ঢাকা ০৮:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাগেজ বন্দী মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৬

জামালপুর প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জামালপুরে লাগেজে বন্দী মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অটো চালককে হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বুধবার (২৪ জুন) বিকালে শহরের বাগেরহাটা এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।

পংকজ দত্ত জানান, গত ২৩ জুন মধ্যরাতে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের ডেফলা ব্রিজ এলাকায় একটি ধান ক্ষেত্রে লাগেজ বন্দি অবস্থায় নায়েব আলী (৩৫) নামের এক অটোরিক্সা চালকের মরদেহ পাওয়া যায়। তারপর ওই রাতে নিহত নায়েব আলীর ছেলে মো: মমিন বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় মামলা দায়ের করে। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্তে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল রাতে মেলান্দহ উপজেলার চাকদহ সর্দারবাড়ী এলাকার কুদরত উল্লাহ ছেলে মো: নাহিদুল ইসলাম (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি তার সংসারের জন্য দশ হাজার টাকার প্রয়োজনে অটোরিক্সা চুরির পরিকল্পনা করে। পরে তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগীদের নিয়ে গত ২১ জুন রাতে যাত্রী সেজে নায়েব আলীর অটোরিক্সায় উঠে এবং তাকে হত্যা করে তার অটোরিক্সা নিয়ে চলে যায়। পরে তিনি সেই অটোরিক্সার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে প্রায় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে।

এরপর পিবিআই জেলার বিভিন্ন অটোরিক্সার দোকানে অভিযান পরিচালনা করে একটি মোবাইল ফোন ও সেই অটোরিক্সার ৪টি ব্যাটারী, ১টি কন্ট্রোলার, ৩টি চাকা, মোটর ডিপেন্সিয়াল, ২টি সকেট বাম্পার, অটোরিক্সার সামনের গ্লাসসহ লোহার বডির বিভিন্ন কাটা অংশ উদ্ধার করা হয়। এবং চোরাই মালামাল ক্রয়ের সাথে জড়িত থাকায় সোলাইমান কবির (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪১), আব্দুল কাদের (৫৬), রাসেল হোসেন (৩৪) ও সাগর পাশা (২৬) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের আজ দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নাহিদুল ইসলামের অন্য সহযোগীদের এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পংকজ দত্ত আরো বলেন, পিবিআই প্রধান মো: মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে পিবিআই’য়ের অন্যান্য ইউনিটের ন্যায় পিবিআই, জামালপুর ইউনিটও যে কোন ধরণের চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য দ্রুততম সময়ে উদঘাটনের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই হত্যাকান্ডের সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে পিবিআই, জামালপুর টিম মামলার রহস্য উদঘাটনে নেমে যায়। অত্র ইউনিটের চৌকস সদস্যরা মামলা রুজুর মাত্র ১২ ঘন্টার মধ্যে এই মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামী গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার করে তাদের কর্মদক্ষতার বহি: প্রকাশ ঘটিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

লাগেজ বন্দী মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৬

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০৮:১২:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

জামালপুরে লাগেজে বন্দী মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে অটো চালককে হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

বুধবার (২৪ জুন) বিকালে শহরের বাগেরহাটা এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই জামালপুরের পুলিশ সুপার পংকজ দত্ত।

পংকজ দত্ত জানান, গত ২৩ জুন মধ্যরাতে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের ডেফলা ব্রিজ এলাকায় একটি ধান ক্ষেত্রে লাগেজ বন্দি অবস্থায় নায়েব আলী (৩৫) নামের এক অটোরিক্সা চালকের মরদেহ পাওয়া যায়। তারপর ওই রাতে নিহত নায়েব আলীর ছেলে মো: মমিন বাদী হয়ে ইসলামপুর থানায় মামলা দায়ের করে। পরে মামলাটির তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্তে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল রাতে মেলান্দহ উপজেলার চাকদহ সর্দারবাড়ী এলাকার কুদরত উল্লাহ ছেলে মো: নাহিদুল ইসলাম (৩০) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি তার সংসারের জন্য দশ হাজার টাকার প্রয়োজনে অটোরিক্সা চুরির পরিকল্পনা করে। পরে তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগীদের নিয়ে গত ২১ জুন রাতে যাত্রী সেজে নায়েব আলীর অটোরিক্সায় উঠে এবং তাকে হত্যা করে তার অটোরিক্সা নিয়ে চলে যায়। পরে তিনি সেই অটোরিক্সার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ খুলে প্রায় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে।

এরপর পিবিআই জেলার বিভিন্ন অটোরিক্সার দোকানে অভিযান পরিচালনা করে একটি মোবাইল ফোন ও সেই অটোরিক্সার ৪টি ব্যাটারী, ১টি কন্ট্রোলার, ৩টি চাকা, মোটর ডিপেন্সিয়াল, ২টি সকেট বাম্পার, অটোরিক্সার সামনের গ্লাসসহ লোহার বডির বিভিন্ন কাটা অংশ উদ্ধার করা হয়। এবং চোরাই মালামাল ক্রয়ের সাথে জড়িত থাকায় সোলাইমান কবির (৫০), শফিকুল ইসলাম (৪১), আব্দুল কাদের (৫৬), রাসেল হোসেন (৩৪) ও সাগর পাশা (২৬) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের আজ দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত নাহিদুল ইসলামের অন্য সহযোগীদের এখনো গ্রেফতার করা যায়নি। তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পংকজ দত্ত আরো বলেন, পিবিআই প্রধান মো: মোস্তফা কামালের নেতৃত্বে পিবিআই’য়ের অন্যান্য ইউনিটের ন্যায় পিবিআই, জামালপুর ইউনিটও যে কোন ধরণের চাঞ্চল্যকর মামলার রহস্য দ্রুততম সময়ে উদঘাটনের জন্য প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় এই হত্যাকান্ডের সংবাদ প্রাপ্তির সাথে সাথে পিবিআই, জামালপুর টিম মামলার রহস্য উদঘাটনে নেমে যায়। অত্র ইউনিটের চৌকস সদস্যরা মামলা রুজুর মাত্র ১২ ঘন্টার মধ্যে এই মামলার রহস্য উদঘাটন, আসামী গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধার করে তাদের কর্মদক্ষতার বহি: প্রকাশ ঘটিয়েছে।