ঢাকা ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুয়া বন্ধে নতুন আইন: অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ ৪৭ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দেশে বিভিন্ন ধরনের জুয়া, অনলাইন জুয়া ও বেটিং বন্ধে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ’ নামে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, বাজি, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ ২৪ ধরনের বিষয়কে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবিত আইনে ১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ বাতিল করে নতুন আইন করার কথা বলা হয়েছে। এতে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে জড়িত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া অনলাইন বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেড় শতাধিক বছরের পুরোনো বর্তমান আইন আধুনিক সময়ের জুয়া নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তির ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া, ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভিপিএন ও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে নতুন ধরনের অপরাধ বাড়ছে।

তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম অর্থপাচার, প্রতারণা, সামাজিক অস্থিরতা এবং তরুণ সমাজের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুয়া প্রতিরোধে নতুন ও কার্যকর আইন প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত জুয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

জুয়া বন্ধে নতুন আইন: অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:০১:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

দেশে বিভিন্ন ধরনের জুয়া, অনলাইন জুয়া ও বেটিং বন্ধে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ’ নামে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, বাজি, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ ২৪ ধরনের বিষয়কে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবিত আইনে ১৮৬৭ সালের ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট’ বাতিল করে নতুন আইন করার কথা বলা হয়েছে। এতে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে জড়িত হলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন।

অনলাইন জুয়া বা দূরবর্তী জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে শাস্তি আরও কঠোর করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া অনলাইন বেটিংয়ের সঙ্গে জড়িতদের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডের প্রস্তাব করা হয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংয়ের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেড় শতাধিক বছরের পুরোনো বর্তমান আইন আধুনিক সময়ের জুয়া নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট নয়। প্রযুক্তির ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া, ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভিপিএন ও ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে নতুন ধরনের অপরাধ বাড়ছে।

তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম অর্থপাচার, প্রতারণা, সামাজিক অস্থিরতা এবং তরুণ সমাজের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাই সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জুয়া প্রতিরোধে নতুন ও কার্যকর আইন প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত আইন কার্যকর হলে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত জুয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।