সিলেটে বেড়েছে ছিনতাই, অন্তরালে মহিলা গ্যাং লাকি ও খাদিজা
- সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:৫৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ ৩০ বার পড়া হয়েছে
সিলেট নগরীতে প্রতিদিন প্রায় শতাধিক মোবাইল চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। বিগত কয়েক দিন থেকে সিলেট নগরীতে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা। মাঝে মধ্যে দু-একজন ছিচঁকে ছিনতাইকারী আটক হলেও মূলহোতা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় জনমনে বিরাজ করছে আতংক। বিশেষ করে মোবাইল ছিনতাই যেন নিত্যনৈমত্তিক একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছিনতাইকারীদের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কেউ। গত এক মাসে সিলেট নগরীতে অর্ধশতাধিক চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়িয়েছে জনমনে।
নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন নগরবাসী। ঘরে বাইরে তাদের এখন চুরি ও ছিনতাই আতঙ্ক তাড়া করছে। তবে এবার এসব ছিনতাকারীদের গ্রেফতারসহ তাদের গডফাদারদের গ্রেফতারের জন্য এসএমপি পুলিশ কমিশনারের কঠিন নির্দেশের পর মাঠে নামছে একাধিকটিম। পোষাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোষাকে ডিবির সদস্যরা মাঠে নেমেছে। অনেক ছিনতাইকারীকে ইতমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশও বিব্রত। এটি একটি লজ্জাজনক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এবার যে কোন ভাবে মুলহুতাদের গ্রেফতারের আওয়তায় নিয়ে আসতে চায় পুলিশ।
ছিনতাইকারীদের গডফাদার আফজল হোসেন এর বিষয়টি এবার তাদের নজরে এসেছে। কোন ভাবেই ছিনতাইকারীদের ছাড় দেওয়া হবেনা। এমনটি জানালেন এসএমসপি মিডিয়া অফিসার সাইফুল ইসলাম।
এদিকে সিলেটে চালিবন্দরে তরুণীকে চাকু দেখিয়ে মোবাইল ফোন ও নাকফুল ছিনতাইকারী দুই নারী। ওই দুই নারীকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একইসাথে সাথে ছিনতাই হওয়া একটি স্বর্নের নাকফুলও উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৭ জুন ২০২৬ইং) রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেল এ তথ্য জানায়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বিশ্বনাথের লামাকাজী গ্রামের নুরুল ইসলাম ও সমলা বেগমের মেয়ে বর্তমানে নগরীর জালালাবাদ থানার আখালিয়া নয়াবাজার এলাকার বাসিন্দা তানিয়া (১৮) ও এয়ারপোর্ট থানার বাদামবাগিচা এলাকার লিটন মিয়ার কলোনির বাসিন্দা আব্দুল খালেক ও মিনারা বেগমের ছেলে ঝুমা আক্তার।
শনিবার (৬ জুন ) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে সুবহানীঘাট এলাকা থেকে একজনকে এবং পরে বাদামবাগিচা এলাকা থেকে ঝুমাকে গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, শনিবার (৬ জুন) বিকেলে নগরীর চালিবন্দর কাষ্টঘর এলাকার প্রবেশ মুখে কুলসুমা আক্তার (১৯) নামের এক তরুণীকে তিনজন ছিনতাইকারী চাকু দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ১টি মোবাইল সেট ও একটি স্বর্ণের নাকফুল ছিনিয়ে নেয়। এসময় ওই তরুণী চিৎকার দিয়ে ছিনতাইকারীদের পিছু ধাওয়া করেন। সোবহানীঘাট ইবনেসিনা হাসপাতালের সামনে পৌঁছার পর অন্যান্য লোকজনের সহযোগীতায় নাকফুলসহ তানিয়াকে আটক করেন।
পরে কলসুমা কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ এয়ারপোর্ট থানার বাদামবাগিচায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় ২নং আসামি ঝুমাকে গ্রেফতার করে।
তাদের দু’জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম।
খোজ নিয়ে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত দুই মহিলা হানি ট্র্যাপ এর নারী কিং ও মহিলা ছিনতাইকারী লাকি আহমেদ ওরফে লাকি আক্তার ও তার বন্ধবী খাদিজা বেগম গ্রুপের সদস্য। খাদিজার নিকট আত্মিয় হচ্ছে গ্রেফতার কৃত তানিয়া (১৮)।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ও কিনব্রিজ, জিন্দাবাজার, শাহজালাল মাজার, আম্বরখানা, কদমতলী বাস টার্মিনাল, উপশহর, শিবগঞ্জ, আম্বরখানা, টিলাগড়, তেররতন, ওসমানী মেডিকেল, রেলষ্টেশন,হুমায়ূন রশিদ চত্ত্বর এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছিনতাকারী সংঘবদ্ধচক্র বেশ তৎপর হয়ে উঠেছে। এই চক্রের আন্ডার ওয়াল্ডের অপরাধী লাকি অন্যরকম এক সংঘবদ্ধ চক্রের হয়ে কাজ করছে।
এসএমপির তথ্যমতে, নগরীতে গত বছরের নভেম্বরে ১৯টি চুরি, ৮ টি ছিনতাই ও একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এর আগের মাস অক্টোবরে একটি ডাকাতি, ৫ টি ছিনতাই ও ১২টি চুরির ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় রিতিমতো প্রশাসনের ভূমিকাও প্রশ্নের সম্মুখীন করছে। ছিনতাইকারীদের টার্গেট থেকে বাদ যাচ্ছে না সাংবাদিক, পুলিশ সদস্য, মসজিদের ইমাম, মাদ্রাসার ছাত্র, স্কুল-কলেজের ছাত্র-শিক্ষক, চাকরিজীবী, ছাত্র-ছাত্রী, ব্যবসায়ীসহ নগরীতে বিভিন্ন কাজে আসা সাধারণ মানুষ। সিলেট বন্দরবাজার এলাকার মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রায় প্রতি ঘন্টায় একটি ঘটে থাকে।

















