ঢাকা ১১:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউক্রেনের সেনাকে ধ্বংস করবে তালিবানের ‘মানববোমা’!

বাংলা টাইমস ডেস্ক
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাশিয়া ও আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের মধ্যে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকায় এই চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নানা বিশ্লেষণ সামনে আসছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ মে মস্কোতে তালিবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং রুশ নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগুর মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে এই চুক্তির আওতায় তালিবান বাহিনী সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি। এর আওতায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং আধুনিক সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী, বিশেষ করে আইএসের বিরুদ্ধে যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হচ্ছে।

তবে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এই সহযোগিতার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। যদিও এ ধরনের সম্ভাবনা নিয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান অভিযান এবং পরবর্তী কয়েক দশক ধরে রাশিয়া ও তালিবানের সম্পর্ক ছিল বৈরিতাপূর্ণ। দীর্ঘদিন তালিবানকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। আফগানিস্তানে ক্ষমতার পালাবদলের পর মস্কো ও কাবুলের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রাশিয়া ও তালিবানের এই ঘনিষ্ঠতা মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে চুক্তির প্রকৃত প্রভাব এবং এর ভবিষ্যৎ ফলাফল নির্ভর করবে দুই পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ইউক্রেনের সেনাকে ধ্বংস করবে তালিবানের ‘মানববোমা’!

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১০:২৯:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

রাশিয়া ও আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের মধ্যে সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকায় এই চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নানা বিশ্লেষণ সামনে আসছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ মে মস্কোতে তালিবান সরকারের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং রুশ নিরাপত্তা পরিষদের সচিব সের্গেই শোইগুর মধ্যে একটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তবে এই চুক্তির আওতায় তালিবান বাহিনী সরাসরি ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি। এর আওতায় রাশিয়ার পক্ষ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং আধুনিক সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদানের বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। পাশাপাশি আফগানিস্তান ও মধ্য এশিয়ায় সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠী, বিশেষ করে আইএসের বিরুদ্ধে যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করা হচ্ছে।

তবে কিছু পর্যবেক্ষক মনে করছেন, এই সহযোগিতার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রেও পড়তে পারে। যদিও এ ধরনের সম্ভাবনা নিয়ে এখনো কোনো নির্ভরযোগ্য সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, সোভিয়েত ইউনিয়নের আফগানিস্তান অভিযান এবং পরবর্তী কয়েক দশক ধরে রাশিয়া ও তালিবানের সম্পর্ক ছিল বৈরিতাপূর্ণ। দীর্ঘদিন তালিবানকে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই পক্ষের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। আফগানিস্তানে ক্ষমতার পালাবদলের পর মস্কো ও কাবুলের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় রাশিয়া ও তালিবানের এই ঘনিষ্ঠতা মধ্য এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে চুক্তির প্রকৃত প্রভাব এবং এর ভবিষ্যৎ ফলাফল নির্ভর করবে দুই পক্ষের বাস্তব পদক্ষেপের ওপর।