চার দিন এলএনজি সরবরাহ কমবে, সারাদেশে গ্যাসের স্বল্পচাপের আশঙ্কা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিট গ্রুপের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সারাদেশে গ্যাসের চাপ কম থাকতে পারে। এ সময়ে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবাসিক গ্রাহকেরা ভোগান্তিতে পড়তে পারেন।
রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সাময়িক এ অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনালে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমের জন্য বুধবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এ প্রক্রিয়ায় আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করা হচ্ছে। সামিটের টার্মিনাল বন্ধ থাকলে তা কমে প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসবে। অর্থাৎ দৈনিক সরবরাহ কমবে প্রায় ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুট, যা বর্তমান এলএনজি সরবরাহের প্রায় ৩৫ শতাংশ।
দেশে আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল রয়েছে। এর মধ্যে সামিট গ্রুপ পরিচালিত টার্মিনালের দৈনিক সরবরাহ সক্ষমতা ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত টার্মিনালের সক্ষমতা দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। দুটি টার্মিনাল মিলিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব।
দেশীয় গ্যাস উৎপাদনের সঙ্গে আমদানি করা এলএনজি যুক্ত করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরেই চাহিদার তুলনায় গ্যাসের সরবরাহ কম। ফলে দেশের বিভিন্ন এলাকার শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও আবাসিক গ্রাহকদের নিয়মিত স্বল্পচাপের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরেও সামিটের এলএনজি টার্মিনালে একই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কাজ করা হয়েছিল। এবার চার দিন টার্মিনালটির কার্যক্রম বন্ধ থাকলে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি আরও বাড়তে পারে। এতে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাসাবাড়িতে রান্নার কাজেও ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।






















