কৃষক কার্ডে মিলবে আবহাওয়ার আগাম বার্তা, থাকছে ১০ ধরনের সুবিধা

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৫:৫৭:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
কৃষিকাজে আবহাওয়াজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় কৃষকদের জন্য নতুন সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কৃষক কার্ডধারীদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঠানো হবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস। স্বাভাবিক সময়ে প্রতি ছয় ঘণ্টা পরপর এবং দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিকবার এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে আবহাওয়ার হালচাল। এতে বৃষ্টি, খরা, ঝড় কিংবা তাপমাত্রার আকস্মিক পরিবর্তন সম্পর্কে আগাম ধারণা পাবেন কৃষকেরা।
কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসের পাশাপাশি কৃষি উপকরণ সহায়তা, স্বল্প সুদে ঋণ, সেচ সুবিধা ও কৃষি বীমাসহ মোট ১০ ধরনের সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ কৃষককে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিএনপি সরকার।
কৃষি খাতে উৎপাদন ধরে রাখা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আগাম আবহাওয়ার তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অনিয়মিত বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি, খরা, ঝড় ও তাপমাত্রার ওঠানামায় প্রায়ই ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষকেরা। সময়মতো পূর্বাভাস পেলে জমিতে সেচ দেওয়া, সার ও বালাইনাশক প্রয়োগ কিংবা ফসল কাটার সময় নির্ধারণে তাঁরা আগেভাগেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন। ধান কাটার মৌসুমে বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়া গেলে ফসল দ্রুত ঘরে তোলার প্রস্তুতিও নেওয়া সম্ভব হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। নিবন্ধিত কৃষকদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসএমএস পাঠিয়ে আবহাওয়ার পরিস্থিতি জানানো হবে। ফলে আলাদাভাবে পূর্বাভাস সংগ্রহ না করেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাবেন তাঁরা।
৪৩ লাখ কৃষককে কার্ড দেওয়ার লক্ষ্য
দেশের প্রকৃত কৃষকদের একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডারের আওতায় আনা এবং তাঁদের কাছে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই কৃষক কার্ড কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্যে কৃষকদের ব্যক্তিগত ও কৃষিসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই, ব্যাংক হিসাব খোলা এবং ধাপে ধাপে কার্ড বিতরণের কার্যক্রম চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষকের হাতে কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। ইতোমধ্যে দেশের ৬৪ জেলার ৫০৩টি উপজেলার ১ হাজার ৬৮১টি কৃষি ব্লকে কৃষকদের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২২ লাখ কৃষকের তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। কার্ডের মাধ্যমে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার জন্য খোলা হয়েছে ৯ লাখ ব্যাংক হিসাব।
গত ১ অক্টোবর দেশের ৫৬ জেলার ৭৭টি উপজেলায় একযোগে কর্মসূচির কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এ পর্যায়ে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কর্মসূচির আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত প্রাক্-পাইলট পর্যায়ে দেশের আট বিভাগের ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি কৃষি ব্লকে ২০ হাজার ৮৩২ জন কৃষকের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হয়। এ পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মধ্যে ২০ হাজার ৪৮০ জনকে জনপ্রতি বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বিতরণ করা হয়েছে ৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।
কৃষকের তথ্যভান্ডার তৈরিতে গুরুত্ব
প্রকল্পের উপপরিচালক মো. রাকিবুজ্জামান খান জানান, কৃষকদের নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাঁদের প্রয়োজন ও চাহিদা চিহ্নিত করে কৃষি খাতের আধুনিকায়নে সহায়তা দেওয়ার কাজ চলছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার তৈরি হলে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদন বাড়ানোর কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কৃষক কার্ড সেলের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীন বলেন, কৃষকদের সঠিক তথ্য সংরক্ষণ এবং তাঁদের কাছে সরকারি সহায়তা সহজে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এ কর্মসূচির প্রধান লক্ষ্য।
কৃষি সচিব মো. সেলিম খান জানান, কৃষকদের মোবাইল ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাঠানোর উদ্যোগ সমন্বিত কৃষিসেবা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কৃষকেরা চাষাবাদের পরিকল্পনা করতে পারবেন। পাশাপাশি সম্ভাব্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলা, উপজেলা ও কৃষি ব্লককে কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা করছে পার্টনার প্রকল্প।



















