নভেম্বরে স্থানীয় সরকার ভোট, ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিলের পরিকল্পনা ইসির

- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০২:৪৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধিশূন্য থাকা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি জোরদার করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও পৌরসভা নির্বাচন শুরু করতে চায় কমিশন। এরপর ধাপে ধাপে অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানেও ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইতিমধ্যে ইউপি নির্বাচনের সর্বশেষ তথ্য চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে ইসি। চিঠি পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।
তবে সীমানা নিয়ে জটিলতা কিংবা আদালতে মামলা রয়েছে—এমন ইউনিয়নগুলো আপাতত নির্বাচনের আওতার বাইরে রাখা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
নভেম্বর-জানুয়ারিকেই ‘ভালো সময়’ দেখছে ইসি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিকে উপযুক্ত সময় মনে করছে কমিশন।
তাঁর ভাষায়, ফেব্রুয়ারিতে রমজান থাকায় ওই সময়ে ভোট আয়োজন করা হবে না। মার্চের শেষ দিকে কিছু নির্বাচন করা যেতে পারে। এরপর দেশে ঝড়-তুফানের মৌসুম শুরু হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিল এবং নভেম্বরে ভোট শুরুর পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে ইসি।
তবে শিক্ষার্থীদের কোনো পরীক্ষা রয়েছে কি না, সেটিও ভোটের সময়সূচি নির্ধারণের আগে বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ইউপি দিয়ে শুরু, সঙ্গে পৌরসভাও
নির্বাচন কমিশনার জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর সঙ্গে পৌরসভা নির্বাচনও আয়োজন করা হবে।
তবে আগামী বছরেই সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে না কমিশন।
কত ধাপে ইউপি নির্বাচন হবে—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের মতোই মোটামুটি ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন করা হবে।
মামলা থাকা ইউনিয়নগুলোকে ভোটের বাইরে রাখার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সীমানা নির্ধারণ নিয়ে যেসব ইউনিয়নে জটিলতা রয়েছে, সেগুলো সমাধানের জন্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। জটিলতা থাকা এলাকাগুলোতে আপাতত নির্বাচন হবে না।
৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা
নভেম্বরের ভোট সামনে রেখে প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে কমিশন। ইসি সূত্র জানায়, আগামী ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
এর পাশাপাশি ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, নির্বাচনি মালামাল কেনা ও সরবরাহসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও চলছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য কেনা বিপুল পরিমাণ নির্বাচনি সামগ্রী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে। এর মধ্যে হোসিয়ান ব্যাগ, গানি ব্যাগ, মার্কিং সিল, অফিসিয়াল সিলসহ বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে। সংসদ নির্বাচনের পর যাতে দ্রুত স্থানীয় সরকারের ভোট আয়োজন করা যায়, সে লক্ষ্যেই এসব সামগ্রী আগে থেকে কেনা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ইসি কর্মকর্তারা।
নিরাপত্তায় বাড়তি প্রস্তুতি
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে ইসি। সারা দেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে পুলিশ সদর দপ্তরের কাছে প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে।
পুলিশ প্রধান আলী হোসেন ফকির জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা কমিটির সমন্বয় সেল গঠন এবং জেলা-উপজেলাভিত্তিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হবে।
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে চায় কমিশন। প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
যারা প্রার্থী হতে পারবেন না
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থিতার ক্ষেত্রেও কিছু বিধিনিষেধের কথা জানিয়েছে কমিশন। ইসি সূত্র অনুযায়ী,এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপি এবং খেলাপি ঋণের জামিনদাররা প্রার্থী হতে পারবেন না। অন্যরা আগের নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।
ইসি জানিয়েছে, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন সংশোধনের বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো প্রস্তুত করা হয়েছে।
দুই বছর ধরে জনপ্রতিনিধিশূন্য স্থানীয় সরকার
দেশে বর্তমানে৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ১৩টি সিটি করপোরেশন ও ৬১টি জেলা পরিষদ রয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এরপর বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা ও জেলা পরিষদের বড় অংশই জনপ্রতিনিধিশূন্য হয়ে পড়ে।
এ অবস্থায় প্রায় দুই বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই চলছে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো।
এবার সেই শূন্যতা কাটিয়ে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোলে সেপ্টেম্বরেই তফসিল এবং নভেম্বরে শুরু হতে পারে ভোটের লড়াই।
চলতি অর্থবছরেই পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন, বরাদ্দ ৬ হাজার কোটি টাকা
চলতি অর্থবছরের মধ্যেই দেশের পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এসব নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাজেটে ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলারের বৈঠক হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের আলোচনার বিষয়বস্তু জানান প্রতিমন্ত্রী।






















