ঢাকা ০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উৎপাদনে ফিরলেও দাম নিয়ে হতাশ লবণচাষিরা

কক্সবাজার প্রতিনিধি
  • সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১২:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে
বাংলা টাইমস অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

উপকূলীয় এলাকায় তীব্র রোদের সুযোগে আবারও লবণ উৎপাদনে ফিরেছেন প্রায় ৪০ হাজার চাষি। বৈরী আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর লবণ মাঠগুলো পুনরায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। কোথাও কালো ত্রিপল বিছানো হচ্ছে, আবার কোথাও লবণাক্ত পানি প্রবেশ করিয়ে উৎপাদনের উপযোগী করা হচ্ছে মাঠ।

চাষিরা জানান, টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় সম্প্রতি লবণ উৎপাদন বন্ধ ছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৬৮ হাজার একর লবণ মাঠ। এখন আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগামী ৩–৪ দিনের মধ্যেই পুরোদমে উৎপাদন শুরু হওয়ার আশা করছেন তারা।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর এলাকার দুই ভাই মোস্তাক আহমদ ও জসিম উদ্দিন জানান, বৈরী আবহাওয়ায় তাদের সাড়ে ৩ একর জমির প্রায় ৫০০ মণ লবণ নষ্ট হয়েছে। এরপরও তারা আবারও মাঠ প্রস্তুত করছেন নতুন উৎপাদনের জন্য।

মোস্তাক আহমদ বলেন, বৃষ্টিতে বড় ক্ষতি হয়েছে, তবে এখন রোদ থাকায় দ্রুত মাঠ প্রস্তুত করছি। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যেই উৎপাদন শুরু হবে।

জসিম উদ্দিন বলেন, এখনই লবণ উৎপাদনের উপযুক্ত সময়, তাই দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।

তবে উৎপাদন শুরু হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ চাষিরা। তাদের অভিযোগ, বাজারে প্যাকেটজাত লবণ ৩০–৪০ টাকায় বিক্রি হলেও মাঠ পর্যায়ে তারা পাচ্ছেন মাত্র ৪–৫ টাকা। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানান তারা।

ইসলামপুরের চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও লবণের দাম বাড়েনি। এতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

চৌফলদণ্ডীর নবী হোসেন বলেন, খরচ বাড়লেও দাম কমে গেছে, এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে।

ঘোনারপাড়া এলাকার সৈয়দ আলম জানান, উৎপাদন খরচ ১০–১১ টাকা হলেও বিক্রি করতে হচ্ছে ৫ টাকায়, ফলে শ্রমিকের মজুরিও ঠিকভাবে দেওয়া যাচ্ছে না।

চাষি করিম সিকদার বলেন, জমি প্রস্তুত করেও ন্যায্যমূল্য না পেলে ক্ষতি বাড়ছে। তাই সরকারের হস্তক্ষেপ চান তারা।

এদিকে কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয় জানিয়েছে, লবণচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি সমাধানে কাজ চলছে।

চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত ১৭ লাখ ৫৯ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। আগামী ১৫ মে মৌসুম শেষ হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও কিছুদিন উৎপাদন চলবে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

উৎপাদনে ফিরলেও দাম নিয়ে হতাশ লবণচাষিরা

সংবাদ প্রকাশের সময় : ১২:১২:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

উপকূলীয় এলাকায় তীব্র রোদের সুযোগে আবারও লবণ উৎপাদনে ফিরেছেন প্রায় ৪০ হাজার চাষি। বৈরী আবহাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর লবণ মাঠগুলো পুনরায় প্রস্তুত করা হচ্ছে। কোথাও কালো ত্রিপল বিছানো হচ্ছে, আবার কোথাও লবণাক্ত পানি প্রবেশ করিয়ে উৎপাদনের উপযোগী করা হচ্ছে মাঠ।

চাষিরা জানান, টানা বৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়ায় সম্প্রতি লবণ উৎপাদন বন্ধ ছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৬৮ হাজার একর লবণ মাঠ। এখন আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগামী ৩–৪ দিনের মধ্যেই পুরোদমে উৎপাদন শুরু হওয়ার আশা করছেন তারা।

কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামপুর এলাকার দুই ভাই মোস্তাক আহমদ ও জসিম উদ্দিন জানান, বৈরী আবহাওয়ায় তাদের সাড়ে ৩ একর জমির প্রায় ৫০০ মণ লবণ নষ্ট হয়েছে। এরপরও তারা আবারও মাঠ প্রস্তুত করছেন নতুন উৎপাদনের জন্য।

মোস্তাক আহমদ বলেন, বৃষ্টিতে বড় ক্ষতি হয়েছে, তবে এখন রোদ থাকায় দ্রুত মাঠ প্রস্তুত করছি। আশা করছি কয়েক দিনের মধ্যেই উৎপাদন শুরু হবে।

জসিম উদ্দিন বলেন, এখনই লবণ উৎপাদনের উপযুক্ত সময়, তাই দ্রুত কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।

তবে উৎপাদন শুরু হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় হতাশ চাষিরা। তাদের অভিযোগ, বাজারে প্যাকেটজাত লবণ ৩০–৪০ টাকায় বিক্রি হলেও মাঠ পর্যায়ে তারা পাচ্ছেন মাত্র ৪–৫ টাকা। এতে উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানান তারা।

ইসলামপুরের চাষি শফিকুল ইসলাম বলেন, নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও লবণের দাম বাড়েনি। এতে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

চৌফলদণ্ডীর নবী হোসেন বলেন, খরচ বাড়লেও দাম কমে গেছে, এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে।

ঘোনারপাড়া এলাকার সৈয়দ আলম জানান, উৎপাদন খরচ ১০–১১ টাকা হলেও বিক্রি করতে হচ্ছে ৫ টাকায়, ফলে শ্রমিকের মজুরিও ঠিকভাবে দেওয়া যাচ্ছে না।

চাষি করিম সিকদার বলেন, জমি প্রস্তুত করেও ন্যায্যমূল্য না পেলে ক্ষতি বাড়ছে। তাই সরকারের হস্তক্ষেপ চান তারা।

এদিকে কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয় জানিয়েছে, লবণচাষিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি সমাধানে কাজ চলছে।

চলতি মৌসুমে লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৭ লাখ ১৫ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও এখন পর্যন্ত ১৭ লাখ ৫৯ হাজার মেট্রিক টন উৎপাদন হয়েছে। আগামী ১৫ মে মৌসুম শেষ হলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও কিছুদিন উৎপাদন চলবে বলে জানিয়েছেন চাষিরা।