ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুটবলের জাদুকরের ৩৯ বছর! মেসির রূপকথার গল্প

ক্রীড়া প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৪১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আর্জেন্টিনার রোজারিওর ধুলোবালি মাখা রাস্তায় যে ছোট্ট ছেলেটি বলকে পায়ের সঙ্গে আঠার মতো আটকে রেখে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের হতবাক করে দিত, কে জানত সেই দুর্বল শারীরিক গড়নের বালকই একদিন বদলে দেবেন বিশ্ব ফুটবলের ভাষা। আজ ২৪ জুন, সেই ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির ৩৯তম জন্মদিন। গত দুই দশক ধরে যিনি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে উপহার দিয়েছেন এক জীবন্ত মহাকাব্য।

মেসির পথচলা শুরু হয়েছিল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। শৈশবে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি তাঁর স্বপ্নের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু ভাগ্য যেন অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। বার্সেলোনার সেই বিখ্যাত ন্যাপকিনে করা চুক্তিই হয়ে উঠেছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ক্যাম্প ন্যুতে এসে ছোট্ট মেসি ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন এক মহাতারকা।

লম্বা চুলের, ১৯ নম্বর জার্সির সেই তরুণ যখন রোনালদিনহোর পাস থেকে ক্যারিয়ারের প্রথম গোল করেছিলেন, তখনই শুরু হয়েছিল এক নতুন যুগের। পেপ গার্দিওলার অধীনে ‘ফলস নাইন’ ভূমিকায় মেসি শুধু গোল করেননি, ফুটবলকে দিয়েছেন নতুন এক দর্শন। ব্যালন ডি’অর, ট্রফি আর রেকর্ডে ভরে উঠেছে তাঁর ক্যারিয়ার।

তবে সাফল্যের আড়ালেও ছিল বেদনার গল্প। ক্লাবের হয়ে অপ্রতিরোধ্য মেসি জাতীয় দলের জার্সিতে দীর্ঘ সময় খুঁজেছেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে হার, পরপর কোপা আমেরিকা ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে মেসিকে শুনতে হয়েছে সমালোচনার তীর। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন অভিমানে।

কিন্তু মহানায়কের গল্প কখনো অসম্পূর্ণ থাকে না। ২০২১ সালে ব্রাজিলের মাটিতে কোপা আমেরিকা জয় যেন নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মেসি লিখলেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মহাকাব্য।

সৌদি আরবের কাছে ধাক্কা খেয়ে শুরু করা সেই বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয় লুসাইল স্টেডিয়ামে স্বপ্নপূরণের মধ্য দিয়ে। মেক্সিকোর বিপক্ষে জাদুকরী গোল, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অসাধারণ নেতৃত্ব, আর ফ্রান্সের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফাইনাল—সবকিছু মিলিয়ে মেসির বিশ্বকাপ জয় হয়ে ওঠে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

টাইব্রেকারে শেষ শট জালে জড়ানোর পর হাঁটু গেড়ে মাঠে বসে পড়েছিলেন মেসি। কালো ‘বিশত’ পরে যখন তিনি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন, তখন যেন পূর্ণতা পেল একটি দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প।

ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে এখন মেসি খেলেন চাপমুক্ত আনন্দের জন্য। ৮টি ব্যালন ডি’অর কিংবা অসংখ্য রেকর্ড তাঁর সাফল্যের পরিমাপ হতে পারে, কিন্তু মেসির আসল জাদু লুকিয়ে আছে বল পায়ে নিলেই তৈরি হওয়া সেই মুহূর্তে—যেখানে পুরো স্টেডিয়াম নিঃশব্দ হয়ে অপেক্ষা করে তাঁর পরবর্তী জাদুর জন্য।

শুভ জন্মদিন, লিওনেল মেসি। একটি প্রজন্মকে ফুটবলের সৌন্দর্য দেখানোর জন্য ধন্যবাদ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ফুটবলের জাদুকরের ৩৯ বছর! মেসির রূপকথার গল্প

সংবাদ প্রকাশের সময় : ০১:৪১:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

আর্জেন্টিনার রোজারিওর ধুলোবালি মাখা রাস্তায় যে ছোট্ট ছেলেটি বলকে পায়ের সঙ্গে আঠার মতো আটকে রেখে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের হতবাক করে দিত, কে জানত সেই দুর্বল শারীরিক গড়নের বালকই একদিন বদলে দেবেন বিশ্ব ফুটবলের ভাষা। আজ ২৪ জুন, সেই ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির ৩৯তম জন্মদিন। গত দুই দশক ধরে যিনি কোটি ফুটবলপ্রেমীকে উপহার দিয়েছেন এক জীবন্ত মহাকাব্য।

মেসির পথচলা শুরু হয়েছিল সংগ্রামের মধ্য দিয়ে। শৈশবে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি তাঁর স্বপ্নের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু ভাগ্য যেন অন্য কিছু লিখে রেখেছিল। বার্সেলোনার সেই বিখ্যাত ন্যাপকিনে করা চুক্তিই হয়ে উঠেছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল। ক্যাম্প ন্যুতে এসে ছোট্ট মেসি ধীরে ধীরে হয়ে উঠলেন এক মহাতারকা।

লম্বা চুলের, ১৯ নম্বর জার্সির সেই তরুণ যখন রোনালদিনহোর পাস থেকে ক্যারিয়ারের প্রথম গোল করেছিলেন, তখনই শুরু হয়েছিল এক নতুন যুগের। পেপ গার্দিওলার অধীনে ‘ফলস নাইন’ ভূমিকায় মেসি শুধু গোল করেননি, ফুটবলকে দিয়েছেন নতুন এক দর্শন। ব্যালন ডি’অর, ট্রফি আর রেকর্ডে ভরে উঠেছে তাঁর ক্যারিয়ার।

তবে সাফল্যের আড়ালেও ছিল বেদনার গল্প। ক্লাবের হয়ে অপ্রতিরোধ্য মেসি জাতীয় দলের জার্সিতে দীর্ঘ সময় খুঁজেছেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে হার, পরপর কোপা আমেরিকা ব্যর্থতা—সব মিলিয়ে মেসিকে শুনতে হয়েছে সমালোচনার তীর। ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণাও দিয়েছিলেন অভিমানে।

কিন্তু মহানায়কের গল্প কখনো অসম্পূর্ণ থাকে না। ২০২১ সালে ব্রাজিলের মাটিতে কোপা আমেরিকা জয় যেন নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। এরপর ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে মেসি লিখলেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মহাকাব্য।

সৌদি আরবের কাছে ধাক্কা খেয়ে শুরু করা সেই বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হয় লুসাইল স্টেডিয়ামে স্বপ্নপূরণের মধ্য দিয়ে। মেক্সিকোর বিপক্ষে জাদুকরী গোল, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে অসাধারণ নেতৃত্ব, আর ফ্রান্সের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ফাইনাল—সবকিছু মিলিয়ে মেসির বিশ্বকাপ জয় হয়ে ওঠে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

টাইব্রেকারে শেষ শট জালে জড়ানোর পর হাঁটু গেড়ে মাঠে বসে পড়েছিলেন মেসি। কালো ‘বিশত’ পরে যখন তিনি বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরলেন, তখন যেন পূর্ণতা পেল একটি দীর্ঘ অপেক্ষার গল্প।

ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে এসে ইন্টার মায়ামির জার্সিতে এখন মেসি খেলেন চাপমুক্ত আনন্দের জন্য। ৮টি ব্যালন ডি’অর কিংবা অসংখ্য রেকর্ড তাঁর সাফল্যের পরিমাপ হতে পারে, কিন্তু মেসির আসল জাদু লুকিয়ে আছে বল পায়ে নিলেই তৈরি হওয়া সেই মুহূর্তে—যেখানে পুরো স্টেডিয়াম নিঃশব্দ হয়ে অপেক্ষা করে তাঁর পরবর্তী জাদুর জন্য।

শুভ জন্মদিন, লিওনেল মেসি। একটি প্রজন্মকে ফুটবলের সৌন্দর্য দেখানোর জন্য ধন্যবাদ।