শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করল ইরান-আমেরিকা, খুলছে হরমুজ
অবশেষে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের অবসান!
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:১৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে
দীর্ঘ কয়েক মাসের উত্তেজনা ও সংঘাতের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। এই সমঝোতার ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডর হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার ডিজিটাল মাধ্যমে সমঝোতা নথিতে স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। এর আগে ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ছিল। তবে আগেই ডিজিটাল স্বাক্ষর সম্পন্ন হওয়ায় পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা এক কনফারেন্স কলে চুক্তির বেশ কয়েকটি মূল শর্ত তুলে ধরেছেন। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব শর্তের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
সমঝোতার প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত বন্ধে উভয় পক্ষের অঙ্গীকার, একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন, এবং বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে ৬০ দিনের আলোচনার উদ্যোগ।
চুক্তি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীতে আরোপিত নৌ অবরোধ ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর বিষয়েও আলোচনা হবে।
ইরানও হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি ওমান ও অঞ্চলের অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নৌ চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৃহত্তর কাঠামো তৈরির কথা বলা হয়েছে।
চুক্তিতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানের পুনর্গঠনের জন্য প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের একটি আন্তর্জাতিক সহায়তা কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের অর্থায়ন ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি পরবর্তী আলোচনায় চূড়ান্ত হবে।
এছাড়া ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নীতিগত সম্মতি, বাজেয়াপ্ত সম্পদের একটি অংশ ফেরত দেওয়া এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার বিষয়েও সমঝোতা হয়েছে বলে জানা গেছে।
চুক্তির আওতায় ইরান পরমাণু অস্ত্র না তৈরির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করবে এবং সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ব্যবস্থাপনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নিয়েছে।
চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণের জন্য দুই দেশের যৌথ তত্ত্বাবধানে একটি পর্যবেক্ষণ কাঠামো গঠনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সমঝোতা কার্যকর হলে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে চুক্তির বাস্তবায়ন ও পরবর্তী আলোচনা কতটা সফল হয়, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।





















