৩০ হাজার কোটি ডলারের বিনিময়ে কি ইরানের ‘নীরবতা’?
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৩২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে
যুদ্ধবিরতির মাঝেই স্থায়ী শান্তির পথ খুঁজতে সুইজারল্যান্ডে মুখোমুখি বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের সঙ্গে প্রথম দফা বৈঠক করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে ইসরায়েল-লেবানন সংঘাত ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়।
বৈঠকের পর আরাঘচি দাবি করেন, আলোচনায় তেহরানের বেশ কিছু অগ্রগতি হয়েছে। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে থাকা পাকিস্তান ও কাতারও দুই পক্ষের আলোচনার বিষয়ে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।
সূত্রের দাবি, ইসরায়েল-লেবানন সংঘাত নিয়ন্ত্রণে একটি ‘ডি-এসকেলেশন সেল’ গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট পক্ষ ও লেবাননের প্রতিনিধিরা থাকবেন বলে জানা গেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বাস্তবে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ইসরায়েল-লেবানন সংঘাতে দীর্ঘদিন ধরে হিজবুল্লাহর পাশে ছিল ইরান। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি হামলার পরও তেহরান সরাসরি সামরিক প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এর পেছনে রয়েছে কৌশলগত হিসাব।
তাদের মতে, ইরান বর্তমানে নতুন করে বড় সংঘাতে জড়াতে চাইছে না। বরং মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও আন্তর্জাতিক অবস্থান শক্তিশালী করাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
পশ্চিমা গণমাধ্যমের দাবি, সম্ভাব্য সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল হতে পারে। এমনকি যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়ার বিষয়েও আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে ইরানের নীতিতে পরিবর্তনের পেছনে শুধু অর্থনৈতিক কারণ নয়, সামরিক বাস্তবতাও কাজ করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশটির অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। এই বাহিনীই ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের বড় হাতিয়ার।
লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস ও ইয়েমেনের হুথিদের মতো গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
বিশ্লেষকদের মতে, শান্তি আলোচনায় সফল হতে হলে ইরানকে একদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজতে হবে, অন্যদিকে আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্যও বজায় রাখতে হবে।
এখন বড় প্রশ্ন—ইরানের এই কৌশলী নীরবতা কি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির ইঙ্গিত, নাকি সাময়িক কৌশল? সময়ই দেবে এর উত্তর।

















