ঢাকা ০৩:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

কর্মস্থলে নারী শ্রমিকের মৃত্যু, বিক্ষোভে সড়ক অবরোধ-ভাঙচুর

গাজীপুর প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:০৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সহকর্মীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও ছুটি না পাওয়ায় কর্মস্থলে কাজ করতে গিয়ে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকার কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত লিজা বেগম (৩৭) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হুগলাবানিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার কড়ইতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ওই কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।

সহকর্মীরা জানান, লিজা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিলেন। বুধবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি সুপারভাইজারের কাছে ছুটির আবেদন করেন। তবে ছুটি না পেয়ে কাজ চালিয়ে যান। রাত পৌনে ১টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মেঝেতে পড়ে যান তিনি। পরে সহকর্মীরা তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

শ্রমিকদের অভিযোগ, অসুস্থতার কথা জানিয়ে বারবার ছুটি চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভে যোগ দেন। তারা বরমী-মাওনা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে মিছিল করেন। এ সময় কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড, ট্রিপল অ্যাপারেলস, এমএসসি ও ব্লু প্ল্যানেট নিটওয়্যারসহ কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ট্রিপল অ্যাপারেলসের ভেতরে থাকা কয়েকটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন) মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, একজন নারী শ্রমিক অসুস্থ অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি ছুটির আবেদন করেছিলেন কি না, তা তার জানা নেই। ঘটনার পর কারখানায় এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আশপাশের কয়েকটি কারখানায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ কাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

কর্মস্থলে নারী শ্রমিকের মৃত্যু, বিক্ষোভে সড়ক অবরোধ-ভাঙচুর

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৩:০৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সহকর্মীদের বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শ্রমিকদের অভিযোগ, অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও ছুটি না পাওয়ায় কর্মস্থলে কাজ করতে গিয়ে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাতে উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকার কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত লিজা বেগম (৩৭) পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার হুগলাবানিয়া গ্রামের আশরাফ আলীর মেয়ে। তিনি শ্রীপুর পৌরসভার কড়ইতলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে ওই কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।

সহকর্মীরা জানান, লিজা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিলেন। বুধবার রাতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি সুপারভাইজারের কাছে ছুটির আবেদন করেন। তবে ছুটি না পেয়ে কাজ চালিয়ে যান। রাত পৌনে ১টার দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মেঝেতে পড়ে যান তিনি। পরে সহকর্মীরা তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

শ্রমিকদের অভিযোগ, অসুস্থতার কথা জানিয়ে বারবার ছুটি চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভে যোগ দেন। তারা বরমী-মাওনা আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে মিছিল করেন। এ সময় কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড, ট্রিপল অ্যাপারেলস, এমএসসি ও ব্লু প্ল্যানেট নিটওয়্যারসহ কয়েকটি কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ট্রিপল অ্যাপারেলসের ভেতরে থাকা কয়েকটি যানবাহনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

কালার অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক (অপারেশন) মো. শাহিদুল ইসলাম বলেন, একজন নারী শ্রমিক অসুস্থ অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি ছুটির আবেদন করেছিলেন কি না, তা তার জানা নেই। ঘটনার পর কারখানায় এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আশপাশের কয়েকটি কারখানায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ কাজ করছে।