪ কারখানায় ছুটি বেশি দামে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি, ব্যবসায়ীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ভূমিহীনদের নামে পুকুর বরাদ্দের দাবিতে মানববন্ধন, পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ কৃষক কার্ডে মিলবে আবহাওয়ার আগাম বার্তা, থাকছে ১০ ধরনের সুবিধা মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভ ঘিরে চার মামলা, আসামি সাড়ে ১০ হাজার ডেঙ্গুতে আরও ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার নতুন গ্যাসের সন্ধান, মিলতে পারে দৈনিক ৭ মিলিয়ন ঘনফুট

আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ, ২৬৪ কারখানায় ছুটি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও কালো তালিকাভুক্ত না করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকার আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল। সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানায় কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও লাঠি নিক্ষেপ করেন। এতে অন্তত ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

শ্রমিক অসন্তোষের জেরে আশুলিয়ার ২৬৪টি পোশাক কারখানায় সোমবারের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। দুপুরের পর শ্রমিকেরা বাসায় ফিরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয় বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ, আগুন কাভার্ড ভ্যানে

শিল্প পুলিশ ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, সকালে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাড়ইপাড়া এলাকায় অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকেরা। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

অন্যদিকে, আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে নিউ এজ গ্রুপের দুটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সকালে কাজে যোগ দিলেও পরে উৎপাদন বন্ধ রেখে কর্মবিরতি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা কারখানা থেকে বের হয়ে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে জড়ো হন।

বেলা ১১টার দিকে নরসিংহপুরে হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানার সামনে রাখা কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। এতে গাড়িটির সামনের অংশ পুড়ে যায়।

এদিকে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা বেরিয়ে এসে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড, জনরন সোয়েটার লিমিটেড, ফেরারি গার্মেন্টস লিমিটেড, ডেনিটেক্স লিমিটেড, আনলিমা টেক্সটাইল লিমিটেড, আল ইসলাম টেক্সটাইল লিমিটেড ও জি.কিউ. ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও লাঠি নিক্ষেপ করা হয়। এতে অন্তত ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

২৬৪ কারখানায় সাধারণ ছুটি

শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে নিট এশিয়া, আল-মুসলিম, ট্রাউজার লাইন ও অনন্ত গার্মেন্টসসহ আশুলিয়ার ২৬৪টি কারখানায় সোমবারের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ছুটির খবরের পর শ্রমিকেরা সড়কে নেমে এলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

নিউ এজ পোশাক কারখানার এক শ্রমিক বলেন, রোববারের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের কারখানার দুই শ্রমিককে আটক করা হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে শ্রমিকেরা একযোগে কারখানা থেকে বের হয়ে যান।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, সকালে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। নিউ এজের দুই শ্রমিককে আটকের প্রতিবাদেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি পুলিশের

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের মুখে যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে ২৬৪টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। দুপুরের পর শ্রমিকেরা বাসায় ফিরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ঢাকার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার আশুলিয়া ও সাভারের শিল্পাঞ্চল পরিদর্শনে এসে ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি তৈরির পেছনে যাঁরা ইন্ধন দিচ্ছেন, তাঁদের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ, ২৬৪ কারখানায় ছুটি

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৬:৪২:২২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও কালো তালিকাভুক্ত না করার দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকার আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল। সোমবার সকাল থেকে বিভিন্ন কারখানায় কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন শ্রমিকেরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা একটি কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও লাঠি নিক্ষেপ করেন। এতে অন্তত ১২ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

শ্রমিক অসন্তোষের জেরে আশুলিয়ার ২৬৪টি পোশাক কারখানায় সোমবারের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। দুপুরের পর শ্রমিকেরা বাসায় ফিরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয় বলে জানিয়েছে শিল্প পুলিশ।

সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।

ছড়িয়ে পড়ে বিক্ষোভ, আগুন কাভার্ড ভ্যানে

শিল্প পুলিশ ও কারখানা সূত্রে জানা যায়, সকালে ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাড়ইপাড়া এলাকায় অবস্থান নেন পোশাকশ্রমিকেরা। খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।

অন্যদিকে, আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে নিউ এজ গ্রুপের দুটি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা সকালে কাজে যোগ দিলেও পরে উৎপাদন বন্ধ রেখে কর্মবিরতি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা কারখানা থেকে বের হয়ে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের অনন্ত গার্মেন্টসের সামনে জড়ো হন।

বেলা ১১টার দিকে নরসিংহপুরে হা-মীম গ্রুপের একটি কারখানার সামনে রাখা কাভার্ড ভ্যানে আগুন দেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকেরা। এতে গাড়িটির সামনের অংশ পুড়ে যায়।

এদিকে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা বেরিয়ে এসে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে অবরোধের চেষ্টা করেন। এ সময় তাঁদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পিকার্ড বাংলাদেশ লিমিটেড, জনরন সোয়েটার লিমিটেড, ফেরারি গার্মেন্টস লিমিটেড, ডেনিটেক্স লিমিটেড, আনলিমা টেক্সটাইল লিমিটেড, আল ইসলাম টেক্সটাইল লিমিটেড ও জি.কিউ. ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও লাঠি নিক্ষেপ করা হয়। এতে অন্তত ১২ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

২৬৪ কারখানায় সাধারণ ছুটি

শ্রমিক অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে নিট এশিয়া, আল-মুসলিম, ট্রাউজার লাইন ও অনন্ত গার্মেন্টসসহ আশুলিয়ার ২৬৪টি কারখানায় সোমবারের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। ছুটির খবরের পর শ্রমিকেরা সড়কে নেমে এলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। এতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

নিউ এজ পোশাক কারখানার এক শ্রমিক বলেন, রোববারের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁদের কারখানার দুই শ্রমিককে আটক করা হয়েছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে শ্রমিকেরা একযোগে কারখানা থেকে বের হয়ে যান।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইনবিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, সকালে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেন। নিউ এজের দুই শ্রমিককে আটকের প্রতিবাদেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিতে আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি পুলিশের

আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, শ্রমিক অসন্তোষের মুখে যেকোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে ২৬৪টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। দুপুরের পর শ্রমিকেরা বাসায় ফিরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

ঢাকার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, পোশাকশিল্পে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হবে।

সোমবার আশুলিয়া ও সাভারের শিল্পাঞ্চল পরিদর্শনে এসে ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের পরও যারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছেন, তাঁদের উদ্দেশ্য ভিন্ন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতি তৈরির পেছনে যাঁরা ইন্ধন দিচ্ছেন, তাঁদের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।